বারডেমের চিকিত্সকেরা কর্মবিরতিতে অনড়

রাজধানীর বারডেম হাসপাতালের চিকিত্সকেরা কর্মবিরতি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। চিকিত্সকদের কর্মবিরতির কারণে বহির্বিভাগে আসা রোগীরা আজও দুর্ভোগে পড়েছেন। আজ বুধবার সকাল ১০টায় বারডেম হাসপাতাল মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করেন চিকিত্সকেরা। তাঁরা জানান, চিকিত্সকদের মারধরের ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা কাজে ফিরবেন না।

এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে মারধরের প্রতিবাদে বারডেম হাসপাতালের চিকিত্সকেরা গতকালও কর্মবিরতি পালন করেন। এ সময় তাঁরা সড়ক অবরোধ ও মানববন্ধন করেন। চিকিত্সকদের কর্মবিরতির কারণে বহির্বিভাগে আসা রোগীরা দুর্ভোগে পড়েন।

আজ সংবাদ সম্মেলনে চিকিত্সকদের পক্ষে আহমেদ সালাম মীর দাবি করেন, তাঁরা কখনোই চান যে রোগীরা দুর্ভোগে পড়ুন। তাঁরা চিকিত্সা দিতে চান। এ মুহূর্তে চিকিত্সকেরা মারাত্মক নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এ পরিস্থিতিতে সঠিকভাবে চিকিত্সা দেওয়া সম্ভব নয়।

গতকাল সাংবাদিকদের কাছে বিলি করা কাগজে চিকিত্সকেরা দাবি করেন, অ্যান্ডোক্রাইনোলজি বিভাগে চিকিত্সাধীন এক রোগী (জাতীয় প্রেসক্লাবের কর্মচারী ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি সিরাজুল ইসলাম) যথোপযুক্ত চিকিত্সা পাওয়া সত্ত্বেও ১৩ এপ্রিল রাত আটটায় মারা যান। তাঁর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে রোগীর স্বজন নামধারী ৬০-৭০ জন দুষ্কৃতকারী হাসপাতালে টেলিভিশন, কম্পিউটার, পানির ফিল্টার ভাঙচুর করেন। ঢাকা অঞ্চলের এএসপি মাসুদ পরিচয়দানকারী এক ব্যক্তি ও সাবেক এক মন্ত্রীর এপিএস পরিচয়দানকারী এস এম বাবুর ইন্ধনে মো. আনোয়ার হোসেন ও কল্যাণ দেবনাথ নামের দুই চিকিত্সককে মেরে রক্তাক্ত করা হয়। ভয়ে প্রসাধন কক্ষে লুকিয়ে থাকা চিকিত্সক শামীমা আক্তারকে দরজা ভেঙে বের করে লাঞ্ছিত করা হয়।

তবে মৃত রোগী সিরাজুল ইসলামের মেয়ে ফারহানা নাসরিন দাবি করেছেন, চিকিত্সকেরা নিজেদের অন্যায় ধামাচাপা দিতে কর্মবিরতি পালন করছেন এবং হামলার অভিযোগ তুলেছেন। ভাঙচুর, মারধরের ঘটনা ঘটেনি। কিছুটা হট্টগোল হয়েছে।

আজ সংবাদ সম্মেলনে চিকিত্সক ফারুক পাঠান দাবি করেন, রোগীর পরিবারের তরফ থেকে ভুল চিকিত্সা বা চিকিত্সায় অবহেলার যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা সত্য নয়। মৃত সিরাজুল ইসলাম ২০১০ সাল থেকে তাঁর অধীনে চিকিত্সা নিয়ে আসছিলেন। তিনি জটিল একটি রোগে ভুগছিলেন। গত মার্চেও তিনি বারডেমে ভর্তি হয়েছিলেন। তবে ৯ এপ্রিল বমি ও ডায়রিয়া নিয়ে হাসপাতালের অন্য একটি বিভাগে ভর্তি হন সিরাজুল। এর পরও ওই রোগীর ফলোআপ করেছেন তিনি। হূদরোগে আক্রান্ত হয়ে ওই রোগী মারা গেছেন। চিকিত্সকেরা তাঁকে বাঁচানোর চেষ্টায় ত্রুটি করেননি।

সংবাদ সম্মেলনে চিকিত্সকেরা অভিযোগ করেন, চিকিত্সকদের মারধরের সময় পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু তাঁরা দর্শকের ভূমিকায় ছিলেন।

এদিকে কর্মবিরতির মধ্যে আজ দুজন আবাসিক চিকিত্সকসেবা দিচ্ছেন জানতে পেরে অন্য সহকর্মীরা উত্তেজিত হয়ে ওঠেন।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে চিকিত্সকদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মাহমুদ হাসান আজ বারডেম হাসপাতালে গেছেন।

চিকিত্সকদের কর্মবিরতির কারণে আজও বহির্বিভাগে আসা রোগীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।  সেবা না পেয়ে কুমিল্লার ফরিদগঞ্জ থেকে আসা রেনু বেগমকে গালে হাত দিয়ে হাসপাতালের সিঁড়িতে বসে থাকতে দেখা যায়। সেবা না পেয়ে অনেকেই ফিরে গেছেন।

তবে চিকিত্সকেরা দাবি করেছেন, হাসপাতালের জরুরি বিভাগ, আইসিইউ, সিসিইউতে চিকিত্সাসেবা অব্যাহত আছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *