বাতিঘরের ভূমিকায় কেউ নেই

স্বজন : ইতোমধ্যে আমরা বাংলা নববর্ষকে স্বাগত জানিয়েছি। নববর্ষ উপলক্ষে সুখ-শান্তি ও নতুন আশাবাদ ব্যক্ত করে বক্তব্য রেখেছেন অনেকেই। দেশের প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী, বিরোধী জোটের নেত্রী থেকে শুরু করে পেশাজীবী ও বুদ্ধিজীবীরা চমৎকার বক্তব্য রেখেছেন। বক্তব্য চমৎকার হলে তার একটা সাময়িক প্রভাব তো আমাদের মনোজগতে পড়ে। ফলে নববর্ষের যাত্রালগ্নে আমরা বেশ ফুরফুরে মেজাজেই আছি। কিন্তু তারপরও বলতে পারছি না, বাংলা ১৪২২ সনটা আমাদের কেমন যাবে। আমরা তো চাই নতুন সনটা ভাল যাক, জনপদের মানুষ সুখে-শান্তিতে ও নিরাপত্তার সাথে বসবাস করার সুযোগ পাক। যে যাই বলুক, এই জনপদেই আমাদের বাস করতে হবে, তাই সুখে-দুঃখে এই জনপদকে ঘিরেই আমাদের যত ভালবাসা। আমাদের পূর্ব-পুরুষরা তো এই জনপদে সমাজবদ্ধ হয়েছিলেন উন্নত মানবিক জীবন যাপনের আকাক্সক্ষায়। সেই লক্ষ্যে আমাদের পূর্ব-পুরুষরা বৃটিশ ও পাকিস্তানী শাসকদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছেন, যুদ্ধ করেছেন। আমরা এখন স্বাধীন বাংলাদেশের নাগরিক। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো, স্বাধীনতার ৪৪ বছরেও এই জনপদের মানুষ স্বাধীনতার ফসল সমভাবে ভোগ করতে পারেনি। বঞ্চনার মাত্রা অনেক বেশি। মানুষের মৌলিক অধিকার, গণতান্ত্রিক অধিকার এখন হুমকির মুখে। এইসব ক্ষেত্রে আমরা যেন ক্রমেই অন্ধকারের দিকে ধাবিত হচ্ছি। সরকার কিংবা বিরোধী দল কেউই বাতিঘরের ভূমিকা পালন করতে পারছে না। তবে সরকার তথা রাষ্ট্রের ব্যর্থতা মানুষকে বিশেষভাবে ভাবিয়ে তুলছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকায়ও জনগণ আশাবাদী হতে পারছে না।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দৌরাত্ম্য বেড়ে গেছে উল্লেখ করে মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমান এর কঠোর সমালোচনা করে বলেছেন, ‘রাষ্ট্র তুমি সংযত হও, জনবান্ধন হও।’ সম্প্রতি জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সেমিনারে পুলিশের সমালোচনা করে তিনি আরো বলেন, আপনারা যাকে আটক করেন তাকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আদালতে হাজির করুন। ৪/৫ দিন আগে ধরে আটকের পর কাগজে-কলমে দেখাবেন যে, ২৪ ঘণ্টা আগে ধরা হয়েছে, এ তামাশা আপনারা করবেন না। এটা বন্ধ করুন। মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান আরো বলেন, পেট্রলবামা কারা ফাটাচ্ছে তাদের আপনারা ধরতে পারেন না। এটা পুলিশের ব্যর্থতা। এদের বের করে আইনের আওতায় আনতে হবে। তিনি আরো বলেন, সাম্প্রতিক সংঘাতকে কোনোভাবেই রাজনৈতিক সহিংসতা বলা যাবে না। এটা জঘন্যতম ফৌজদারি অপরাধ, সে বিবেচনায় একে নির্মূল করতে হবে। তা না হলে এটি রাজনীতি এবং রাষ্ট্রের উপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলবে।

মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান যে বক্তব্য রেখেছেন, তাতে আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বাড়াবাড়ি এবং পেট্রলবোমা রাজনীতির সহিংস চিত্র স্পষ্ট হয়েছে। আমরা জানি, গণতান্ত্রিক সমাজে বহুদল ও বহুমতের অস্তিত্ব খুবই স্বাভাবিক ব্যাপার। সে কারণে তর্ক-বিতর্ক, মতবিরোধ রাজনীতিতে হতেই পারে। দুঃখজনক হলেও কখনও কখনও রাজনৈতিক সংঘাতের ঘটনাও ঘটে যায়। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে আমরা পুলিশী অভিযানের নামে যে দমন-পীড়ন ও গুলীর ঘটনা লক্ষ্য করেছি, তা গণতান্ত্রিক সরকারের কর্মকান্ডের সাথে যায় না। আবার লাগাতার হরতাল-অবরোধের সাথে পেট্রলবোমার যে নিষ্ঠুরতা লক্ষ্য করেছি, তাও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সাথে মানায় না। অবশ্য বিরোধী দল পেট্রলবোমার দায়-দায়িত্ব স্বীকার করে না। তারা বরং বলছে, বিরোধী দলের আন্দোলনকে বিতর্কিত করার লক্ষ্যে সরকারের পক্ষ থেকেই ওইসব ঘটনা ঘটানো হচ্ছে। এসব বক্তব্যের পরেও আমরা স্পষ্টভাবেই বলতে চাই, পেট্রলবোমা হামলা রাজনীতির কোনো উপাদান হতে পারে না, বরং এটি একটি ফৌজদারি অপরাধ। এই অপরাধ যারাই করবে তাদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। প্রসঙ্গত এখানে বলে রাখা ভাল যে, এসব অপরাধ দমন করতে হলে সত্যনিষ্ঠভাবে তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই পদক্ষেপ নিতে হবে। কোনো মোটিভ বা পূর্ব ধারণার ভিত্তিতে ঢালাওভাবে অভিযান চালানোর মাধ্যমে অপরাধ নির্মূল করা সম্ভব নাও হতে পারে।

সাম্প্রতিক সময়ে বিরোধী দলের আন্দোলনের মোকাবিলায় সরকারকে কঠোর অবস্থানে লক্ষ্য করা গেছে। আলাপ-আলোচনার বদলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে বিরোধী দলকে শায়েস্তা করার কৌশল অবলম্বন করেছে সরকার। এমন পরিস্থিতিতে প্রশ্রয়ের বাতাবরণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের অনেক ক্ষেত্রে পেশাগত মানদ- লঙ্ঘন করে বাড়াবাড়িমূলক তৎপরতা চালাতেও দেখা গেছে। এ কারণে দমন-পীড়নের পাশাপাশি বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের গুলী করার ব্যাপারেও পুলিশকে বেশ নিঃশঙ্কচিত্ত মনে হয়েছে। এ কারণেই হয়তো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দৌরাত্ম্যকে চিহ্নিত করে মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান বলেছেন, ‘রাষ্ট্র তুমি সংযত হও, জনবান্ধব হও’। আমরা মনে করি, জনগণের জান-মালের নিরাপত্তা ও শান্তিপূর্ণ জীবন যাপন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে রাষ্ট্রের ভূমিকাটাই প্রধান। আর এ কাজে রাষ্ট্রকে সহযোগিতা করার জন্য রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। গুরুত্বপূর্ণ এ কাজে রাজনৈতিক বিদ্বেষ কিংবা অনুরাগ ও বিরাগের মনোভাব পরিত্যজ্য। এ কাজে সাফল্য লাভ করতে হলে ন্যায়নিষ্ঠভাবে তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে সংযতভাবে অগ্রসর হওয়া প্রয়োজন। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের কাছ থেকে অনেক ক্ষেত্রে কাক্সিক্ষত তেমন আচরণ লক্ষ্য করা যায়নি। এ কারণেই রাজনৈতিক অঙ্গনের মতো নাগরিকদের প্রাত্যহিক জীবনযাপনের ক্ষেত্রেও সমস্যার মাত্রা বেড়েছে। অনাকাক্সিক্ষত এমন পরিবেশ থেকে জনগণ মুক্তি চায়। তবে এর জন্য প্রয়োজন হবে সরকার, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং বিরোধী দলের পক্ষ থেকে দায়িত্বশীল ও সংযত আচরণ। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সবাই উপলব্ধি করলেই মঙ্গল।

দেশের রাজনৈতিক চালচিত্রে জনগণ খুশি নন, বরং এখনও আতঙ্কের মধ্যেই তাদের দিন কাটছে। সরকারের দমন-পীড়ন ও বিরোধী দলের হরতাল-অবরোধ তাদের কাম্য বিষয় নয়। এমন এক রাজনৈতিক বাতাবরণে সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের ঘোষণায় জনমনে অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের একটি ক্ষীণ আশাবাদ জেগেছিল। বিশ্লেষকরাও এমন অভিমত দিয়েছিলেন যে, এই নির্বাচন সহিংস রাজনৈতিক পরিস্থিতি থেকে দেশকে গণতান্ত্রিক রাজনীতির পথে ফিরিয়ে আনতে পারে। সতর্ক আশাবাদের সাথে অনেকেই সরকারের পক্ষ থেকে দায়িত্বশীল আচরণ ও নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড রচনার শর্ত জুড়ে দিয়েছিলেন। এখন বিবেচনার বিষয় হলো, গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখার স্বার্থে সঙ্গত শর্তগুলো পূরণ হচ্ছে কিনা।

আমরা এ কথা জানি যে, একটি অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশনের সঙ্গত ভূমিকা পালন খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রশাসনের অনুরাগ ও বিরাগের ঊর্ধ্বে থাকা যেমন প্রয়োজন, তেমনি প্রয়োজন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের জন্য সমান সুযোগ-সুবিধা ও আতঙ্কমুক্ত পরিবেশ। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো, এখনও তেমন পরিবেশ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। মামলায় জর্জরিত নেতা-কর্মীদের জামিনের ব্যবস্থা করতে না পারায় সিটি নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীদের পক্ষে এখনও প্রচারণায় নামতে পারছে না বিএনপি। এমন কি মেয়র পদপ্রার্থী মির্জা আব্বাসসহ কাউন্সিলর প্রার্থীদের অনেকেই গ্রেফতার এড়াতে আত্মগোপনে রয়েছেন। সিটি নির্বাচনের আর মাত্র ক’টা দিন বাকি। এ অবস্থায় বিএনপিসহ বিরোধী দলের নেতা-কর্মীরা নির্বাচনী প্রচারে নামতে তীব্রভাবে আগ্রহী হলেও মামলার খড়গ থাকায় তারা নামতে পারছেন না। নেতা-কর্মীদের একটি অংশ আগাম জামিনের জন্য চেষ্টা-তদবির করছেন, তবে তাতে কোনো ফল হচ্ছে না। মামলা, গ্রেফতার আতঙ্ক এবং মামলা না থাকলেও ‘অজ্ঞাতনামা আসামীর’ ফাঁদে পড়ার আশঙ্কায় তিন সিটি বিশেষ করে ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনে মাঠে নামার ক্ষেত্রে বিএনপি তথা বিরোধী দলের প্রার্থীরা হুমকির মুখে রয়েছেন। বিএনপি’র নেতারা বলছেন, ২০ দলীয় জোটের আন্দোলন থামাতে সরকার সিটি করপোরেশন নির্বাচন দিয়েছে। আবার বিএনপি যাতে নির্বাচনে ভালভাবে অংশ নিতে না পারে সেজন্য গ্রেফতার, হয়রানি, জামিনের বাধাসহ ভীতিকর পরিস্থিতি বজায় রাখতে চইবে- এমন আশঙ্কা আমাদের ছিল। এই কারণে দলের পক্ষ থেকে দুই দফায় প্রধান নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে দেখা করে কেন্দ্রীয় কার্যালয় খুলে দেয়া, নেতা-কর্মীদের হয়রানি না করা, নির্বাচনে সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার দাবী জানানো হয়েছিল। পাশাপাশি প্রার্থী এবং প্রচারে অংশ নিতে দলের