হোম » বিভিন্ন ধর্মে রোজা ও উপবাস

বিভিন্ন ধর্মে রোজা ও উপবাস

মাসুদ মজুমদার- Thursday, June 15th, 2017

তাওরাত, জবুর, ইঞ্জিল ও কুরআন সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য আসমানি কিতাব। পবিত্র কুরআন ছাড়া অন্য তিনটি আসমানি কিতাব অবিকৃতভাবে এখন পাওয়া যায় না। সংস্করণের পর সংস্করণ করে এর অনুসারী হওয়ার দাবিদাররাই কিতাবগুলোর উপজীব্য বিষয় পাল্টে দিয়েছে। একমাত্র পবিত্র কুরআনই অবিকৃত রয়েছে। বহু ভাষায় এর অনুবাদ পাওয়া যায় এবং তা সহজলভ্য। পবিত্র কুরআনে অতীত কিতাব ও নবী-রাসূল সা:-দের সম্পর্কে নির্ভুল, অবিকৃত সাক্ষ্য ও তথ্য রয়েছে। সেই তথ্য ও সাক্ষ্যের বরাতে আল্লাহ তায়ালা জানিয়ে দিয়েছেন, রোজা-সাওম বা সিয়াম আগের নবী-রাসূলদের উম্মতদের জন্য যেমন অবশ্য পালনীয় ছিল, মহানবীর উম্মতদের জন্যও তা অবশ্য পালনীয় হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। এর উদ্দেশ্য সামগ্রিক অর্থে মানুষকে আল্লাহ ভীরু, অনুগত বান্দা ও সংযমী করে তোলা। পবিত্র কুরআনের এ সূত্র জানিয়ে দেয়, সাওম বা রোজা পালনের ইতিহাস দীর্ঘ। বিভিন্ন ধর্মে উপবাস নামে যে কৃচ্ছ্র ও সংযমের ব্যবস্থা রয়েছে সম্ভবত সেটা সাওম, সিয়াম বা রোজারই কিঞ্চিৎ বিকৃত রূপ কিংবা অপভ্রংশ ধারা। এ নিবন্ধে আমরা বিভিন্ন ধর্মে সিয়াম বা রোজার মতো করে উপবাসব্রত পালনের নিয়ম নিয়ে খানিকটা আলোচনার চেষ্টা করব।

আরবি ‘সাওম’ ও ‘সিয়াম’ দু’টি সমার্থক শব্দ। এর অর্থ বিরত থাকা। শরিয়তের ভাষায় সুবহি সাদিকের আভা ফুটে ওঠার সময় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সিয়ামের নিয়তে পানাহার ও কোনোরূপ যৌনসম্ভোগ থেকে বিরত থাকা। সাওম, সিয়াম বা রোজা ইসলামের অবশ্যপালনীয় পাঁচটি মৌলিক বুনিয়াদের অন্যতম।

প্রতি বছর চান্দ্রমাস রমজানে সুস্থ সাবালক নারী-পুরুষের জন্য সিয়াম পালন অবশ্য কর্তব্য। মুসলমানদের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক জীবনে রমজান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই পবিত্র মাসে আল্লাহর তরফ থেকে মানবজাতির উদ্দেশে সুষ্ঠু সামগ্রিক ও পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান আল কুরআন প্রথম নাজিল হয়েছিল।

রমজানের সাথে প্রত্যক্ষ সম্পর্ক রয়েছে কুরআনের, তেমনি সম্পর্ক রয়েছে অন্যান্য আসমানি কিতাবেরও। রমজানেরই প্রথম কিংবা তৃতীয় দিনে নাজিল হয়েছে হজরত ইব্রাহিম আ:-এর প্রতি তাঁর সহিফা। হজরত দাউদ আ:-এর প্রতি জবুর কিতাব নাজিল হয় এ মাসেরই ১২ কিংবা ১৮ তারিখে। হজরত মূসা আ:-এর প্রতি তাওরাত কিতাব, যা ওল্ড টেস্টামেন্ট নামে পরিচিত, নাজিল হয় এ মাসের ৬ তারিখে। এ রমজানেরই ১২ কিংবা ১৩ তারিখে হজরত ঈসা আ:-এর প্রতি ইঞ্জিল কিতাব নাজিল হয়, যা নিউ টেস্টামেন্ট অথবা বাইবেল নামে বেশি পরিচিত।

