বিকাশ অ্যাকাউন্ট থেকে গ্রাহকদের জমাকৃত টাকা উধাও

ব্র্যাক ব্যাংক পরিচালিত বিকাশ অ্যাকাউন্ট থেকে গ্রাহকদের জমাকৃত টাকা উধাও হওয়ার ৩৫টি অভিযোগ পাওয়া গেছে। পাবনার ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকরা বিকাশ অফিস ও সংশ্লিষ্ট মোবাইল অপারেটরের কাস্টমার কেয়ারে গিয়েও কোনো প্রতিকার পাননি।

এ বিষয়ে পাবনা জেলা ফোন ফ্যাক্স মালিক সমিতির সভাপতি সুলতান মাহমুদ জানান, বিকাশ চালু হওয়ার পর থেকেই এই সমস্যা দেখা যাচ্ছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট দফতরে জানিয়ে বারবার ধরণা দিয়েও এর কোনো প্রতিকার মেলেনি। আমরা সবাই ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। এভাবে একের পর এক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা উধাও হয়ে যাওয়ায় অনেকেই সর্বশান্ত হয়ে গেছে।

তিনি সন্দেহ পোষণ করে বলেন, এই প্রতারণা চক্রের সঙ্গে মোবাইল ফোন কোম্পানির পাশাপাশি বিকাশে সম্পৃক্তরা জড়িত থাকতে পারে।

ক্ষতিগ্রস্তরা জানান, গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে কাশিনাথপুরের ফরিদ আহমেদের বিকাশ অ্যাকাউন্ট থেকে ১৫ হাজার, সাঁথিয়ার রবিউল ইসলামের অ্যাকাউন্ট থেকে ৫২ হাজার ৭৪১ টাকা, শহরের অনন্ত বাজারের রুহুল আমীনের অ্যাকাউন্ট থেকে ৩৫ হাজার টাকা, কুচিয়ামোড়ার রুহুল আমীনের অ্যাকাউন্ট থেকে ২৩ হাজার টাকা, সাঁথিয়ার রবিউল ইসলামের অ্যাকাউন্ট থেকে ২০ হাজার টাকা, শহরের বাইপাস সড়কের শাওনের অ্যাকাউন্ট থেকে ১৬ হাজার টাকা, আতাইকুলার সিরাজুল ইসলামের অ্যাকাউন্ট থেকে ১৬ হাজার টাকা, কাশিনাথপুরের আল আমীনের অ্যাকাউন্ট থেকে ২৬ হাজার টাকা, কাশিনাথপুরের রাসেলের অ্যাকাউন্ট থেকে ১২ হাজার টাকা, আব্দুল মজিদের ৯ হাজার টাকা, মাধপুরের আব্দুল করিমের ১৯ হাজার ৯১ টাকাসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলার কমপক্ষে ৩৫ জনের অ্যাকাউন্ট থেকে গচ্ছিত বিপুল পরিমাণ টাকা উধাও হয়ে গেছে।

ক্ষতিগ্রস্তরাে আরও জানান, যাদের বিকাশ অ্যাকাউন্ট থেকে অজ্ঞাতভাবে টাকা উত্তোলন করে নেওয়া হয়েছে তাদের অধিকাংশ গ্রামীণফোনের সিম। মোবাইল সিমের গোপনীয়তা ও বিকাশ অ্যাকাউন্টের গোপনীয়তা শুধুমাত্র সংশ্লিষ্টরাই জানেন। তাহলে কিভাবে মোবাইল সিম রিপ্লেস করে প্রকৃত গ্রাহকের সিম ইনসার্ট হয় আর কিভাবে বিকাশ অ্যাকাউন্ট থেকে গোপনীয়তা ভেঙ্গে টাকা উত্তোলন করে নেওয়া হচ্ছে। এভাবে বিকাশ অ্যাকাউন্ট থেকে মালিক ছাড়াই টাকা উধাও হলে বাধ্য হয়েই বিকাশ থেকে টাকা সরিয়ে ফেলতে হবে।

ক্ষতিগ্রস্ত বিকাশ অ্যাকাউন্ট গ্রাহকরা জানান, স্থানীয়ভাবে অভিযোগ দিয়ে সাড়া না পাওয়ায় তারা বিকাশের কাস্টমার হেল্পলাইনে যোগাযোগ করেছেন। অথচ সেখান থেকে জানানো হয়েছে, পাবনা থেকে এ ধরনের কোনো অভিযোগ তাদের কাছে আসেনি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে তারা আইনের সহায়তা নেবেন।

টেবুনিয়া বাজারের রাজ টেলিকমের স্বত্বাধিকারী বিকাশ এজেন্ট রফিকুল ইসলাম রাজ জানান, বিকাশ অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা অন্য গ্রাহকের নাম্বারে পাঠালে তার অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা কর্তন হয়ে গেলেও ভুক্তভোগীর অ্যাকাউন্টে টাকা জমা না হওয়ায় তাকে কয়েকবার এই টাকা পরিশোধ করতে হয়েছে। তিনিও বিকাশ সংশ্লিষ্টদের জানিয়ে কোনো সুফল পাননি।

বিকাশ পাবনাস্থ ডিলারের নিয়োগকৃত ডিএম রিপন আহমেদ জানান, খবরটি আমরা শুনেছি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ তারাই নিতে পারেন। এ ব্যাপারে আমাদের করণীয় কিছু নেই।

সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিকাশের পাবনার টেরিটরি অফিসার সেলিম জাবেদ জানান, বিকাশের কোনো গাফিলতি নেই। নিয়মনীতি না মেনে গ্রাহকরা পার্সোনাল নাম্বারে টাকা লেনদেন করায় তাদেরই পরিচিতরা এই প্রতারণা করতে পারে।

মোবাইল অপারেটর ও বিকাশের পৃথক নিরাপত্তা ভেঙ্গে কিভাবে সিম উত্তোলন করে বিকাশের গোপনীয়তা ভেঙ্গে টাকা উত্তোলন করা হচ্ছে এমন প্রশ্নের কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি সেলিম জাবেদ।

বিকাশ অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা উত্তোলনের সঙ্গে সিম কোম্পানির পাশাপাশি কতিপয় বিকাশ সংশ্লিষ্টরা জড়িত, গ্রাহকদের এমন অভিযোগের বিষয়েও সেলিম জাবেদ কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।

You Might Also Like