বিমান বন্ধের কালে উড়ে গেলেন বিমানেই

শুধু বাংলাদেশেই নয়, সারা বিশ্বেই বিমান চলাচল বন্ধ। গত প্রায় তিন মাসে কোথায়ও সামান্য ব্যতিক্রম ছাড়া বিমান চলাচল বন্ধ ছিল। এই ক’দিন হলো দু-একটি দেশ তাদের অভ্যন্তরীণ বিমান চলাচল শুরু করেছে। কিন্তু এই বন্ধের সময়ই একটি ব্যাংকের একজন ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও একজন অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালককে হত্যাচেষ্টা মামলার দুই আসামি সিকদার গ্রুপ ও কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক রন হক সিকদার ও তার ভাই দিপু হক সিকদার তাদের নিজস্ব বিমানে করে ‘রোগী সেজে’ দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছেন। যত দূর জানা যায়, তাদের এই পলায়নে সরকারের বিভিন্ন মহল সক্রিয় সহযোগিতা করেছে।

সিকদার গ্রুপের আর্থিক প্রতিষ্ঠান ‘ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেড (এনবিএল)’। ঘটনার বিবরণে প্রকাশ, গত ৭ মে সকালে সিকদার গ্রুপের রন হক ও তার ভাই দিপু হক এক্সিম ব্যাংকের গুলশান এভিনিউ ব্যাংক শাখায় যান ওই ব্যাংক থেকে ৫০০ কোটি টাকা ঋণ নেয়ার ব্যাপারে দেনদরবার করতে। রন হক ৫০০ কোটি টাকা ঋণের বিপরীতে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে তাদের সম্পত্তি দেখতে এক্সিম ব্যাংকের এমডি মোহাম্মদ হায়দার আলী মিয়া ও অতিরিক্ত এমডি মোহাম্মদ ফিরোজ হোসেনকে সেখানে যেতে বলেন। দুপুর নাগাদ তারা সেখানে গিয়ে দেখতে পান যে, যে সম্পত্তি আছে, তার বিপরীতে ৫০০ কোটি টাকা ঋণ দেয়া যায় না। ওই সম্পত্তির মূল্য অনেক কম। রন হক সিকদার ও তার ভাইয়ের সাথে তখন এনবিএলের এমডি চৌধুরী মোসতাক আহমেদও ছিলেন।

গত ৭ মে এ ঘটনা ঘটলেও এক্সিম ব্যাংকের পক্ষে পরিচালক লে. কর্নেল (অব.) সিরাজুল ইসলাম মামলা দায়ের করেন ১৯ মে। মামলায় বলা হয়, এক্সিম ব্যাংক থেকে ৫০০ কোটি টাকা ঋণ পেতে আবেদন করে সিকদার গ্রুপ। এ জন্য ৭ মে বেলা ১১টায় ব্যাংকের গুলশানের প্রধান কার্যালয়ে আসেন রন হক সিকদার ও ন্যাশনাল ব্যাংকের এমডি চৌধুরী মোসতাক আহমেদ। তারা ব্যাংকের এমডি ও অতিরিক্ত এমডিকে ঋণের বিপরীতে জামানত হিসেবে রূপগঞ্জের আদি নওয়াব আসকারি জুট মিলে নিয়ে যান। পরিদর্শনে গিয়ে ওই সম্পত্তির বন্ধকী নথিপত্রে দেখানো মূল্যের চেয়ে কম উল্লেখ করেন ব্যাংকটির এমডি ও অতিরিক্ত এমডি। এরপর রন হক সিকদার তাদের পূর্বাচলের ‘আইকন টাওয়ার’ পরিদর্শনে যেতে বলেন। কিন্তু আরেক গাড়িতে যাওয়ায় পরিদর্শনে গিয়ে কাউকে না পেয়ে তারা ঢাকায় ফিরতে শুরু করেন। পথে দেখা হয়ে গেলে রন হক সিকদারের কাছে এক্সিম ব্যাংকের এমডি ও অতিরিক্ত এমডিকে মাফ চাইতে বাধ্য করা হয়। এর কিছুক্ষণ পরই রন হক সিকদার গাড়ির গ্লাস নামিয়ে এক্সিম ব্যাংকের এমডির উদ্দেশে গুলি ছোড়েন। এরপর এক্সিম ব্যাংকের দুই শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে বনানীর ১১ নং সড়কের সিকদার হাউজে নিয়ে যাওয়া হয়।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, সেখানে অস্ত্রের মুখে ঋণ দেয়ার জন্য চাপ দেয়া হয় এবং নির্যাতন করা হয়। এরপর বিদেশী নিরাপত্তা কর্মীর পাহারায় রন হক সিকদার ও দিপু হক সিকদার তাদের কাছ থেকে একটি সাদা কাগজে জোর করে স্বাক্ষর আদায় করে গ্রুপের চেয়ারম্যান জয়নুল হক সিকদারের কাছে নিয়ে তার সাথে ছবি তোলা হয়। এরপর দুই গাড়ি চালকসহ সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় তাদের ছেড়ে দেয়া হয়। তবে পত্রিকার রিপোর্টে জানা যায়, রন হক সিকদার এক্সিম ব্যাংকের এমডিকে বলেন, ‘তোর কত বড় সাহস যে, আমার কথা অমান্য করিস। গুলি করে জন্মের মতো খোঁড়া করে দিবো।’