পৃথিবীর সব ধর্মমতেই কোনো-না-কোনো রকমের উপবাস পালনের নিয়ম রয়েছে। পুরাকালে কেলট রোমান, অ্যাসিরীয় ও ব্যাবিলনীয়দের মধ্যে ‘রোজার’ ব্যবস্থা প্রচলিত ছিল। ইয়াহুদি, খ্রিষ্টান এবং জরাথুস্ত্র ও কনফুসিয়াস অনুসারী ছাড়াও বৌদ্ধ ও হিন্দু ধর্মেও উপবাস পালনের প্রথা রয়েছে।

সিনাই পর্বত থেকে হজরত মূসা আ: আল্লাহর আদেশ নিয়ে আসার স্মৃতি পালনের উদ্দেশ্যে ইহুদিরা উপবাসের মাধ্যমে বার্ষিক ‘প্রায়শ্চিত্ত দিবস’ পালন করে থাকে। এক সাথে ৪০ দিন ‘রোজা’ পালন করে হজরত মূসা আ: আল্লাহর ওহি পেয়েছিলেন। তিনি তাঁর অনুসারীদের অনুরূপ ‘রোজা’ পালনের নির্দেশ দেন। হজরত ঈসা আ: ৪০ দিন রোজা রেখে ইঞ্জিল কিতাব পেয়েছিলেন। তিনিও তাঁর অনুসারীদের তা পালনের নির্দেশ দিয়েছেন। বৌদ্ধ মহাথির পুরোহিত ভিক্ষুরাও বিভিন্ন ‘চীবর’ অনুষ্ঠানে অবশ্যপালনীয় হিসেবে উপবাস পালন করে থাকেন। কনফুসিয়াসও বিভিন্ন ধরনের উপবাস অনুষ্ঠানের বিধান দিয়েছিলেন। প্রাচীন জাপানি জাতির ‘কেন্ট’ ধর্মে উপবাস অবশ্যপালনীয় ছিল। এ রীতি এখনো বজায় রয়েছে। জরাথুস্ত্রবাদী পারসিকেরাও নানাভাবে বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানে উপবাস পালন করে। বৈদিক হিন্দু ধর্মে প্রতিটি পূজায় পূজারী ও অনুষ্ঠান উদ্যোগী নর-নারী উপবাস পালন করে থাকেন। এ উপবাস এক দিন, দুই দিন কিংবা তিন দিনের বেশি নয়। বিভিন্ন পূজা-পার্বণ ছাড়াও বিশেষ করে বিধবা এবং সদ্য পিতৃহারা-মাতৃহারাদের জন্য অমাবস্যা-পূর্ণিমা ও একাদশীতে উপবাস পালনের রীতি চালু রয়েছে। বাহাই সম্প্রদায় ১৯ দিন রোজা পালন করে। আ’লা উপলক্ষে তারা বাহাই বছরের ১৯তম মাসের অর্থাৎ মার্চ মাসের ২ তারিখ থেকে ২০ তারিখ পর্যন্ত সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার থেকে বিরত থাকে। খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের ক্যাথলিক ও প্রটেস্টান্টদের আলাদা ধরনের উপবাস আছে। এদের কেউ কেউ প্রত্যেক মাসের প্রথম রোববার বিশেষ ধরনের উপবাস যাপন করে। বৌদ্ধ ভিক্ষু ও খ্রিষ্টান নানরা সাধারণত বিকেলে উপবাস করেন। এর ব্যতিক্রমও রয়েছে।

