বিশ্বের প্রথম গগনচুম্বী নগর

ইউরোপ-আমেরিকায় নয়, বিশ্বের প্রথম গগনচুম্বী নগরটি গড়ে ওঠে আরব উপদ্বীপে। এর নাম শিবাম। বয়স দেড় হাজার বছরের বেশি। বর্তমান ইয়েমেনে এর অবস্থান। কঠোর খাড়া-উল্লম্ব-ঊর্ধ্বাধ নির্মাণনীতির ওপর ভিত্তি করে এখানকার নগর পরিকল্পনা করা হয়। শিবাম নগর পরিকল্পনা একটি ব্যতিক্রমধর্মী উদাহরণ। কিন্তু এতে কোনো সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়নি। পুরনো শিবাম নগরীকে কিছু ঐতিহাসিক ও নগরবিদ মরুভূমির শিকাগো বা মরুভূমির ম্যানহাটান হিসেবে অভিহিত করেন। অনেকের মতে এটি ভুল। বরং আমেরিকার শহর দু’টিকে বলা উচিত আমেরিকার শিবাম। কারণ বয়স ও ঐতিহ্যে শিবামের তুলনায় শিকাগো ও ম্যানহাটান যেন শিশু।

আরবের দেয়ালঘেরা পুরনো এই নগর নির্মাণ করা হয় ছোট এক পাহাড়ের ওপর। প্রায় ১৭০০ বছর ধরে নগরটির অস্তিত্ব রয়েছে। এখানকার দালানগুলোর সবই কাঁচা ইটের তৈরি। এগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রায় ৫০০ বুরুজ-বাড়ি (টাওয়ার হাউজ)। পাঁচ থেকে এগারো তলাবিশিষ্ট বাড়িগুলো এক অপার বিস্ময়। এখানে যখন উঁচু বাড়িগুলো নির্মাণ করা হয় তখন বিশ্বের কোথাও আর এ ধরনের উঁচু বাড়ি ছিল না। তখনকার দিনে এগুলোই ছিল বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু বাড়ি। তাই শিবাম বিশ্বের প্রথম গগনচুম্বী নগর। এখানকার বাড়িগুলোর প্রতি তলায় রয়েছে একটি বা দু’টি করে অ্যাপার্টমেন্ট। বেদুইনদের আক্রমণ থেকে বাসিন্দাদের রক্ষা করার জন্য ভবনগুলোয় বিশেষ কৌশল গ্রহণ করা হয়।

শাবুয়া ধ্বংস হওয়ার পর ৩০০ সালে শিবাম এ এলাকার রাজধানী হয়। এর পরিকল্পনা অসম চতুর্ভুজের মতো; প্রায় আয়তক্ষেত্রাকার। শিবামের হৃদয়গ্রাহী স্থাপনাগুলোর বেশির ভাগ অংশ ১৬ শতকের। ১৫৩২-৩৩ সালের ভয়াবহ বন্যায় নগরটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়াই এর কারণ।

এ বন্যার ক্ষতির পরেও ইসলামের প্রথম শতকগুলোর কিছু পুরনো ও বড় ভবন এখনো দাঁড়িয়ে আছে। এগুলোর মধ্যে ৯০৪ সালের মসজিদ এবং ১২২০ সালের দুর্গের কথা বলা যায়।

শিবামে রয়েছে মসজিদ, দু’টি প্রাচীন সুলতানের প্রাসাদ, বৃহদাকার দরজা এবং ৫০০-এর বেশি ভবন।

১৯৮২ সালে শিবামের পুরনো দেয়ালঘেরা নগর বিশ্ব ঐতিহ্য স্থানের মর্যাদায় ভূষিত হয়। বিশ্বসভ্যতায় নগরটি অনন্য। তথ্যসূত্র : ওয়েবসাইট

You Might Also Like