হোম » ‘বিচার বিভাগের স্বাধীনতার প্রশ্ন এলে সংবিধানের এ টু জেড ব্যাখ্যা করব’

‘বিচার বিভাগের স্বাধীনতার প্রশ্ন এলে সংবিধানের এ টু জেড ব্যাখ্যা করব’

ঢাকা অফিস- Wednesday, May 24th, 2017

‘জনগণের অধিকার, বিচার বিভাগের স্বাধীনতার প্রশ্ন এলে সংবিধানের এ টু জেড ব্যাখ্যা করব’ -বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা।

বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা জাতীয় সংসদের হাতে ন্যস্ত করে আনা সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণার রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের করা আপিল শুনানিতে প্রধান বিচারপতি  অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমের উদ্দেশে এসব কথা বলেন।

উল্লেখ্য, প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন সাত সদস্যের আপিল বেঞ্চে মঙ্গলবার পঞ্চম দিনের মতো শুনানি হয়। বুধবার শুনানির জন্য দিন রয়েছে।

শুনানিতে অ্যাটর্নি জেনারেল প্রধান বিচারপতির উদ্দেশ্যে বলেন, ‘সমস্ত পাণ্ডিত্য আমাদের, আপনাদের। কিন্তু বাহাত্তরের সংবিধানের ওপর হাত দিতে পারেন না, যোগ করা যেতে পারে।’

এ সময় প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘সংবিধানের এ টু ডেজ (পুরোপুরি) ব্যাখ্যা করতে পারি। জনগণের অধিকার, বিচার বিভাগের স্বাধীনতার প্রশ্ন এলে সংবিধানের এ টু জেড ব্যাখ্যা করব।’

এ সময় প্রধান বিচারপতি অ্যাটর্নি জেনারেলকে বলেন, ‘আপনি বিচার বিভাগের স্বাধীনতা চান কি না।’ জবাবে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘অবশ্যই’। তখন প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘অধস্তন জুডিশিয়ারি নির্বাহীর হাতে থাকলে তা কীভাবে হবে?’ অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘এটি তো অন্য বিষয়।’

প্রধান বিচারপতি বলেন, ৮০ ভাগ বিচারক অধস্তন আদালতের। ওখানে কার্যত সুপ্রিম কোর্টের নিয়ন্ত্রণ নেই। বিচার বিভাগের স্বাধীনতার কথা বললে এই প্রসঙ্গটি আসবে। সুপ্রিম কোর্ট, অধস্তন আদালত পঙ্গু হয়ে গেছে এ কারণে বলতে বাধ্য হচ্ছি।

তিনি বলেন, ‘একটি জেলায় পাঁচ মাস ধরে জেলা জজ নেই। তাহলে বিচার বিভাগ কি রকম কার্যকর আছে? জেলা জজ না থাকলে বিচার বিভাগ কি কার্যকর হবে?’ জবাবে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘এটি আইন মন্ত্রণালয়ের (বিষয়)।’ প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘আপনার জবাব হচ্ছে আইন মন্ত্রণালয়ের বিষয়। আর উচ্চ আদালতের বিষয়টি সংসদে নিয়ে গেলেন, তাহলে আর থাকল কী?’

শুনানিকালে রিট আবেদনকারীদের পক্ষে আইনজীবী মনজিল মোরসেদ ছাড়াও অ্যামিকাস কিউরিদের মধ্যে এম আমীর-উল ইসলাম, রোকন উদ্দিন মাহমুদ, এম আই ফারুকী ও ফিদা এম কামাল উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর বিচারপতি অপসারণের ক্ষমতা সংসদের কাছে ফিরিয়ে নিতে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী পাস হয়। ওই বছরের ২২ সেপ্টেম্বর তা গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়। পরে সংবিধানের এই সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে একই বছরের ৫ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্টের নয়জন আইনজীবী হাইকোর্টে একটি রিট করেন। ঐ রিটের চূড়ান্ত শুনানি শেষে ২০১৬ সালের ৫ মে হাইকোর্টের তিন বিচারপতির সমন্বয়ে গঠিত বিশেষ বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেন। হাইকোর্টের দেয়া ওই রায়ের বিরুদ্ধে ২০১৬ সালের ২৮ নভেম্বর আপিল করে রাষ্ট্রপক্ষ।