বাইবেলের ইসায়াহ চ্যাপ্টার ৫৮:৩-৭ তে ‘গ্রহণযোগ্য পানাহার বিরতি’ শিরোনামে আলঙ্কারিক আলোচনা করা হয়েছে। ক্ষুধা, তৃষ্ণা ও যৌনকামনা থেকে বিরত থাকার অর্থে একে বর্ণনা করা হয়েছে। বুক অব দানিয়েলে ৮-১৬ আংশিক পানাহার বিরতির কথা বলা হয়েছে। খ্রিষ্টানদের বিভিন্ন শাখা এটি চর্চা করে, আবার কোনো কোনো শাখা পালন করে না। তবে ব্যক্তিগতভাবে অনেকে বিভিন্ন মাত্রায় পানাহার বিরতির চর্চা করে। তূর পাহাড়ে আল্লাহর কাছে সাক্ষাতে গিয়ে হজরত মূসা আ: ৪০ রাত ৪০ দিন উপবাস করেছিলেন; যা আগেই উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থোডক্স খ্রিষ্টানরা চার মওসুমে উপবাস পালনের সময় মাছ, গোশত ও অ্যালকোহল পরিহার করে চলে।

প্রোটেস্টান্টরা বাহ্যিক আচরণ হিসেবে উপবাসকে গুরুত্বহীন মনে করে। এর মাধ্যমে কখনো মানুষ মুক্তি পেতে পারে না বলে তাদের ধারণা। তাদের কেউ কেউ ৪০ দিনব্যাপী বার্ষিক উৎসব এবং বড়দিনের পরবর্তী চারটি রোববারে বিভিন্নভাবে উপবাসের নিয়ম পালন করে।

রোমান ক্যাথলিকেরা একবেলায় যতটুকু খাবার গ্রহণ করার কথা, তার পরিমাণ কমিয়ে দেয়। যেমন চল্লিশ দিনের (হজরত মূসা আ:-এর চল্লিশ দিনব্যাপী উপবাস) সময় দুপুরের খাবারে গোশত বাদ দিয়ে শুধু মাছ গ্রহণ করে। অন্য দুই বেলায়ও খাবারের পরিমাণ প্রয়োজনের তুলনায় কমিয়ে দেয়া হয়। মাঝখানে আর কোনো কঠিন খাদ্য গ্রহণ করা হয় না। পরিপূর্ণ উপবাস বলতে তারা পুরো দিনে কোনো গোশত আহার না করা এবং আংশিক উপবাস বলতে তারা কেবল একবার গোশত আহার করাকে বোঝায়। উল্লেখ্য, খ্রিষ্টানদের মধ্যে অনেক ধর্মমত রয়েছে। তারা নানা ফেরকায় বিভক্ত। তাদের এক গোষ্ঠীর আচার অন্যরা মেনে নেয় না। ইহুদিদেরও সম্প্রদায়গত বিভাজন রয়েছে। আমরা উল্লেখযোগ্য গোষ্ঠীগুলোর রীতি তুলে ধরতে চেষ্টা করেছি।

উপবাস হিন্দু ধর্মের অবিচ্ছেদ্য অংশ। স্থানীয় প্রথা ও ব্যক্তিগত বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে ব্যক্তিভেদে উপবাস বিভিন্ন রকম হয়। চান্দ্রমাসের একাদশীতে অনেকেই উপবাস করে। উত্তর ভারতের বিভিন্ন শ্রেণীর মধ্যে বৃহস্পতিবার উপবাস পালনের রীতি বেশ জনপ্রিয়।

জৈন ধর্মে বিভিন্ন ধরনের উপবাস রয়েছে। সূর্য ডোবা পর্যন্ত খাবার খাওয়া, পানি পান সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয় চাউবিহার উপবাসে। টিবিহার উপবাসে কোনো খাদ্য গ্রহণ করা যায় না, তবে সিদ্ধ পানি পান করার অনুমতি রয়েছে।

