বেগমগঞ্জে মাদ্রাসাছাত্রকে বলাৎকার, গ্রেফতার ২

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলায় সেই একলাশপুর ইউনিয়নে এবার (৮) বছর বয়সী এক শিশু শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দুই কিশোরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

রোববার দিবাগত রাত ২টার দিকে পৃথক পৃথক স্থানে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত দুই কিশোরকে গ্রেফতার করা হয়।

এর আগে সন্ধ্যায় এ ঘটনায় নির্যাতিত শিশুর বাবা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা করেছেন, যার মামলা নং-৪৭, তারিখ: ২৬-১০-২০২০।

বেগমগঞ্জ থানা পুলিশ সূত্র জানায়, উপজেলার একলাশপুর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের হাফেজ মহিউদ্দিন (রহ.) তাহফিজুল কোরআন হাফেজিয়া মাদ্রাসায় শিশুটি বালৎকারের শিকার হয়। সে ওই মাদ্রাসার ছাত্র ছিল।

নোয়াখালী পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের কাজী কলোনি থেকে সিফাতকে (১২) আটক করে। সে কাজী কলোনির সফি মিয়ার ছেলে এবং হাফেজ মহিউদ্দিন (রহ.) তাহফিজুল কোরআন হাফেজিয়া মাদ্রাসার হেফজ বিভাগের ছাত্র ছিল।

অন্যদিকে উপজেলার একলাশপুর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের একলাশপুর গ্রামের মুন্সিবাড়ি থেকে হাসানকে (১১) আটক করে পুলিশ। সে একই গ্রামের মুন্সিবাড়ির মৃত অলিউল্লাহর ছেলে।

মামলার বাদী ও নির্যাতিত শিশুর বাবা জানান, কোরআনে হাফেজ করার উদ্দেশ্যে ছেলেকে এক বছর আগে আবাসিক ছাত্র হিসেবে ভর্তি করায়। তিনি গত ২৩ অক্টোবর ছেলের সঙ্গে দেখা করতে মাদ্রাসায় যান। এ সময় শিশুটি তার বাবাকে গোপনে জানায়, হেফজ বিভাগের শিক্ষার্থী সিফাত ও হাসান দীর্ঘদিন থেকে বেশ কয়েকবার তাকে বলাৎকার করে আসছে।

মাদ্রাসার বড় হুজুরকে এ বিষয়ে শিশুটি জানালে এ ঘটনা কাউকে না জানাতে শিশুটিকে হুমকি দেয়। এমনকি ওই ঘটনার পর শিশুটি অসুস্থ হলেও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ তাকে কোনো ধরনের চিকিৎসার ব্যবস্থা নেয়নি।

পরে রোববার সন্ধ্যার দিকে এ বিষয়ে পুলিশকে মৌখিকভাবে অভিযোগ দিলে পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত দুই কিশোরকে আটক করে।

বেগমগঞ্জ থানার ওসি মুহাম্মদ কামরুজ্জামান সিকদার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছে।

তিনি বলেন, রোববার সন্ধ্যার দিকে অভিযোগ পেলে পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত দুই আসামিকে গ্রেফতার করে। এ ঘটনায় নির্যাতিত শিশুর বাবা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা করেন।

এ মামলায় গ্রেফতার দুই আসামিকে সোমবার নোয়াখালীর সিনিয়র জুডিশিয়াল আদালতে চালান করা হবে বলে থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) জানান।