এ দিকে, গত ১৯ মে মামলা হলেও তদন্তে কোনো অগ্রগতি হয়নি। বরং মামলার আসামি সিকদার গ্রুপের চেয়ারম্যান জয়নুল হক সিকদারের ছেলে রন হক সিকদার ও তার ভাই দিপু হক সিকদার দেশ ছেড়ে চলে গেছেন। সরকারের উচ্চপর্যায়ের সূত্র বলেছে, একটি বড় শিল্প গ্রুপ ও দুই ব্যাংকের কর্মকর্তাদের মধ্যে সৃষ্টি হওয়া এই বিরোধ মীমাংসা করার নানা চেষ্টা- তদবির চলছে। আর সে কারণেই পুলিশ আসামি ধরার ব্যাপারে কোনো তৎপরতা দেখায়নি।
এ সম্পর্কে সংবাদপত্রের রিপোর্টে আরো বিস্তারিত প্রকাশিত হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, এক্সিম ব্যাংকের এমডি ও অতিরিক্ত এমডি যখন ৩০০ ফুট সড়ক ধরে ফিরছিলেন, তখন ওই সড়কে রন হক সিকদার ও ন্যাশনাল ব্যাংকের এমডিকে দেখতে পান তারা। ন্যাশনাল ব্যাংকের এমডি এক্সিম ব্যাংকের এমডি ও অতিরিক্ত এমডিকে বলেন, ‘রন হক সাহেবের বলে দেয়া নির্ধারিত স্থানে আপনারা উপস্থিত হতে ব্যর্থ হয়েছেন বিধায় তিনি অত্যন্ত মনোক্ষুণ্ন হয়েছেন। এরপর রন হক সিকদারের কাছে এক্সিম ব্যাংকের এমডি ও অতিরিক্ত এমডিকে মাফ চাইতে বাধ্য করা হয়। এর কিছুক্ষণ পর রন হক সিকদার গাড়ির গ্লাস নামিয়ে এক্সিম ব্যাংকের এমডির উদ্দেশে গুলি ছোড়েন। তবে তা এমডির বাঁ-কানের পাশ দিয়ে চলে যায়। এরপর আবারো তাকে গুলি করতে উদ্যত হলে এক্সিম ব্যাংকের এমডি গাড়ির পেছনে আশ্র্রয় নেন।

