বোমা হামলাকারীদের চাপা দিতে গিয়ে বাস খাদে,চালককে পুরস্কার

ঝালকাঠির রাজাপুরে বোমা হামলাকারীদের চাপা দিতে গিয়ে খাদে পড়ে গেছে ঈগল পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস। এতে বাসের কোনো যাত্রী গুরুতর আহত হননি। ঘটনাস্থল থেকে আহত অবস্থায় উপজেলা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার রাতে মঠবাড়ি-বরিশাল আঞ্চলিক মহাসড়কের উপজেলার বলাইবাড়ির খোন্নার বাড়ি ব্রিজ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
শনিবার দুপুরে ঝালকাঠি পুলিশ সুপার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে ঘটনার আদ্যোপান্ত জানানো হয়। সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে পেট্রোলবোমার বিভীষিকা থেকে যাত্রীদের রক্ষা করার জন্য পুলিশ সুপারের পক্ষ থেকে বাসচালক আসাদ হোসেনকে ১০ হাজার টাকা পুরস্কার দেয়া হয়।
পুলিশ ও ঈগল পরিবহন সূত্র জানায়, পুলিশ পাহারায় মঠবাড়ি-বরিশাল আঞ্চলিক মহাসড়ক দিয়ে সারিবদ্ধভাবে বেশ কিছু যানবাহন যাচ্ছিলো। জনা তিরিশেক যাত্রী নিয়ে সারির শেষে ছিল ঈগল পরিবহনের একটি বাস। বাসটিতে পেট্রোলবোমা নিক্ষেপের চেষ্টা চালায় নাশকতাকারীরা। বাসচালক তখন বোমা থেকে যাত্রীদের রক্ষার্থে হামলাকারীদের চাপা দেয়ার চেষ্টা করেন। এসময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের একটি তালগাছে ধাক্কা খেয়ে বাসটি খাদে পড়ে যায়। বাসে থাকা যাত্রীদের মধ্যে কয়েকজন আঘাতপ্রাপ্ত হলেও গুরুতর আহত হয়নি কেউ। তবে দুর্ঘটনায় বাসের সামনের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
রাজাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদুজ্জামান বলেন, ‘ঘটনাস্থল থেকে বাস চাপায় আহত উপজেলা শিবিরের সভাপতি তাজ উদ্দিনকে (২৩) গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ পাহারায় রাজাপুর স্বাস্থ্য কেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তাজ উদ্দিনের তথ্যের ভিত্তিতে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হয় আরো ৯ জনকে। এদের বিরুদ্ধে রাজাপুর থানায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করেছে।’
ওসি মাসুদুজ্জামান আরো জানান, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে হাজির হন ঝালকাঠির জেলা প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন, পুলিশ সুপার মজিদ আলী, রাজাপুরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ প্রশাসনের শীর্ষ ব্যক্তিরা। ঝালকাঠি ও ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে যাত্রী ও যাত্রীদের মালপত্র উদ্ধারে সহায়তা করে। জেলা প্রশাসক তাৎক্ষণিকভাবে দুর্ঘটনাকবলিত যাত্রীদের রাজাপুর ডাকবাংলোতে থাকার ব্যবস্থাও করেন।
আজ সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মজিদ আলী বলেন, ‘এসএসসি পরীক্ষা বানচাল ও নাশকতার জন্য উপজেলার বিভিন্ন পয়েন্টে হামলার পরিকল্পনা ছিল গ্রেফতারকৃতদের।’
উপজেলা শিবির সভাপতি তাজ উদ্দিনের তথ্য অনুযায়ী গ্রেফতার হওয়া বাকি ৯ জন হলেন- তাজ উদ্দিনের বোন উপজেলা জামায়াত সেক্রেটারি হেমায়েত উদ্দিনের স্ত্রী মরিয়ম বেগম (৩৭), বৈকর্তখালি গ্রামের আবু বক্কর রাঢ়ীর ছেলে শিবির কর্মী বশির (২৩), ছত্তরকান্দা গ্রামের ক্বারী মো. আলী সিকদারের ছেলে শিবির কর্মী ফতে আলী (২৫), সদর উপজেলার বীরপাশা গ্রামের মৃত রফেজ উদ্দিন তালুকদারের ছেলে শিবির কর্মী ইলিয়াস তালুকদার (২৮), পিংড়ি গ্রামের মৃত আব্দুস সামাদ খানের ছেলে জামায়াত কর্মী ইমাম হোসেন (৩৫), জামায়ত কর্মী শাহ জালাল (৩৫), জগাইরহাট গ্রামের হানিফ মোল্লার ছেলে শিবির কর্মী মনিরুজ্জামান শাহিন (২২), গিঘড়া গ্রামের আব্দুল আজিজের ছেলে জামায়াত কর্মী মাহমুদুল্লাহ (৩৪) ও সাইফুল্লার ছেলে শিবির কর্মী সায়েম (১৮)।

You Might Also Like