নেতা-কর্মীদের জামিনের দাবীও জানিয়েছিল। কিন্তু তাতে কোনো কাজ হয়নি। উল্লেখ্য যে, তফসিল অনুযায়ী গত ৭ এপ্রিল থেকে নির্বাচনী প্রচারের সুযোগ শুরু হয়। আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীরা পুরোদমে প্রচারে থাকলেও বিএনপি তথা বিরোধী দলের নেতারা সেভাবে মাঠে নামতে পারছেন না। এ প্রসঙ্গে বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘সরকার চায় না বিএনপি নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় থাকুক। আমরা আশা করেছিলাম, দ-িত হননি এমন প্রার্থী এবং প্রচারে অংশ নিতে নেতাদের জামিন দেয়া হবে। সেটি তো হচ্ছেই না, উল্টো আজ (শুক্রবার) শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খানের বাসায় পুলিশ তল্লাশী করেছে। বিএনপি’র সহ-দফতর সম্পাদক শামীম রহমান জামিনে মুক্তি পেয়ে বের হওয়ার পর আবার তাকে আটক করা হয়েছে। একজন প্রার্থীকে কমিশন থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সবের অর্থ কী?’ বর্তমান সময়ে তিনটি সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে পর্যবেক্ষক মহল খুব গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন। কারণ এর সাথে গণতান্ত্রিক পরিবেশ এবং দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অনেকাংশে নির্ভরশীল। কিন্তু সরকার এবং নির্বাচন কমিশনের আচরণে গ্রহণযোগ্য সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ব্যাপারে জনগণ তেমন আশাবাদী হতে পারছে না। এ নিয়ে পত্র-পত্রিকায়ও লেখালেখি হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশ সৃষ্টিতে কেন আইন অনুযায়ী যথাযথ ভূমিকা পালনে সমর্থ হচ্ছে না সেটা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে অনেকে মনে করছেন। ভবিষ্যতে সব ধরনের নির্বাচন দলীয় সরকারের অধীনে করতে চাইলে নির্বাচন কমিশনকে অবশ্যই একটি আস্থাভাজন ও সক্ষম প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতাসীনদের বেআইনী কর্মকা- রুখে দিতে কঠোর মনোভাব প্রদর্শন প্রয়োজন ছিল। কিন্তু তারা তেমন উদাহরণ সৃষ্টি করতে পারেননি বরং আপোষকামিতার পরিচয় দিচ্ছে।

আমরা মনে করি, দেশ ও গণতান্ত্রিক স্বার্থে আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সরকারকে যেমন সংযত থাকতে হবে, তেমনি সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনকেও যথাযথ দায়িত্ব পালন করতে হবে। এই লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন দৃঢ় অবস্থান নিলে প্রার্থীসহ জনগণ তাদের পাশেই থাকবে। আমরা নির্বাচনের ক্ষেত্রে সরকার, প্রশাসন, ইসি, প্রার্থীসহ সংশ্লিষ্ট সবার কাছ থেকে সঙ্গত ভূমিকা আশা করছি। বাংলা নববর্ষে নতুন আশাবাদের পর নির্বাচন কমিশন ও সরকারের দায়িত্ব আরো বেড়ে গেছে। নববর্ষের শুরুতে তিনটি সিটি করপোরেশন নির্বাচনে তাদের ভূমিকা জনগণ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে। সেই পর্যবেক্ষণে তারা উত্তীর্ণ হতে পারে কিনা- সেটাই এখন দেখার বিষয়।

You Might Also Like