বুসান আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে ‘নোনাজলের কাব্য’

তরুণ নির্মাতা রেজওয়ান শাহরিয়ার সুমিত পরিচালিত চলচ্চিত্র ‘নোনাজলের কাব্য’। ২৫তম বুসান আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে স্থান করে নিয়েছে এটি।

বুসান আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব (বিআইএফএফ) প্রতি বছর দক্ষিণ কোরিয়ার বুসান শহরে অনুষ্ঠিত হয়। বর্তমানে এই চলচ্চিত্র উৎসব এশিয়ার সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ও বৃহত্তম চলচ্চিত্র উৎসব হিসেবে বিবেচিত।

নির্মাতা রেজওয়ান শাহরিয়ার সুমিত বলেন, “এটি আমার প্রথম সিনেমা। চিত্রনাট্যের প্রথম খসড়া লিখেছি পাঁচ বছর আগে। পটুয়াখালীর প্রত্যন্ত এক চরে ১৫-২০ ঘর জেলের বসবাস। সেই জেলেপাড়ায় হঠাৎ এক ভাস্করের আগমন এবং তাকে ঘিরে গ্রামবাসীর জল্পনা কল্পনা, ভালো লাগা এবং পরিশেষে সংঘাত— এই নিয়েই ‘নোনাজলের কাব্য’র গল্প। এর নির্মাণ কাজটি ভীষণ কঠিন ছিল। প্রাকৃতিক দুর্যোগ ছাড়াও নানা বাধা এসেছে। করোনা মহামারি ও লকডাউন এর মধ্যে অন্যতম।”

বুসান চলচ্চিত্র উৎসবে ‘অফিশিয়াল সিলেকশন’ পাওয়া বাংলাদেশের একমাত্র পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘নোনাজলের কাব্য’। এছাড়া এই উৎসবে জায়গা করে নিয়েছে স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘ট্রানসিট’। উৎসবের সিনেমা সেন্টার-এ প্রদর্শিত হবে ‘নোনাজলের কাব্য’। চৈতন্য তামহানের ‘দ্য ডিসাইপেল’এবং ইভান আয়ারের ‘মাইলস্টোন’র মতো প্রশংসিত সিনেমার পাশাপাশি এটি প্রদর্শন হবে।

এছাড়া ৬৪তম বিএফআই লন্ডন ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে প্রদর্শনের জন্যও নির্বাচিত হয়েছে সিনেমাটি। চলতি বছর সারা বিশ্ব থেকে মাত্র ৫৮টি সিনেমা ‘ফিচার ফিল্ম’ বিভাগে জায়গা করে নিয়েছে। এটি একজন তরুণ নির্মাতার জন্য অনেক বড় পাওয়া বলে মনে করেন রেজওয়ান।

তিনি বলেন, ‘ ২০২০-এর এই বৈরী পরিবেশে দু’দুটো বিশ্বমানের চলচ্চিত্র উৎসবে স্থান করে নিতে পারাতে আমার পুরো টিম খুবই আনন্দিত। আন্তর্জাতিক মিডিয়া ও ফিল্মসংশ্লিষ্ট বিশ্বের সেরা মানুষগুলোর নজর থাকে এই উৎসবগুলোতে। সব মিলিয়ে আমি মনে করি এটি আমার মতো একজন তরুন নির্মাতার জন্য একটি বড় পাওয়া। আশা করছি ২০২১ সালের শুরুর দিকেই বাংলাদেশের দর্শক সিনেমাটি দেখতে পাবে। তবে তার আগে করোনা পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হতে হবে।’

বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের যৌথ প্রযোজনার নির্মিত ‘নোনাজলের কাব্য’। সিনেমাটির বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন— ফজলুর রহমান বাবু, তিতাস জিয়া, তাসনুভা তামান্না, শতাব্দী ওয়াদুদ, অশোক ব্যাপারী, আমিনুর রহমান মুকুল প্রমুখ। সিনেমাটির গানের সুর করেছেন অর্ণব।