বিশ্বে দুর্নীতির কারণে প্রতিবছর মারা যায় ৩৬ লাখ মানুষ

দুর্নীতিই দারিদ্র্যতার মূল কারণ। আর দারিদ্র্যের কারণেই বিশ্বে বিভিন্ন দেশে প্রতিবছর মারা যাচ্ছেন প্রায় দরিদ্র ৩৬ লাখ মানুষ। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি দারিদ্র্য দূরীকরণ সংস্থার হিসাব মতে দরিদ্র দেশগুলো থেকে প্রতিবছর প্রায় ১ লাখ কোটি ডলার দুর্নীতির মাধ্যমে তুলে নেয়া হয় এবং দুর্নীতির কারণে এই বিপুলসংখ্যক হতভাগ্য মানুষ মৃত্যুর শিকার হয়।

সংস্থাটি তাদের এক প্রতিবেদনে জানায়, দূর্নীতি ও অপরাধ চরম পর্যায়ের দারিদ্র্য মোকাবেলায় দুই দশকের অগ্রগতিকে হুমকির মুখে ফেলেছে। নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানের নামে অর্থ লুট ও মুদ্রা পাচারও এসব দুর্নীতির মধ্যে রয়েছে। কোন পদক্ষেপ না নিয়ে গোপনীয়তা রক্ষা করায় এসব দুর্নীতি আরো শক্তিশালী হয়েছে। সংস্থাটির একটি দলের হিসেবে দেখা গেছে, যদি স্বাস্থ্য খাতের বরাদ্দ অর্থ দুর্নীতি থেকে বাঁচানো যেত, তাহলে নিম্ন আয়ের দেশগুলোতে অনেক মৃত্যুই ঠেকানো যেত। প্রতিবেদনে বলা হয়, দুর্নীতি দরিদ্র দেশগুলোতে রোগ প্রতিরোধ ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় ক্ষতিকর প্রভাব ফেলছে। সংস্থার একজন বিষয়টিকে ‘ট্রিলিয়ন ডলার স্ক্যান্ডাল’ নামে অভিহিত করেছেন। দুর্নীতি ব্যক্তি খাতের বিনিয়োগে বাধা, অর্থনৈতিক প্রবৃত্তি কমিয়ে দেয়া, ব্যবসায় খরচ বৃদ্ধি এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি করে।

প্রতিবেদনে বলা হয়। কিন্তু উন্নয়নশীল দেশগুলোতে দুর্নীতি যেন ঘাতক হিসেবে আবির্ভূত হয়, যেখানে ওই দেশের সরকার স্বাস্থ্যসেবা, খাদ্য নিরাপত্তা অথবা প্রয়োজনীয় অবকাঠামোতে নিজেদের সম্পদ বিনিয়োগ থেকে বঞ্চিত হয় এবং এর মূল্য দিতে হয় শিশুসহ বহু মানুষের প্রাণহানীর মধ্য দিয়ে। যদি সাহারা অধ্যুষিত আফ্রিকান দেশগুলোর দুর্নীতি সম্পূর্ণভাবে নির্মূল করা যেত তাহলে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হতো বলে প্রতিবেদনে দেখানো হয়। সেগুলো হলো আরো বাড়তি এক কোটি ছেলে-মেয়েকে প্রতিবছর শিক্ষার আওতায় আনা। আরো পাঁচ লাখ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষককে বেতন দেয়া।

এক কোটি ১০ লাখের বেশি এইচআইভি আক্রান্তকে প্রতিষেধক দেয়া। নভেম্বরে অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠেয় জি-২০ নেতাদের বৈঠকে দুর্নীতি প্রতিরোধে কিছু পদক্ষেপ নেয়ার ওপর জোর দেন সংস্থাটির এক গবেষক। এরমধ্যে রয়েছে কোন কোম্পানির মালিকানার তথ্য সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত রাখা, পাচার করা অর্থ ব্যবহার প্রতিরোধে একটি ট্রাস্ট গঠন এবং অপরাধীদের পরিচয় প্রকাশ করা। কোন দেশের তেল, গ্যাস ও খনিখাতের প্রাকৃতিক সম্পদ ‘অন্য কারো দ্বারা চুরি’ প্রতিরোধে ‘বাধ্যতামূলক প্রাথমিক প্রতিবেদন আইন’ প্রণয়নের পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি। উন্নয়নশীল দেশগুলোতে কর ফাঁকির জন্য ব্যবস্থা নেয়া এবং প্রয়োজনীয় সেবাদানে জনগণের কাছে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে আরো জবাবদিহিমূলক সরকার গঠনের পরামর্শ দেয়া হয় তাদের প্রতিবেদনে।

You Might Also Like