বান্দরবানে অর্ধ লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

টানা বর্ষণে বান্দরবানের নিন্মাঞ্চল প্লাবিত হয়ে জেলার অর্ধ লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া সড়ক প্লাবিত হওয়ায় বান্দরবানের সঙ্গে রাঙ্গামাটি, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার থেকে টানা বর্ষণের কারণে বান্দরবানের লামা, আলীকদম, নাইক্ষ্যংছড়ি, থানচি উপজেলার নিন্মাঞ্চল প্লাবিত হয়ে তলিয়ে গেছে সরকারি বেসরকারিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। জেলার সাঙ্গু ও মাতামুহুরি নদীর পানি বিপদ সীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় নিম্নাঞ্চলের কয়েক হাজার ঘরবাড়ি তলিয়ে গেছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে অর্ধ লক্ষাধিক মানুষ।

স্থানীয় সূত্রে আরো জানা যায়, শনিবার সন্ধ্যা থেকে বান্দরবান-কেরানীহাট সড়কের বাজালিয়া ইউনিয়নের বড়দুয়ারা নামক স্থানের সড়কের ওপর পানি উঠে পড়ার কারণে সব ধরণের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে ওই সড়কের উভয় দিকে আটকা পড়েছে শতাধিক যানবাহন। এতে জেলার অন্যান্য মানুষের সঙ্গে ঈদের পরে বান্দরবানে বেড়াতে আসা কয়েকশ পর্যটকও আটকা পড়েছে।

এ ছাড়া বান্দরবানের পুলপাড়া সড়কের একটি ব্রিজ পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় বান্দরবানের সঙ্গে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। উক্ত সড়ক পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছে। জেলার সাতটি উপজেলার অভ্যন্তরীণ সড়ক যোগাযোগ ও বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। টানা ভারী বর্ষণে জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। স্থবির হয়ে পড়েছে সবধরনের ব্যবসা বাণিজ্য। স্কুল কলেজসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান প্রায় ফাঁকা হয়ে আছে।

নাইক্ষ্যংছড়ির সংবাদকর্মী শামীম ইকবাল এবং আলীকদমের সংবাদকর্মী মমতাজ উদ্দিন জানান, অতি বর্ষণের কারণে নাইক্ষ্যংছড়ি ও আলীকদমে দ্রুত বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে।

এদিকে পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসকারীদের সরে যেতে জেলার সাতটি উপজেলায় প্রশাসন থেকে ব্যাপক প্রচার প্রচারণা চালানো হচ্ছে। পাহাড় ধসের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় এবং বন্যার্তদের জন্য বান্দরবান পৌর এলাকায় প্রাথমিকভাবে সাতটি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। পরিস্থিতির আরো অবনতি হলে সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোও খুলে দেওয়া হবে। বন্যা পরিস্থিতি ও পাহাড় ধস মোকাবেলায় জেলার সাতটি উপজেলায় প্রশাসন কন্ট্রোল রুম খুলেছে।

বান্দরবান পৌরসভার মেয়র মোহাম্মদ জাবেদ রেজা জানান, প্রত্যেকটি থানায় বেশ কয়েকটি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। ইতিমধ্যে সেখানে দূর্গত মানুষরা আশ্রয় গ্রহণ করছেন।

বান্দরবান সদরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম জানান, বান্দরবানের আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে আশ্রয় নেওয়া দুর্গত মানুষের জন্য পর্যাপ্ত ত্রাণ সরবরাহ করা হয়েছে।

You Might Also Like