বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুর মুখে তৃষা

নওগাঁর আত্রাই উপজেলার আত্রাই পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির মেধাবী ছাত্রী আইরিন আক্তার তৃষা (১২)। হেমাপ্রোহাইড্রলিক (চোখে ক্যান্সার) রোগে আক্রান্ত হয়ে বর্তমানে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে সে।

সে উপজেলার পাঁচুপুর ইউনিয়নের শিবপুর গ্রামের আমিনুল ইসলামের মেয়ে। তার বাবা পেশায় একজন কাঠমিস্ত্রী।

তৃষার বাবা আমিনুল ইসলাম বলেন, অর্থ ও চিকিৎসার অভাবে যেকোনো সময় তৃষার জীবনের প্রদীপ নিভে যেতে পারে। এক বছর ধরে বাম চোখের মনি ও শরীরের বিভিন্ন অংশ দিয়ে ফেটে দিনে ৪/৫ বার রক্ত ঝড়ছে। ৩ মাস আগে দেশের বাইরে অপারেশনের তারিখ নির্ধারণ করা হলেও অর্থের অভাবে তা করা সম্ভব হয়নি।

গত ২০১২ সালের নভেম্বর মাসে তার এ নতুন রোগ ধরা পড়ার পর নওগাঁ সদর হসপাতালে চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডা. আব্দুল মান্নানের পরামর্শে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

সেখানকার চিকিৎসকরা টিম গঠন করে রোগ নির্ণয় করতে না পারায় তাদের পরামর্শক্রমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। সেখানে ভর্তি করা হলে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে এ রোগকে হেমাপ্রোহাইড্রলিক বলে তারা শনাক্ত করেন। তারা জানান এ রোগের চিকিৎসা বাংলাদেশে নেই। এজন্য যতদ্রুত সম্ভব তৃষাকে আমেরিকা অথবা ভারতে নিয়ে যাওয়া পরামর্র্শ দেন তারা। এতে খরচ হবে ১০/১৫ লাখ টাকা।

কিন্তু তৃষার বাবার সম্বল বলতে মাত্র বত্রিশ হাজার টাকা ব্যাংকে রয়েছে। দরিদ্র বাবার পক্ষে এতো টাকা জোগাড় করা সম্ভব নয়। তাই তিনি সমাজের বিত্তবানদের নিকট সাহায্যের হাত বাড়িয়েছেন।

তৃষার বিষয়ে উপজেলার পাঁচুপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এমদাদুল হক পিন্টু বলেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে তৃষাকে চিনি। তার বাবা একজন কাঠমিস্ত্রী। এই জটিল রোগের চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করা হতদরিদ্র বাবার পে কোনোভাবেই সম্ভব নয়। সমাজের বিত্তবানরা যদি এগিয়ে আসেন তাহলে একজন মেধাবী ছাত্রীর জীবন রক্ষা পাবে।

এ বিষয়ে নওগাঁর সিভিল সার্জন ডা. আলাউদ্দীন বলেন, এ রোগের কথা শুনে আমি তৃষাকে নিয়ে তার বাবাকে আমার কাছে আসতে বলেছিলাম। তিনি আসার কিছুক্ষণ পর দেখলাম তৃষার চোখ দিয়ে রক্ত ঝড়ছে। আমাদের দেশে রোগটি বিরল। তাই আমি পরামর্শ দিয়েছি দ্রত উন্নত চিকিৎসার।

তৃষাকে সাহায্য পাঠাবার ঠিকানা: আমিনুল ইসলাম (তৃষার বাবা), বিকাশ একাউন্ট নম্বর- ০১৭৬৭৫১৫১৯৪ ও ডাচ বাংলা ব্যাংক একাউন্ট নম্বর- ০১৭৬৭৫১৫১৯৪-২।

You Might Also Like