বান্দরবান ও রাঙ্গামাটি থেকে পৃথকভাবে ২ পর্যটক অপহৃত : আরাকান লিবারেশন পার্টির মুক্তিপণ দাবি

বান্দরবান ও রাঙ্গামাটি সীমান্ত এলাকা থেকে পৃথকভাবে দুই পর্যটক এবং দুইজন পাহাড়ি গাইডকে অপহরণ করেছে আরাকান লিবারেশন পার্টির সদস্যরা। অপহৃত ৪ পর্যটক ও গাইডকে মুক্তি দিতে ৫০ লাখ টাকা ‘মুক্তিপণ’ দাবি করেছে তারা। বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত ছাড়া পায়নি তারা। গত রোববার তাদের অপহরণ করা হয়।

জানা যায়, রোববার সন্ধ্যায় বান্দরবান জেলা সংলগ্ন রাঙ্গামাটি জেলার বিলাইছড়ি উপজেলার বড়তলী ইউনিয়নের সেপ্রুপাড়া থেকে পর্যটক জাকির হোসেন মুন্না এবং আবদুল্লাহ আল জোবায়ের এবং তাদের গাইড মাংসা ম্রোকে অপহরণ করেন আরাকান লিবারেশন পার্টির সদস্যরা।
এদিকে, একইদিন দুপুরে রুমা উপজেলার ক্যক্রাডং পর্যটন এলাকার পাশে আনন্দপাড়া থেকে ধরে নিয়ে যায় লালরিং সাং বম নামক অপর একজন পর্যটক গাইডকে। তাদেরকে ভারত-মিয়ানমার সীমান্তের ওপারে সন্ত্রাসীদের গোপন আস্তানায় আটকে রেখেছেন বলে সীমান্তসূত্রে জানা গেছে। সন্ত্রাসীদের সঙ্গে মধ্যস্থতার জন্যে দায়িত্ব নিয়েছেন রুমা উপজেলার দুর্গম রেমাক্রিপাংসা ইউনিয়নের ফাইসিং ম্রো পাড়ার প্রধান (কারবারী) ফাইসিং ম্রো। বিশেষ ব্যবস্থায় যোগাযোগের মাধ্যমে সন্ত্রাসীদের আস্তানা থেকে যাতে করে আটক দুই পর্যটক এবং দুই পাহাড়ি গাইডকে ফিরিয়ে আনা যায়, সেই বিষয়ে দ্রুত কাজ করার জন্যে বিভিন্ন মহল থেকে বলা হয়েছে।

ফাইসিং ম্রো’র ছোট ভাই মাংসা ম্রো ঢাকা থেকে আসা দুই পর্যটকের গাইড হিসেবে ছিলেন অপহরণ ঘটনার সময়। অন্যদিকে ওই ফাইসিং ম্রো’র বড় ছেলে ম্রো ন্যাশনাল পার্টির অন্যতম নেতা বলেও স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

ফাইসিং ম্রো সংবাদকর্মীদের কাছে মুঠোফোনে বুধবার দুপুরে জানান, অপহৃতদের ছেড়ে দিতে ৫০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছে এএলপি।

ফলে নানামুখি সংকট সৃষ্টি হয়েছে এবং সেজন্যই অপহৃতদের উদ্ধার করা নিয়েও দেখা দিয়েছে অনিশ্চিয়তা।

তবে দুর্গম বড়তলী ইউপি চেয়ারম্যান আথুই মং মারমা এবং অন্যরা মুক্তিপণ দাবির বিষয়ে নিশ্চিত করতে পারেনি।

অন্যদিকে, বুধবার বিকেলে বান্দরবান জেলা শহরের বাসস্টেশনে স্থানীয় কয়েকজন মিডিয়াকর্মীর সাথে আলাপকালে ঢাকার তিনজন পর্যটক (যারা অপহৃতদের সাথে রুমা গিয়েছিলেন) রিপণ সাহা, শাহ তারিফ ইভ এবং আবুতালেব মিয়াজি সাগর জানিয়েছেন, সন্ত্রাসীরা অপহৃতদের ভারত-মিয়ানমার সীমান্তের ওপারে নিয়ে গেছেন। তাদের মুক্তির জন্যে ৫০ লাখ টাকা ‘পণ’ দাবি করা হয়, মুক্তিপণ দাবির বিষয়টি ঢাকায় অপহৃতদের পরিবারদের জানানোর জন্যে অনুরোধ করা হয় বলে রুমা ফেরত পর্যটকরা জানান। কিন্তু বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত অপহৃতরা ছাড়া পায়নি। সরকারি কোন মহলই মুক্তিপণ দাবির বিষয়ে অবহিত নন বলে জানানো হয়। তবে নিরাপত্তা বাহিনী, বিজিবি এবং পুলিশ সদস্যরা যৌথভাবে অপহৃতদের উদ্ধারে অভিযান জোরদার করেছেন বলে সরকারি সূত্রগুলো জানায়।

You Might Also Like