হোম » বোয়িং ও এয়ারবাসকে টেক্কা দেবে চীনের ‘কোম্যাক’

বোয়িং ও এয়ারবাসকে টেক্কা দেবে চীনের ‘কোম্যাক’

ঢাকা অফিস- Sunday, May 7th, 2017

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর চীনের স্বদেশি বিমান সি-৯১৯ যাত্রীবাহী বিমান তার প্রথম যাত্রা সম্পন্ন করেছে শুক্রবার। এই বিমানটি একই সঙ্গে উড্ডয়ন সেবার বিশ্ববাজারে চীনের আধিপত্য সৃষ্টি ও বিমান শিল্পে দেশটির স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের সূচনা হিসেবে পরিগণিত হচ্ছে।

‘কমার্শিয়াল এয়ারক্র্যাফ্ট কর্পোরেশন অব চায়না’ (কোম্যাক)-এর হাতে তৈরি এই বিমানের উড্ডয়ন পরীক্ষা উৎপাদনজনিত সমস্যার কারণে ২০১৪ থেকে অন্তত দুবার পিছিয়েছে। সম্ভবত আরো কয়েক বছরের পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তারা স্বদেশ চীন ও আমেরিকা-ইউরোপ থেকে সনদ পাবে।

আগামী দুই দশকে বিমান সেবার বিশ্ববাজারের মূল্যমান দাঁড়াবে ২ লাখ কোটি ডলার। কিন্তু এ মুহূর্তে বাজারটিতে বিক্রয়, প্রযুক্তিগত জ্ঞান ও শেয়ারের উচ্চচাহিদার ক্ষেত্রে বোয়িং ও এয়ারবাস কোম্যাকের চেয়ে বহু দূর এগিয়ে আছে।

চীন আশাবাদী, বোয়িং ও এয়ারবাসের বাজারে ভাগ বসাতে সক্ষম হবে কোম্যাক। এই লোভনীয় কিন্তু সংক্ষিপ্ত বাজারে বিমান সেবার ৫০ শতাংশেরও বেশি দখল করে আছে বোয়িং ও এয়ারবাস।

কোম্যাকের একটি প্রচারমূলক ভিডিওতে শি জিনপিং বলেন, প্রতি বছর তারা কোটি কোটি টাকা খরচ করেন বিদেশ থেকে বিমান কিনতে। তিনি বলেন, চীনের আরও স্বনির্ভরতা প্রয়োজন।

বোয়িং ও এয়ারবাসের একচেটিয়া উড্ডয়ন সেবার বৈশ্বিক বাজারে প্রবেশ করাও কষ্টসাধ্য হবে কোম্যাকের জন্য। সিনোলিংক্স সিকিউরিটিজের বিশ্লেষক সি জিংঝে জানান, বোয়িং বিগত ১০০ বছর ধরে বিমান শিল্পে কাজ করছে। এয়ারবাস আছে গত ৪০ বছর ধরে। তিনি আরো বলেন, কোম্যাক এখনও সরবরাহ প্রক্রিয়ার ব্যবহারিক জ্ঞানের দিক থেকে অনেক পিছিয়ে।

কোম্যাকের আরজে-২১, চীনের প্রথম দেশে নির্মিত বিমান, ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে সনদ পায়। এর ১২ বছর আগে প্রকল্পটি চালু করা হয় এবং ছয় বছর পর প্রথম সফল উড্ডয়ন সম্পন্ন করা হয়। মাত্র গত বছর বিমানটির প্রথম যাত্রীবাহী ফ্লাইট চালু করেছে।

চীন এখন ইউরোপীয় ও মার্কিন উড্ডয়ন নিয়ন্ত্রকদের কাছ থেকে নিজেদের সনদায়নের বৈশ্বিক স্বীকৃতি পাওয়ার চেষ্টা করছে। কারণ এখন পর্যন্ত মাত্র অল্পকিছু দেশেই তাদের সদনায়নের গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে।

অবশ্য কোম্যাক ইতিমধ্যে সি-৯১৯ ছাড়িয়ে আরও সুদূর প্রসারী চিন্তাভাবনা করা শুরু করেছে। রাশিয়ার সহযোগিতায় বৃহদাকৃতির দীর্ঘ যাত্রায় সক্ষম জেট নির্মাণের স্বপ্ন দেখছে তারা। গত নভেম্বরে ‘ইউনাইটেড এয়ার কর্পোরেশন’ (ইউএসি)-এর সঙ্গে যৌথভাবে বৈশ্বিক সরবরাহকারী খোঁজার অভিযানে নামার ঘোষণা দেয় কোম্যাক।