বিরহের পাঁচ সিনেমা

বলিউড সিনেমার একটি বড় অংশ জুড়ে থাকে প্রেম-ভালোবাসা কিংবা বিরহ। ঐতিহাসিক কোনো ঘটনা কিংবা স্রেফ লেখকের কল্পনা থেকেই বলিউডের পরিচালকেরা নিজস্ব মুন্সিয়ানায় ভালোবাসার দুর্দান্ত সব গল্প তুলে ধরেন দর্শকের সামনে। রুপালি পর্দায় বন্দি এসব গল্পে কখনো নায়ক-নায়িকা ভালোবাসার রঙে ভেসে যান আবার কখনো বিরহের আগুনে পুড়ে নীল হন। চলুন জেনে নেই বলিউডের সেরা বিরহের পাঁচটি সিনেমার কথা।
মুঘল-ই-আজম: ১৯৬০ থেকে ২০১৮। মাঝখানে পেরিয়ে গেছে প্রায় ছয় যুগ। তারপরও এখনো অম্লান মুঘল-ই-আজমের আবেদন। শুধু সেরা প্রেমের সিনেমা হিসেবে নয়, বলিউড ইতিহাসে সর্বকালের সেরা সিনেমার তালিকা করা হলে এর নাম সেখানে থাকবে। পরাক্রমশালী মোগল সম্রাট আকবর পুত্র সেলিমের সঙ্গে রাজপ্রাসাদের নর্তকী আনারকলির বিয়োগান্তক প্রেমকাহিনি নিয়ে নির্মিত এই সিনেমা। নর্তকীর প্রেমে পড়েছেন যুবরাজ। সম্রাজ্ঞী বানাতে চান তাকে। কিন্তু বাধা হয়ে দাঁড়ায় বংশমর্যাদা, সমাজ ও পরিবার। এই তিনের আক্রমণে রচিত হয় এক অসমাপ্ত প্রেমের সমাধি। পরিচালক কে আসিফের পরিচালনায় এই সিনেমার কেন্দ্রীয় তিন চরিত্রে অনবদ্য অভিনয় করেন যথাক্রমে পৃথ্বীরাজ কাপুর, দিলীপ কুমার ও মধুবালা।
সিলসিলা: ত্রিভুজ পরকীয়া প্রেম নিয়ে সিলসিলা সিনেমাটি নির্মাণ করে বলিউডে রীতিমতো আলোড়ন তুলেছিলেন পরিচালক যশ চোপড়া। যশ চোপড়া ঠিক সেই সময় এই সিনেমা নির্মাণ করেন যখন অমিতাভ-রেখার সম্পর্ক নিয়ে বাস্তবে বেশ গুঞ্জন চলছিল। যে রেখার কারণে অমিতাভ-জয়ার দাম্পত্য জীবনে ঝড়ো হাওয়া বইতে শুরু করেছিল সেই রেখা, অমিতাভ এবং জয়া বচ্চন- এই ত্রিমূর্তি নিয়ে জমজমাট বিয়োগান্তক এক প্রেমের গল্প রুপালি পর্দায় তুলে ধরেন এই পরিচালক।

দেবদাস: শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ঐতিহাসিক উপন্যাস ‘দেবদাস’ অবলম্বনে বিভিন্ন সময়ে ভারত-বাংলাদেশ বেশ কিছু চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে। উপন্যাসের সাদা পাতার দেবদাসকে চলচ্চিত্রের রঙিন পর্দায় ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছেন দিলীপ কুমার থেকে উত্তম কুমার, শাহরুখ খান থেকে আমাদের শাকিব খান পর্যন্ত অনেকেই। তবে এগুলোর মধ্যে অন্যতম শাহরুখ খানের দেবদাস। বলিউড বাদশা শাহরুখের সঙ্গে দুই লাস্যময়ী নায়িকা মাধুরী ও ঐশ্বরিয়ার ত্রিভুজ প্রেমের গল্পে সঞ্জয় লীলা বানসালি সিনেমাটি তৈরি করেছিলেন। বলিউডে বিয়োগান্তক প্রেমকাহিনি নিয়ে নির্মিত সিনেমাগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম।
বীর-জারা: রুপালি পর্দায় দুই প্রজন্মের দুই জুটি। একদিকে অমিতাভ বচ্চন-হেমা মালিনী, অন্যপাশে শাহরুখ খান-প্রীতি জিনতা আর পরিচালকের আসনে বসে থাকা সত্তরোর্ধ্ব যশ চোপড়া। এছাড়াও রানী মুখার্জি; মনোজ বাজপায়ী, অনুপম খের আর বোমান ইরানীর মতো তুখোড় অভিনেতাদের সমাহারে ২০০৪ সালে বীর-জারা মুক্তি পায়।

‘বীর-জারা’ একটি ভালোবাসার নাম। সীমান্তের কাঁটাতার পেরিয়ে গিয়েছিল যে ভালোবাসা। ভালোবাসা মানে তো শুধু প্রাপ্তি নয়, অপ্রাপ্তিতেও ভালোবাসা হয়। অনন্ত অপেক্ষাতেও বন্দি প্রকোষ্ঠে ভালোবাসা লুকিয়ে রয়- এই বার্তা যশ চোপড়া জানিয়েছেন এই সিনেমার মাধ্যমে।
তেরে নাম: সালমান খান। শিল্পের চেয়ে যিনি ধুমধারাক্কা সিনেমা করতেই বেশি আগ্রহী। তবে ‘তেরে নাম’ ছিল সালমানের ক্যারিয়ারের গ্রাফ পাল্টানো সিনেমা। ২০০৩ সালে মুক্তি পাওয়া এই সিনেমা দিয়েই তিনি বুঝিয়ে দিয়েছিলেন অ্যাকশনের পাশাপাশি রোমান্টিক চরিত্রে কারো চেয়ে কম যান না। একটি বখাটে ছেলে যে কিনা কাজ বা পড়াশোনা কোনো কিছুর ধার ধারে না সেই ছেলেটিই ভালোবাসার টানে কি করতে পারে রুপালি পর্দায় তারই সার্থক চিত্রায়ন এ সিনেমা।

You Might Also Like