এরপর এক্সিম ব্যাংকের এমডির গাড়িতে ব্যাংকটির অতিরিক্ত এমডিকে তোলা হয়। তিনি এমডি ও অতিরিক্ত এমডির মোবাইল ফোন কেড়ে নেন। তারপর গাড়িতে রন হক সিকদারের একজন নিরাপত্তাকর্মীকে তোলা হয়। তিনি এমডি ও অতিরিক্ত এমডির মোবাইল ফোন কেড়ে নেন এবং অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তাদের বনানী সিকদার হাউজে নিয়ে যান।
সেখানেই রন হক সিকদার এক্সিম ব্যাংকের এমডিকে ‘জন্মের মতো খোঁড়া করে দেয়া’র হুমকি দেন। এরপর ব্যাংকটির অতিরিক্ত এমডিকে নিয়ে যাওয়া হয় ভবনের ষষ্ঠ তলায়। সেখানে রন হক সিকদার ও দিপু হক সিকদার মদ পান করছিলেন। অতিরিক্ত এমডির উদ্দেশে রন হক সিকদার বলেন, ‘প্রতি কাঠা জমির দাম আড়াই কোটি টাকা, আর তুই কেন বললি প্রতি বিঘার দাম আড়াই কোটি টাকা। এখনই তোকে শেষ করে ফেলব।’ এ সময় দিপু হক সিকদার ব্যাংকটির অতিরিক্ত এমডিকে মারধরের চেষ্টা করেন।

কিছুক্ষণ পর অতিরিক্ত এমডিকে সিকদার হাউজের তৃতীয় তলায় নেয়া হয়। এরপর তাদের দু’জনকে বিদেশী নিরাপত্তাকর্মীর পাহারায় বসিয়ে রাখা হয়। এরপর রন হক সিকদার ও দিপু হক সিকদার ব্যাংকটির এমডির কাছে থেকে একটি সাদা কাগজে জোর করে স্বাক্ষর আদায় করে নেন। স্বাক্ষর না করলে বিদেশী নিরাপত্তাকর্মীদের দিয়ে টর্চার সেলে নিয়ে নির্যাতন চালানো হবে বলে হুমকি দেয়া হয়। আবার ওই স্বাক্ষরের সাক্ষী করা হয় অতিরিক্ত এমডিকে।

এরপর বিকেল সাড়ে ৫টায় সিকদার গ্রুপের চেয়ারম্যান জয়নুল হক সিকদারের কাছে নিয়ে তার সাথে ছবি তোলা হয়। এরপর দুই গাড়িচালকসহ সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় তাদের ছেড়ে দেয়া হয়। রন হক সিকদার বাসার নিচে এসে সবার মোবাইল ফোন ফেরত দেন।

উল্লেখ্য, ব্যাংক, বিদ্যুৎ, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, আবাসন, নির্মাণ, এভিয়েশনসহ বিভিন্ন খাতে সিকদার গ্রুপের বিনিয়োগ রয়েছে। এ ছাড়া দেশের বাইরে থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রে সিকদার গ্রুপের ব্যবসা রয়েছে বলে গ্রুপটির ওয়েবসাইটে উল্লেখ করা হয়েছে। জয়নুল হক সিকদারের ছেলেরা ব্যবসায় যুক্ত। আর মেয়ে পারভিন হক সিকদার সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য।

বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট সংবাদপত্র বিভিন্ন ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তারা বলেছেন, ব্যাংকের ঋণ কিভাবে দেয়া হয়, আর কেন আদায় হয় না, এর চেয়ে বড় প্রমাণ আর কী হতে পারে। একজন এমডি বলেন, এভাবে নির্যাতিত হলে ব্যাংকগুলো কিভাবে চলবে! এর যথাযথ বিচার না হলে কেউ নিরাপদ নন। একাধিক এমডি বলেছেন, ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তাদের এমন নির্যাতন প্রতিরোধে সরকারের প্রকাশ্য ভূমিকা প্রয়োজন। নইলে কেউ কাজে মনোযোগ দিতে পারবে না। উল্লেখ্য, এক্সিম ব্যাংকের এমডি হায়দার আলী মিয়া অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) ভাইস-চেয়ারম্যান আর এই ব্যাংকের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদার ব্যাংক মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) চেয়ারম্যান।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ বলেছেন, এই ঘটনা জানার পর আমার মধ্যে প্রশ্ন জেগেছে, আইন কি আমাদের শাসন করছে, নাকি কয়েকটি ধনী গ্রুপ আমাদের শাসন করছে। ব্যাংকাররা চাপে আছেন। আবার কেউ কেউ ঘুষ নিয়ে কাজ করছেন। এখন যেটা জানা গেল, সেই চাপটা ভয়ঙ্কর। একজন এমডিকে ডেকে নিয়ে গুলি করা, বাসায় নিয়ে আটকে রেখে নির্যাতন চালানো সাংঘাতিক ব্যাপার। এমডিকে গুলি করার ঘটনা চিন্তাও করা যায় না। এ কাজটা করল সরকার ঘনিষ্ঠ একটা ধনী গ্রুপ, যাদের একটি ব্যাংকও রয়েছে। এরা অনেক ক্ষমতাবান, অনৈতিক ক্ষমতাবান।

তিনি বলেন, ঘটনার ১২ দিন পর মামলা হয়েছে। কারণ হলো এক্সিম ব্যাংকের মালিকরাও ধনী গোষ্ঠী। আমাদের সন্দেহ এই মামলা কি কখনো আলোর মুখ দেখবে। যেমনভাবে বেসিক ব্যাংকের চেয়ারম্যান আবদুল হাই বাচ্চু ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছেন। এরাও একইভাবে পার পেয়ে যাবে কি না। এটা কেমন শাসন। এই অপশাসন থেকে আমরা গণতান্ত্রিক শাসনে ফিরে যেতে চাই। তা হলেই সব সমস্যার সমাধান হবে। আর যে পরিস্থিতি চলছে, এমন ঘটনা এখনই বন্ধ হবে না। এটা আমরা জানতে পেরেছি, অনেক ঘটনাই অগোচরে থেকে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, সরকারের উচিত, মামলাটির দ্রুত নিষ্পত্তি করা। কারা অপরাধ করল, তা বিবেচনা না করে অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। নইলে এর ফলে ব্যাংকাররা প্রতিনিয়ত গুলি আতঙ্কে ভুগবেন। ব্যাংক খাত এমনিতেই খারাপ অবস্থায়, এর মাধ্যমে খাতটিকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে হয় ব্যাংকাররা গুলি খাবেন, নইলে চাকরি ছেড়ে চলে যাবেন।

এ সংক্রান্ত খবর দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকায় ছাপা হওয়ার পর ন্যাশনাল ব্যাংকের পক্ষে জ্যৈষ্ঠ আইনজীবী আবুল বাসেত মজুমদার এক ব্যাখ্যায় পুরো ঘটনা অস্বীকার করেন। এ ছাড়া ব্যাখ্যায় ন্যাশনাল ব্যাংক থেকে নেয়া এক্সিম ব্যাংকের পরিচালকদের ঋণের অনিয়ম ও বেনামে ঋণ নেয়ার চেষ্টার অভিযোগ করা হয়। আবার এক্সিম ব্যাংকের পক্ষে একটি বক্তব্য পাঠান আইনজীবী মিয়া মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম। তাতে বলা হয়, মামলায় ন্যাশনাল ব্যাংকের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আনা হয়নি। সুতরাং স্বপ্রণোদিত হয়ে ন্যাশনাল ব্যাংকের বিবৃতি দেয়া অপ্রাসঙ্গিক। যেকোনো ঋণের অনিয়মের দায়ভার ন্যাশনাল ব্যাংককেই নিতে হবে।
উল্লেখ করা যায়, সিকদার গ্রুপের জয়নুল হক সিকদার ও এক্সিম ব্যাংকের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদার উভয়েই সরকারের উচ্চ মহলের খুব ঘনিষ্ঠ লোক।

