বিশ্বকাপে বাঘের গর্জন শুরু

জয় দিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করল বাংলাদেশ। প্রথমে ব্যাট করে ৬ উইকেটে ৩৩০ রান করে বাংলাদেশ। জবাবে ৮ উইকেটে ৩০৯ রান করে দক্ষিণ আফ্রিকা। ২১ রানে ফাফের দলকে পরাজিত করে দুর্দান্ত শুরু করল মাশরাফি বাহিনী। ম্যান অব দ্যা ম্যাচ হন সাকিব আল হাসান।

বাংলাদেশ যখন ব্যাট করছিল, তখনই কুইন্টন ডি ককের চেহারাটা শুকনো দেখাচ্ছিল। দ. আফ্রিকার ওই ওপেনার শুরুটা ভালো করলেও বেশ নার্ভাসই ছিলেন। আর এতেই রান আউট। বাংলাদেশের প্রথম শিকার তিনি।

মুশফিকের থ্রোতে রান আউট হয়ে বিদায় নেন ডি কক। ৩২ বলের ২৩ রান করেন তিনি। তবে মার্করামকে নিয়ে অধিনায়ক ফাফ ডু প্লেসি শক্ত প্রতিরোধ গড়ছিলেন। ওই জুটি ধীরে ধীরে রানরেট ঠিক রাখার ইঙ্গিত দিচ্ছিলেন। তখনই আঘাত হানেন সাকিব আল হাসান। মার্করামকে বোল্ড করেন তিনি। আর ওই উইকেটটি ছিল ওয়ানডে তে তাঁর২৫০ তম উইকেট। ওই উইকেটের মাধ্যমে রেকর্ডবুকে ঢুকে গেলেন সাকিব। দ্রুততম সময়ে ওয়ানডে তে ৫ হাজার রান ও ২৫০ ইউকেটের মালিক হলেন তিনি।

মার্করাম ফিরে গেলেও বিপদজনক হয়ে উঠছিলেন অধিনায়ক ফাফ। তবে মিরাজের দুর্দান্ত বলে বোল্ড হন তিনি। ৫৩ বলে ৬২ রান করেন তিনি।

মাঠে তখনো ডেভিড মিলার। ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছিলেন। শুরুতে ধীরে ধীরে খেললেও ডুসেনকে নিয়ে রান বাড়াচ্ছিলেন তিনি। মিলার বাংলাদেশের বিপক্ষে কত ভয়ঙ্কর এটা সাইফুদ্দিন ভালো জানেন। তাঁর এক ওভারে পাঁচ ছক্কা মেরেছিলেন তিনি। সেই মিলার স্তম্ভ হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। মুস্তাফিজের মিলার ক্যাচ দিয়েছিলেন। বাউন্ডারিতে দাঁড়িয়ে থাকা মাহমুদুল্লাহর হাত ফসকে তা বেরিয়ে যায়। হতাশায় ডুবে যায় বাংলাদেশ।

তবে বেশিক্ষণ বাংলাদেশকে হতাশায় রাখেননি মুস্তাফিজ। এবার মিলারের ক্যাচটি তালুবন্দি করেন মিরাজ। ৩৮ রান করে প্যাভিলিয়নে ফেরত যান তিনি। পরে ডুমিনিকে নিয়ে লড়াই করে ডুসেন। এক পর্যায়ে ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছিলেন তিনি। পরে অসাধারণ এক বোল্ড করে তাঁকে ফেরত পাঠান সাইফুদ্দিন। ততক্ষণ পর্যন্ত ৫ উইকেট নেই দক্ষিণ আফ্রিকার।

সাইফুদ্দিনের ওই ওভারটিকে ম্যাচের অন্যতম একটি টার্নিং বলা যায়। ওই ওভারে একটি রানও দেননি তিনি। এখানেই থেমে থাকেননি সাইফুদ্দিন। আনদাইলের ক্যাচটি দুর্দান্তভাবে লুফে নেন সাকিব। ষষ্ঠ উইকেটের পতন হয়।

মুস্তাফিজকে চার মারেন মরিস। এরপরই ছক্কা মারতে যান তিনি। বাউন্ডারিতে ক্যাচটি লুফে নেন সৌম্য সরকার।

প্রতিরোধ গড়ে তুলছিলেন ডুমিনি। সাইফুদ্দিনের এক ওভারে ১৫ নিয়ে দুশ্চিন্তায় ফেলে দিয়েছিলেন বাংলাদেশকে। সেই ডুমিনিকে বোল্ড করেন মুস্তাফিজ। তখন ১৭ বলে ৪৪ রান দরকার দক্ষিণ আফ্রিকার।

তখনো দোলাচলে দুলতে থাকা ম্যাচকে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেন মুস্তাফিজ। বিশ্বকাপে নিজের অভিষেক ম্যাচে তিন উইকেট নেন তিনি।

প্রথমে ব্যাট করে ৬ উইকেটে ৩৩০ রান করে বাংলাদেশ। সর্বোচ্চ রান করেন মুশফিক; ৭৮। সাকিব করেন ৭৫ রান। তবে শুরুতে ৪২ রান করে দারুণ সূচনা করেন সৌম্য সরকার। মোসাদ্দেককে নিয়ে ঝড় তোলেন মাহমুদুল্লাহ। মোসাদ্দেক ২৬ রানে আউট হলেও ৪৬ রানে নট আউট ছিলেন মাহমুদুল্লাহ।

You Might Also Like