বুধবার জামায়াতের হরতাল, রাজধানীতে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ

জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মীর কাসেম আলীর মৃত্যুদণ্ড সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে বহাল হওয়ার প্রতিবাদে আগামীকাল (বুধবার) দেশব্যাপী হরতালের ডাক দেয়া হয়েছে।

আজ (মঙ্গলবার) সকালে রায় ঘোষণার পর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত আমির মকবুল আহমাদ এক বিবৃতিতে এ হরতালের ডাক দেন। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “সরকার ষড়যন্ত্র করে পরিকল্পিতভাবে জামায়াত নেতৃবৃন্দকে একের পর এক হত্যা করছে। সরকারী ষড়যন্ত্রের শিকার মীর কাসেম আলী। সরকার মিথ্যা, বায়বীয় ও কাল্পনিক অভিযোগে মীর কাসেম আলীর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক মামলা দায়ের করে নিজেদের দলীয় লোকদের দ্বারা আদালতে মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ায়ে তাকে দুনিয়া থেকে বিদায় করার ষড়যন্ত্র করছে।”

বিবৃতিতে বলা হয়, “মাননীয় আদালত সরকারের দায়ের করা মিথ্যা মামলায় সাজানো সাক্ষীর ভিত্তিতে আজ তার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের যে রায় ঘোষণা করেছেন তা একটি ন্যায়ভ্রষ্ট রায়। এ রায়ে মীর কাসেম আলী ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। এ রায়ের বিরুদ্ধে তিনি রিভিউ আবেদন করবেন। ন্যায়বিচার নিশ্চিত হলে তিনি খালাস পাবেন বলে আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।”

বিবৃতিতে ‘মীর কাসেম আলীকে হত্যার সরকারী ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে ও তার মুক্তির দাবিতে’ ৯ মার্চ বুধবার সারা দেশব্যাপী সকাল-সন্ধ্যা শান্তিপূর্ণ হরতাল কর্মসূচি ঘোষণা করেন মকবুল আহমাদ। অ্যাম্বুলেন্স, লাশবাহী গাড়ী, হাসপাতাল, ফায়ার সার্ভিস ও সংবাদপত্রের সাথে সংশ্লিষ্ট গাড়ি হরতালের আওতামুক্ত থাকবে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

এদিকে, মীর কাসেম আলীর ফাঁসির রায় দণ্ডাদেশের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় রাজধানীর মিরপুর, বড় মগবাজার, মৌচাকে উত্তরা ও নয়াপল্টনে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে জামায়াতে ইসলামী।

বিক্ষোভ মিছিলকে কেন্দ্র করে দুপুর সাড়ে ১২টায় মগবাজার ও মৌচাকের মাঝামাঝি এলাকার সুধী সমাজ গলিতে পুলিশের সঙ্গে জামায়াত-শিবিরের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশের শর্টগানের গুলিকে সুমন (২১) নামে এক জামায়াত কর্মী আহত হয়েছেন। তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়েছে।

রমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মশিউর রহমান বলেন, মীর কাসেম আলীর আপিল মামলার রায়ে সুপ্রিম কোর্ট মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখার প্রতিবাদে বেলা সাড়ে ১২টায় মগবাজার এলাকায় জামায়াত-শিবির কর্মীরা ঝটিকা মিছিল বের করে। পুলিশ মিছিলের দিকে এগিয়ে গেলে তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়ে। এ সময় পুলিশ শর্টগানের গুলি ছুড়লে জামায়াত কর্মী সুমন আহত হন। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতালে তাকে কড়া প্রহরায় রাখা হয়েছে।

You Might Also Like