হোম » খালেদা জিয়ার আপিল ও জামিন আবেদন করা হবে রোববার

খালেদা জিয়ার আপিল ও জামিন আবেদন করা হবে রোববার

ঢাকা অফিস- Saturday, February 10th, 2018

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের প্রক্রিয়া রোববার থেকে শুরু করা হবে বলে জানিয়েছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের রায় পেয়ে গত বৃহস্পতিবার থেকে পুরান ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডে অবস্থিত সাবেক কেন্দ্রীয় কারাগারে আছেন বেগম খালেদা জিয়া। কারাবন্দী হওয়ার পরপরই তার সাজার বিরুদ্ধে আপিলের কথা জানিয়েছিলেন আইনজীবীরা। এই মুহূর্তে তারা কাজ করছেন সেই প্রক্রিয়া নিয়ে। দুই-একদিনের মধ্যে করা হবে আপিল ও জামিন আবেদন। সে সময় খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে কী কী বিষয় উপস্থাপন করা হবে, তা জানিয়েছেন তার আইনজীবীরা। আইনজীবীরা জানান, আপিলে কোন কোন বিষয় বিবেচনায় আনা হবে, তা ঠিক করতে একটি আইনজীবী প্যানেলও গঠন করা হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবীরা এ কাজটি করছেন। রয়েছেন একদল তরুণ আইনজীবীও। কাজ করছেন দিন-রাত। চলছে ড্রাফটিং। রায়ের সার্টিফাইড কপি হাতে পাওয়ার পরই জামিন আবেদন (বেইল-পিটিশন) হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় দাখিল করা হবে। শনিবার বিকেল পর্যন্ত রায়ের সার্টিফাইড কপি হাতে পাননি খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা।

আপিল আবেদনে খালেদা জিয়ার বয়স বিবেচনা, সামাজিক অবস্থান মূল্যায়নের কথা বলা হবে। তাকে জামিন দিলে তিনি দেশের বাইরে পালিয়ে যাবেন না। কারণ তিনি এ দেশের তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী। এ যুক্তিটি আবেদনে তুলে ধরা হবে। খালেদা জিয়া বৃহত্তর একটি রাজনৈতিক দলের প্রধান। সে বিষয়টি বিবেচনায় নিতে আদালতের কাছে অনুরোধ করা হবে।

এই মামলায় বেগম খালেদা জিয়ার েএকজন আইনজীবী বলেন, ‘জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় দণ্ডবিধির ৪০৯ ধারায় সাজা দেওয়া হয়েছে। এটি এ মামলার রায়ে একটি বড় অসঙ্গতি। সেই বিষয়টি তুলে ধরা হবে জামিন আবেদনে। জামিন ও আপিল আবেদনের জন্য বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথের আদালতে শুনানি করতে পরামর্শ দিয়েছি।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার বকশীবাজার আলিয়া মাদ্রাসাসংলগ্ন প্যা‌রেড মা‌ঠে অবস্থিত বিশেষ জজ আদালতের বিচারক ড. আখতারুজ্জামান জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে খালেদা জিয়ার পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দেন আদালত। এ ছাড়া বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ বাকি পাঁচ আসামির প্রত্যেককে ১০ বছর করে কারাদণ্ড ও দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। রায়ের দিনই বেলা পৌনে তিনটার দিকে পুরান ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডে অবস্থিত সাবেক কেন্দ্রীয় কারাগারে নেওয়া হয় তাকে।

এর আগে ২০০৯ সালের ৫ আগস্ট তদন্ত শেষে দুর্নীতির অভিযোগে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, তার জ্যেষ্ঠ সন্তান তারেক রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ঢাকার বিশেষ জজ আদালত (স্পেশাল কোর্ট)-৫ এর বিচারক ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ আদালত খালেদা জিয়াসহ ছয় আসামির বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯, ১০৯ ও দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় অভিযোগ গঠন করেন।

দণ্ডবিধির ৪০৯ ধারায় বলা হয়েছে, ‘যে ব্যক্তি তার সরকারি কর্মচারীজনিত ক্ষমতার বা একজন ব্যাংকার, বণিক, আড়তদার, দালাল, অ্যাটর্নি হিসেবে তার ব্যবসায় যেকোনো প্রকারের কোনো সম্পত্তি বা কোনো সম্পত্তির ওপর আধিপত্যের ভারপ্রাপ্ত হয়ে সম্পত্তি সম্পর্কে অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ করেন, সেই ব্যক্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে বা দশ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন।’

আর দুর্নীতি দমন আইনের ৫(২)-এ বলা হয়েছে, ‘কোনো সরকারি কর্মচারী অপরাধমূলক অসদাচরণ করিলে বা করার উদ্যোগ গ্রহণ করিলে তিনি সাত বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড অথবা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের যোগ্য হবেন। অপরাধমূলক অসদাচরণ সংশ্লিষ্ট অর্থিক সম্পদ অথবা সম্পত্তি রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত হবে।’দণ্ডবিধির ৪০৯ ধারার কথা উল্লেখ করে আইনজীবী সগীর হোসেন লিওন বলেন, ‘আদালত রায় দেওয়ার ক্ষেত্রে আইনি অসংগতি করেছে। এই পয়েন্টগুলো আমরা আদালতে তুলে ধরব।’সূত্র: প্রিয়ডটকম।