না, কাহিনীর এখানেই শেষ নয়। যেহেতু মামলার বাদি-বিবাদি দু’পক্ষই প্রভাবশালী ও দু’পক্ষই সরকারের খুব ঘনিষ্ঠ তাই সব স্বাভাবিকতা লঙ্ঘন করে সরকার হত্যাচেষ্টা মামলায় অভিযুক্ত সিকদার ব্যাংকের এমডি রন হক ও পরিচালক দিপু হককে আপাতত বিদেশে পাঠিয়ে দেয়ার ব্যবস্থা করে। এই দুই ভাইকে ‘গুরুতর অসুস্থ রোগী’ সাজিয়ে সিকদার মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও সিকদার গ্রুপের একটি প্রতিষ্ঠান এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে বিশেষ ব্যবস্থায় ব্যাংকক পাঠিয়ে দেয়া হয়। আরঅ্যান্ডআর নামে সিকদার গ্রুপের রয়েছে একটি এভিয়েশন কোম্পানি। বিশেষ অনুমোদন নিয়ে ২৫ মার্চ সকালে রন আর দিপুকে নিয়ে আরঅ্যান্ডআর-এর একটি বিমানকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স বানিয়ে ব্যাংকক পাঠিয়ে দেয়া হয়। তাদের নামিয়ে দিয়ে বিমানটি রাতে যথারীতি ফেরত আসে। যদিও আরঅ্যান্ডআর-এর ওয়েবসাইটে নোটিশ দেয়া ছিল যে, তাদের সার্ভিস ৩১ মে পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। এ সম্পর্কে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলেছেন, করোনাভাইরাসের কারণে নিয়মিত উড়োজাহাজ চলাচল বন্ধ থাকায় বিদেশ থেকে বাংলাদেশীদের আনা ও বিদেশীদের বাংলাদেশের বাইরে পাঠানোর ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয় অনুমোদন দিচ্ছে। ওই অনুমোদনের আওতা থেকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ও পণ্য পরিবহনকারী উড়োজাহাজকে বাইরে রাখা হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, সিকদার গ্রুপের দুই পরিচালককে ব্যাংকক যাওয়ার জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে কোনো আবেদন জানানো হয়নি। তারা বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ব্যাংকক গেছেন। তাদের দাবি, ওই দুই ব্যবসায়ী থাই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ ছাড়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন।

তবে বেসরকারি বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ সূত্র বলেছে, আরঅ্যান্ডআর এভিয়েশন তাদের উড়োজাহাজকে অ্যাম্বুলেন্স হিসেবে থাইল্যান্ড যাওয়ার জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন জানিয়েছিল। ২৩ মে ব্যাংককের বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে থাই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে এ সংক্রান্ত চিঠি দেয়া হলে তারা ব্যাংককে উড়োজাহাজ অবতরণের অনুমতি দেয়। থাই সরকারও একই দিন তা অনুমোদন করে। সে প্রেক্ষিতে ২৪ মে ঢাকাস্থ থাই দূতাবাস ওই দুই ভাইকে ভিসা দেয়। পরদিন ২৫ মে তারা ব্যাংককে উড়াল দেন।

হ্যালো সরকার, আইনের শাসন কোথায়? দুষ্টের পালন কি এভাবেই চলতে থাকবে?
(এই নিবন্ধ রচনায় সমকাল, প্রথম আলো, নিউ এজ ও ডেইলি স্টার পত্রিকার সহায়তা নেয়া হয়েছে। ২-৬-২০২০)হ
লেখক : সাংবাদিক ও সাহিত্যিক

You Might Also Like