ব্রাজিল ফুটবলের সমালোচনায় নেইমার

হারের ব্যবধানটা যদি ১ বা ২ গোল হতো, তাহলেও কিছুটা সান্ত্বনা পাওয়া যেত। কিন্তু জার্মানির বিপক্ষে স্বাগতিক ব্রাজিল হেরেছে ৭-১ গোলের বিশাল ব্যবধানে। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচেও সেলেসাওরা হল্যান্ডের বিপক্ষে হেরেছে ৩-০ গোলে। ইনজুরির কারণে দুটি ম্যাচেই দর্শক হয়ে থাকতে হয়েছে নেইমারকে। ব্রাজিলের সমর্থকেরা হয়তো বলতে পারেন যে, নেইমার মাঠে নামতে পারলে ফলাফল ভিন্ন রকমও হতে পারত। কিন্তু খোদ নেইমার বলছেন ভিন্ন কথা। ব্যর্থ বিশ্বকাপ মিশনের পর নেইমার স্বীকারই করে নিয়েছেন যে, ব্রাজিল ইউরোপের দলগুলোর চেয়ে বেশ পিছিয়েই আছে। ব্রাজিলে যেভাবে তরুণ খেলোয়াড়দের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়, তাতেও ত্রুটি-বিচ্যুতি আছে বলে মন্তব্য করেছেন নেইমার।

বিশ্বকাপে হতাশাজনক ফলাফলের পর ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের দুরাবস্থার কথা সবারই স্বীকার করে নেওয়া উচিত বলেই মনে করেন ২২ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড। সম্প্রতি গ্লোবো টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেইমার বলেছেন, ‘আমরা কেঁদেছি। কারণ ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন দেখতাম যে আমরা বিশ্বকাপ জিতব। আর সেটার জন্য আমরা কঠোর পরিশ্রমও করেছি। আমার মনে হয়, জার্মানি আর স্পেনের থেকে পিছিয়েই আছে ব্রাজিলিয়ান ফুটবল। আমরা পিছিয়ে পড়েছি। আর সেটা মেনে নেওয়ার মতো সাহস আমাদের থাকতে হবে।’

ইউরোপিয়ান ফুটবলাররা যতটা মন লাগিয়ে অনুশীলন করেন, ব্রাজিলিয়ানরা তেমনটা করেন না বলেও মন্তব্য করেছেন নেইমার, ‘আপনি অনেক অনুশীলন করছেন, কিন্তু মাঝেমধ্যে সেটা করছেন অনেক কম সংকল্প নিয়ে। ব্রাজিলিয়ানরা এ রকমই।’ ছোটবেলায় ফুটবলারদের যেভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়, তাতেও অনেক ঘাটতি আছে বলে মনে করেন ব্রাজিলের এই তারকা ফরোয়ার্ড, ‘আমিও অনেক কিছু ভুলভাবে শিখেছি। যখন বল আমার বাঁ পায়ে আসত, তখন কোচ বলতেন সেটা ডান পায়ে নিয়ে তারপর শট মারতে। কারণ আমি ডান হাতি। কিন্তু আমার বাবা সেটা শুধরে দিয়েছিলেন। বলেছিলেন যে, না, যদি বল তোমার বাঁ পায়ে আসে, তাহলে তুমি শটটা বাঁ পা দিয়েই নেবে।’

সেমিফাইনালে ৭-১ গোলের বিশাল ব্যবধানে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেওয়ার পর কঠোর সমালোচনার মুখে পড়েছেন ব্রাজিলের কোচ লুইস ফেলিপে স্কলারি। ইতিমধ্যে কোচের পদ থেকে সরেও দাঁড়াতে হয়েছে বিগ ফিলকে। কিন্তু নেইমার স্কলারির কাঁধে দোষ চাপাতে রাজি নন, ‘তিনি ছিলেন আমার দেখা সেরা ব্রাজিলিয়ান কোচ। আমরা সব সময়ই অনুশীলন করেছি। আমরা আমাদের সবকিছুই দিয়েছিলাম।’

বিশ্বকাপের শুরুটা দুর্দান্তভাবে করলেও ইনজুরির কারণে শেষ দুটি ম্যাচ আর খেলা হয়নি নেইমারের। আর মাঠের বাইরে বসে হতাশ হয়েই দেখতে হয়েছে ব্রাজিলের লজ্জাজনক পরাজয়। পরবর্তী বিশ্বকাপ পর্যন্ত এই আফসোস সঙ্গী করেই অপেক্ষা করতে হবে এ সময়ের অন্যতম সেরা এই ফুটবলারকে। তবে ২০১৮ সালেই সব আফসোস-আক্ষেপ ঘুচিয়ে দেওয়ার আশা করছেন নেইমার।

You Might Also Like