পারসিকেরা ঐতিহ্য অনুযায়ী এগারো দিন রোজা পালন করেন। কেউ কেউ তিন দিন, আবার কেউ কেউ ৩৩ দিন রোজা পালন করে থাকে। উপবাস থেকে কেউ কেউ দিনে পানীয় ও ফল গ্রহণ বৈধ মনে করেন, আবার কেউ কেউ ডাল-ভাতকেও উপবাসের আহার্য বলে মেনে নেন। নিরম্বু উপবাসে দিন-রাতে পানি তো দূরের কথা, এমনকি থুথু ফেলাও নিষিদ্ধ। ইহুদি ও পারসিকদের কোনো কোনো উপবাসে পুরুষের পক্ষে মেয়েদের এবং মেয়েদের পক্ষে পুরুষদের দেখাও পাপ বলে গণ্য করা হয়। বৌদ্ধদের উপবাসের সময় অনেক ক্ষেত্রে নির্জনবাসে থাকতে হয়। কোনো কোনো ধর্মে উপবাসের সময় বিশেষ সংখ্যকবার বিশেষ নাম জপার নিয়ম রয়েছে। আফ্রিকার বিভিন্ন উপজাতির মধ্যে বিভিন্ন ধরনের পূজা প্রচলিত আছে। তার মধ্যে বেশির ভাগই উপবাস পালনের রীতি অনুসরণ করে। কোনো কোনো স্থলে উপবাসী সেবক নিজের রক্ত দিয়ে দেবতাকে খুশি করে। পাঁচ, তিন কিংবা এক দিন উপবাসীর রক্ত দেবতার খুব প্রিয় বলে তাদের বিশ্বাস।

হিমালয়ের উত্তরাঞ্চলে ও মধ্য এশিয়ায় কিছু উপজাতীয় লোক রয়েছে যাদের উপবাস জন্মদিন থেকেই শুরু হয়। জন্মের পর শিশুকে এক দিন খাবার দেয়া হয় না। মধ্য ইউরোপ ও পশ্চিম আফ্রিকায় কোনো কোনো গোত্রে শিশুকালেই, ছেলে হোক কিংবা মেয়ে, খৎনা করায়। খৎনার দিন এবং তার আগের রাত ও পরের রাত ‘শিশু’টি উপবাসে থাকে। মা তার জন্য তার পক্ষ থেকে সাত দিন উপবাসী থাকেন। দক্ষিণ আমেরিকার কোনো কোনো অঞ্চলে এবং হনুলুলু ইত্যাদি এলাকায় পুরোহিতকে বছরে প্রায় ৪০-৫০ দিন উপবাসী থাকতে হয়। এদের মধ্যে মেয়েদের উপবাসে কড়াকড়ি বেশি। তাদের বিয়ের আগে পরে তিন দিন করে ছয় দিন এবং বিয়ের দিনÑ এই সাত দিন উপবাসে থাকতে হয়। এর মধ্যে তারা নির্জন গৃহে একা কাটায়। বাড়ির বা গোত্রের কারো সে ঘরে যাওয়ার অনুমতি নেই। প্রাকৃতিক প্রয়োজনে সে বেরোতে পারবে, কিন্তু কোনো পুরুষকে যেন সে না দেখে। তারপর যজ্ঞ হয়। আগুন জ্বালিয়ে সবাই নৃত্য করে। যখন ক্লান্ত হয়ে যায়, তখন গোসাপের মতো এক প্রকার সরীসৃপ আগুনে পুড়িয়ে সবাই মহানন্দে ভোগ করে। আর যাকে নিয়ে উৎসব, তাকে এক টুকরো আখের মতো একটি তরকারিজাতীয় জিনিস খেতে দেয়া হয়। এভাবে প্রাচীনকাল থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন জাতি, সম্প্রদায় ও গোত্রের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের ‘উপবাস’ ব্রত পালনের নিয়ম চালু রয়েছে।

