বিনা সেচে ধান, সাশ্রয় ২০০ কোটি টাকা

এ বছর স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত ও আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় রংপুর অঞ্চলে সাড়ে ৪ লাখ হেক্টর জমিতে আমন ধান বিনা সেচে আবাদ হয়েছে। ফলে কৃষকদের প্রায় সোয়া ২০০ কোটি টাকা আর্থিক সাশ্রয় হয়েছে।

জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে আমনের আবাদ শুরু হয়েছে। অক্টোবরের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে পুরোদমে কাটাই ও মাড়াই শুরু হবে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, রংপুর, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, নীলফামারী ও গাইবান্ধা জেলায় এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১২ শতাংশ বেশি জমিতে আমনের আবাদ হয়েছে।

এবার ৫ জেলায় ৫ লাখ ৮৫ হাজার ৬১৩ হেক্টর জমিতে আমনের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে রংপুরে ১ লাখ ৬৩ হাজার ৭১৫ হেক্টর, গাইবান্ধায় ১ লাখ ২৪ হাজার ১০৫ হেক্টর, কুড়িগ্রামে ১ লাখ ৭৫০ হেক্টর, লালমনিরহাটে ৮৪ হাজার ৮৪৮ হেক্টর এবং নীলফামারীতে ১ লাখ ১২ হাজার ১৯৫ হেক্টর। এসব জমিতে থেকে ১৪ লাখ মেট্রিক টনের বেশি ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ হয়েছে।

কৃষি অফিসের তথ্য মতে, আবহাওয়া ধান চাষের অনুকূলে থাকায় এবার ৫ লাখ ৮৫ হাজার ৬১৩ হেক্টর জমি মধ্যে মাত্র ১ লাখ ১৮ হাজার ৭৯৪ হেক্টর জমিতে কৃষকরা সেচ দিয়ে আবাদ করেছে। বাকি ৪ লাখ ৬৭ হাজার ১১৯ হেক্টর জমি ছিল সেচ আওতার বাইরে।

কৃষি অফিসের তথ্য মতে, প্রতি হেক্টর জমিতে কৃষকদের সেচ বাবদ খরচ পড়ে সাড়ে ৪ হাজার টাকার মত। সেচের আওতার বাইরে যেসব জমিতে আবাদ হয়েছে সেই জমিগুলোতে সেচ দিলে কৃষকদের বাড়তি ব্যয় হতো ২১০ কোটি টাকা। প্রকৃতি আমন ধানের পক্ষে থাকায় কৃষকদের ওই টাকা সাশ্রয় হয়েছে বলে জানিয়েছেন রংপুর কৃষি তথ্য সার্ভিসের আঞ্চলিক বেতার কৃষি অফিসার মো. আবু সায়েম।

তথ্য মতে, রংপুর কৃষি অঞ্চলে আমন ধানে সম্পূরক সেচে ব্যবহৃত সেচযন্ত্রের সংখ্যা ৫৭ হাজার ৫৯৫টি। এর মধ্যে বিদ্যুৎচালিত গভীর নলকূপ ৫৯২টি এবং ডিজেলচালিত ২টি। অগভীর নলকূপ ছিল বিদ্যুৎচালিত ১১ হাজার ৭০৬টি এবং ডিজেলচালিত ৪৫ হাজার ৮৮৯ টি।

এ ছাড়া ডিজেল চালিত লো-লিফট পাম্প (এলএলপি) ৩০টি এবং অন্যান্য সেচযন্ত্র ছিল ৪২০টি। সেচকৃত জমির পরিমাণ ছিল ১ লাখ ১৮ হাজার ৭৯৪ হেক্টর।

রংপুর সদর উপজেলার কৃষক আব্দুস সাত্তার, কাউনিয়া উপজেলার আলতাফ হোসেন, মিঠাপুকুর উপজেলার হাবিবুর রহমানসহ আরও অনেক কৃষক জানান, বেশ কবছর থেকে খরায় সেচ দিয়ে আমন ধানের চাষ করতে হতো। এবার পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হওয়ায় তাদের জমিতে সেচ দিতে হয়নি। ফলে তাদের এবার বাড়তি খরচের বোঝা বইতে হয়নি। তারা আশা করছেন ধানের ন্যায্যমূল্য পেলে আমন ধান বিক্রি করে কিছুটা লাভের মুখ দেখবেন।

রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্ভিদ বিশেষজ্ঞ মেজবাহুল ইসলাম জানান, আমন ধান সাধারণত বৃষ্টি ও প্রকৃতিনির্ভর ধান। প্রতিকূল পরিবেশ থাকায় এবার আমনের বাম্পার ফলন হয়েছে। কৃষকদের সেচ বাবদ বাড়তি খরচ বইতে হয়নি।

রংপুর কৃষি তথ্য সার্ভিসের আঞ্চলিক বেতার কৃষি অফিসার মো. আবু সায়েম জানান, প্রতিবছর কম বেশি খরা দেখা দেওয়ায় আমন চাষিদের সেচ দিয়ে জমি চাষ করতে হতো। এবার ৫ ভাগের এক ভাগ জমিতে মাত্র সেচ দিতে হয়েছে। সেসব জমিতে সেচ দিতে হয়নি সেসব জমির কৃষকদের প্রতি হেক্টরে সাড়ে ৪ হাজার টাকার বেশি সাশ্রয় হয়েছে।

You Might Also Like