বিশ্বসেরা ভাষণের তালিকায় ৭ মার্চ

গত আড়াই হাজার বছরের ইতিহাসে বিশ্বসেরা ৪১টি ভাষণের মধ্যে স্থান করে নিয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১৯৭১ সালের ৭ মার্চের ভাষণ। ওই ভাষণে তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও বাঙালির মুক্তির ডাক দিয়েছিলেন। বলেছিলেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’।

সময়ের সেরা ও আলোচিত এই ৪১টি ভাষণ সম্প্রতি ‘উই শ্যাল ফাইট অন দ্য বিচেস’-দ্য স্পিচেস দ্যাট ইন্সপায়ার্ড হিস্ট্রি’ নামে একটি বইয়ে সঙ্কলিত হয়েছে। গ্রন্থের নামের প্রথম অংশটি উইনস্টন চার্চিলের যুদ্ধকালীন একটি বিখ্যাত ভাষণের উক্তি। গত বছর ব্রিটেনে মাইকেল ওমারা বুকস লিমিটেডের প্রকাশিত

বৃহত্ সঙ্কলনটিতে পিরিক্লিসের খ্রিস্টপূর্ব ৪৩১ সালের একটি ভাষণ থেকে সর্বশেষ ১৯৮৭ খ্রিস্টাব্দে রোনাল্ড রিগ্যানের একটি ভাষণ আছে অন্যদের মধ্যে আছেন আলেকজান্ডার দ্য গ্রেট, জুলিয়াস সিজার, জেমস ফ্রান্সিস এডওয়ার্ড স্টুয়ার্ট, জর্জ ওয়াশিংটন, নেপোলীয় বোনাপার্তে, অটো ফন বিসমার্ক, আব্রাহাম লিঙ্কন, ভ্লাদিমির লেনিন, অ্যাডলফ হিটলার প্রমুখ। ২২৩ পৃষ্ঠার সঙ্কলন সম্পাদনা করেছেন ইংরেজ ইতিহাসবিদ ও লেখক জ্যাকব এফ ফিল্ড।

বঙ্গবন্ধুর ভাষণটির শিরোনাম দেওয়া হয়েছে ‘দ্য স্ট্রাগল দিস টাইম ইজ দ্য স্ট্রাগল ফর ইন্ডিপেন্ডেন্স’।

বইটি সম্পর্কে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান বলেন, বঙ্গবন্ধুর বিশ্বসেরা ভাষণের বিষয়টি এতদিন আমরা বলে এসেছি, এখন তা বাস্তবায়িত হয়েছে। আন্তর্জাতিকভাবে তা প্রকাশিত হল।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণটি বিশ্বসেরার একটি, এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। তবে বিশ্বসেরা ভাষণ নিয়ে আন্তর্জাতিক কোনো প্রকাশনায় ওই ভাষণ অন্তর্ভুক্ত ছিল না। এই প্রথম আন্তর্জাতিকভাবে বিশ্বসেরা ভাষণগুলোর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হল ৭ মার্চের ভাষণ। এখন আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্বসেরার তালিকায় স্থান পেল বঙ্গবন্ধুর এ ভাষণটি।

এ সম্পর্কে প্রাবন্ধিক ও মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি এবং গবেষক মফিদুল হক বলেন, সেরা ভাষণ নিয়ে অনেক বই রয়েছে। বঙ্গবন্ধুর ভাষণ বিশ্বসেরার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে কোনো প্রকাশনা আগে পাইনি। এই প্রথম সেরাদের তালিকায় ছাপানো হল।

১৯৭১ সালের ৭ মার্চ তত্কালীন রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) লাখ লাখ জনতার সামনে ১৭ মিনিটের এক ভাষণ দেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। মূলত এই ভাষণের মধ্য দিয়েই বাঙালি স্বাধীনতা সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ার প্রেরণা ও দিকনির্দেশনা পায় এবং পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর গণহত্যা শুরু হলে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে ছিনিয়ে আনে পরম আরাধ্য স্বাধীনতা।

You Might Also Like