ইসলামের ‘সিয়াম’ সাধনা ওই সব ‘রোজা’ বা উপবাসের সাথে তুলনীয় নয়। ইসলামের শরিয়াহ সুবহি সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়ে কিছু খাওয়া বা পান করা এবং যৌনতৃপ্তিকর কোনো কিছু করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। সূর্যাস্তের পর থেকে সুবহি সাদিকের আগ পর্যন্ত যেকোনো বাহ্যিক আহার বিহারে সংযম সাধনা নষ্ট হয় না। রোজাদারের জন্য মিথ্যা, পরনিন্দা, পরের অকল্যাণ চিন্তা ও মন্দকর্মÑ এসবই নিষিদ্ধ। এগুলো কেবল সাধারণভাবে নিষিদ্ধ নয়, বরং এসব অনৈতিকতার পরিচর্যা ও চর্চায় উপবাসীর আহারবিহারের কষ্ট ছাড়া আর কিছুই অর্জিত হয় না। বলা আছে- মিথ্যাবাদী ও গীবতকারী যেন হারাম বস্তু দিয়ে ইফতার করল। সাধারণভাবে ভিন্ন মত থাকলেও ফারসি ভাষায় ‘রোজা’ শব্দের প্রতিশব্দ ইসলামি পরিভাষায় সিয়াম বা সাওম। কুরআনে ‘সাওম’ ও ‘সিয়াম’ এবং ‘সালাত’ বলা আছে। হাদিস শরিফেও ‘সাওম’ ও ‘সিয়াম’ এবং ‘সালাত’ শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে। উপমহাদেশজুড়ে ফারসি ভাষার প্রভাবে ও উর্দু ভাষায় তা হুবহু গ্রহণ করার ফলে এ ক্ষেত্রে ‘নামাজ’ ও ‘রোজা’ শব্দ দু’টি বহুল প্রচলিত হয়ে আছে।

সাওম, সিয়াম বা রোজার আসল উদ্দেশ্য মানুষের জাগতিক ও মনোদৈহিক উৎকর্ষসাধন। সিয়াম সাধনায় রোজাদারের মনে আধ্যাত্মিক চৈতন্য জাগ্রত হয়। সাওম আত্মসংযমী হতে সাহায্য করে। রোজার অনুশীলন রোজাদারকে আত্মত্যাগে উদ্ব্দ্ধু করে। ধৈর্য ও সহানুভূতির অনুভূতি জাগায়। রোজা রিপুগুলোকে কামনা-বাসনার ঊর্ধ্বে উঠতে সাহায্য করে। আত্মশুদ্ধির সুযোগ সৃষ্টি করে। সাওম বা রোজা নিষ্ঠাবানদের বাড়তি ইবাদতের প্রেরণা জোগায়। লাইলাতুল কদর, ইতিকাফ পালনের মাধ্যমে মোমেন নিজেকে শুধু পরিশুদ্ধ করে না, দোয়া কবুলের সুযোগ গ্রহণ করে আখিরাতে নাজাতের পথ খুঁজে নেয়।

তাই গ্রহণ-বর্জনের পথপরিক্রমায় একজন মুসলমানের জীবনে সাওম, সিয়াম বা রোজা শুধু উপবাস নয়; রোজায় উপবাস আছে কিন্তু শুধু উপবাসে রোজা বা সাওম নেই। সঙ্গত কারণে অন্যান্য ধর্মের উপবাস রোজা বা সাওমের সমার্থক নয়, কিছুটা ধারণাগত সামঞ্জস্যপূর্ণ মাত্র। তবে স্বীকার করতেই হবে, প্রত্যেক ধর্মাবলম্বী নিজ নিজ বিবেচনায় মহান সৃষ্টিকর্তাকে খুশি করে নিজে অনুগত ও পরিশুদ্ধ হওয়ার জন্যই উপবাস করে থাকে। ইসলাম যেহেতু সর্বশেষ কিতাব অনুসরণ করে, তাই এর পূর্ণতা প্রশ্নাতীত, ইবাদতের ধরন ও পূর্ণতার বিবেচনায় অখণ্ড অবয়ব পেয়েছে। তাই সাওম বা রোজার আবেদন অনেক বেশি তাৎপর্য বহন করে। ফলে উপবাসের সাথে সাওম বা রোজার গুণগত তফাতটাও গৌণ নয়।

মাসুদ মজুমদার

masud2151@gmail.com