বেসরকারি শিক্ষকদের অবসর-সুবিধা দিতে রুল

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের অবসরকালীন সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। মঙ্গলবার বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি কৃঞ্চা দেবনাথের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ নির্দেশ দেন।

একই সঙ্গে তাদের অবসরকালীন সুযোগ-সুবিধা দিতে বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, রুলে তা জানতে চাওয়া হয়েছে।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল সমরেন্দ্র নাথ বিশ্বাস।

মনজিল মোরসেদ বলেন, আদালত রুল জারির পাশাপাশি অবসরে যাওয়ার ছয় মাস পরও যেসব শিক্ষক সুযোগ-সুবিধা (ভাতাদি) পাননি তাদের সংখ্যা ও বেসকারি শিক্ষকদের অবসরকালীন সুযোগ-সুবিধা সংক্রান্ত ফান্ডে কত টাকা আছে তা জানতে চাওয়া হয়েছে।

আগামী তিন মাসের মধ্যে বেসরকারি শিক্ষকদের অবসরকালীন সুযোগ-সুবিধা সংক্রান্ত বোর্ডের (বেনবেইজ) সদস্য সচিব, এ সংক্রান্ত ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যকে বিষয়টি আদালতকে জানাতে হবে।

এ ছাড়া আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, অর্থসচিব, শিক্ষাসচিবসহ সংশ্লিষ্ট ১৫ জনকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

মনজিল মোরসেদ জানান, গত ১৭ অক্টোবর একটি জাতীয় দৈনিকে ‘জীবনসায়াহ্নে ৭৬ হাজার শিক্ষকের আহাজারি’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ১৭ অক্টোবর সংশ্লিষ্টদের প্রতি লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়। ওই নোটিশের জবাব না পেয়ে জনস্বার্থে একটি রিট আবেদন করেন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ। রিটে পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন সংযুক্ত করা হয়।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, সারা জীবন শিক্ষকতা করে অবসর গ্রহণের পর জীবনসায়াহ্নে এসে প্রায় ৭৬ হাজার শিক্ষক আহাজারি করছেন কল্যাণ ট্রাস্ট ও অবসর সুবিধার অর্থ না পেয়ে। শিক্ষকদের এমপিওর (মান্থলি পে অর্ডার) ২ শতাংশ অর্থ কেটে রাখা হয় বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট তহবিলে। আর ৪ শতাংশ কেটে রাখা হয় অবসর সুবিধা বোর্ড তহবিলে। মাসিক বেতনের অংশ থেকে কেটে রাখা অর্থ এই খাতে জমা রাখলেও চাকরি শেষে তা পাওয়ার জন্য পোহাতে হচ্ছে অশেষ ভোগান্তি।

You Might Also Like