হোম » বাঙালি মুসলমানের স্বাতন্ত্র্য ও ইউনেস্কোবিবিধ প্রসঙ্গ

বাঙালি মুসলমানের স্বাতন্ত্র্য ও ইউনেস্কোবিবিধ প্রসঙ্গ

মাসুদ মজুমদার- Thursday, February 23rd, 2017

আবুল মনসুর আহমদ বাঙালি মুসলমানের সাংস্কৃতিক শেকড় সন্ধান করেছেন। আহমদ ছফা চেয়েছেন বাঙালি মুসলমানের মনটা ছুঁয়ে দেখতে। বাংলা সাহিত্যের সিপাহসালারের মতো আল মাহমুদ স্পষ্ট করে বলে দিলেন ঢাকা বাংলা ভাষার রাজধানী। হুমায়ূন আহমেদ কলকাতাকেন্দ্রিক বাংলা গদ্যের ‘বনেদি’ বাসস্থানে সশব্দে ঢিল ছুড়লেন না, নীরবে-নৈশব্দে গড়ে উঠল রক্ত-মাংসের মানুষের ঢাকাকেন্দ্রিক সাহিত্যমানস। পূর্ব বাংলার তথা ঢাকার পাঠকের রুচি পাল্টে দেয়া এবং পাঠক সৃষ্টির ক্ষেত্রে একটি গুণগত ও বৈপ্লবিক পরিবর্তন লক্ষ করা গেল।
আবুল মনসুর আহমদ কাজটা শুরু করেছিলেন পাকিস্তান কাঠামোর ভেতর। বইটি প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল ‘পাক-বাংলা কালচার’ নাম নিয়ে। স্বাধীনতার পর সেই নাম পাল্টে রাখা হয় ‘বাংলাদেশের সংস্কৃতি’। বইটির বিষয়বস্তু বুঝতে ত্রুটি না করলে আবুল মনসুর আহমদ চেয়েছিলেন ইসলামাবাদকে অর্থাৎ পাকিস্তানের শাসকদের এই বার্তাটা দিতেÑ বাঙালি মুসলমানের শেকড়টা মাটির অনেক গভীর পর্যন্ত প্রোথিতÑ এর সাংস্কৃতিক রূপময়তা ও স্বাতন্ত্র্য সবটুকু নিজেদের বিশ্বাসবিধৌত। এই বার্তাটি এখন আমাদের ভারতীয় অর্থাৎ পড়শিরাও নিতে পারেন। যাদের নাম উল্লেখ করে এই নিবন্ধ ধরনের লেখাটি শুরু করেছি, তারা কেউ মৌলবাদী নন, ধর্মান্ধ নন, সাম্প্রদায়িক নন, বরং তাদের প্রত্যেকের কপালে প্রগতিশীলতার চিহ্নটি মুছে ফেলার সাধ্য কারো নেই। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা তাদের জীবনবোধকে গভীর করেছে। পরজীবী বুদ্ধিজীবীদের মত পাল্টে দেয়নি।
প্রসঙ্গটা টেনেছি ইউনেস্কোর অনধিকার চর্চা ও বাগাড়ম্বরের কথা স্মরণ করে। এত দিন পর জানলাম ইউনেস্কো জাতিরাষ্ট্রের সংস্কৃতির স্বরূপও ঠিক করে দেয়। তাদের ভাষায় মঙ্গল শোভাযাত্রা নাকি আমাদের ঐতিহ্যের স্মারক। ঐতিহ্য আমাদের, স্মারক ঠিক করে দিচ্ছে ইউনেস্কো, বলিহারি। মঙ্গল শোভাযাত্রা নিয়ে আমার কোনো গা-জ্বালা নেই। মনোদাহও নেই। এ ধরনের শোভাযাত্রা বৈশাখীর শহুরে ধারায় যুক্ত হতেই পারে। যারা ‘মঙ্গল’ ভাববেন তারা যাবেন। যারা ভিন্ন মত নিয়ে থাকবেনÑ তাদের ব্যাপারেও আমরা মন্তব্য প্রতিক্রিয়াহীন। হালে পয়লা বৈশাখ নগরে যে সুরতে পালিত হয় তা কি বাংলার মানুষের প্রাণছোঁয়া মাটির সংস্কৃতির সাথে যায়! গ্রামের ছেলে, বড় হয়েছি গ্রামে, বেড়ে উঠেছি গ্রামীণ মাটির সোঁদা গন্ধমাখা মফস্বল শহরে। ক্রমান্বয়ে অর্থনৈতিক রাজধানী চট্টগ্রাম হয়ে ঢাকায় পা রেখেছি। কলা ভবন চত্বরে বটতলা, চারুকলার বকুলতলা চিনেছি স্বাধীনতার আগেই। প্রায় ছ’টা বছর কলা ভবন আর কার্জন হলের সবুজ চত্বরে কাটিয়েছি। দিনমান বটতলা, টিএসসি আর মল চত্বর এলাকায় চষে বেড়িয়েছি। নব্বইয়ের দশকের আগে ও শুরুতে দু-দুটো ডাকসু নির্বাচনে অংশ নিয়েছি। ভোট দিয়েছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস জানি। কৃষক বাংলার জন্য এই বিশ্ববিদ্যালয় ছিল আশীর্বাদ। বিশ্ববিদ্যালয়টি বঙ্গভঙ্গ রদ করার জন্য সান্ত্বনা পুরস্কার পেয়েছিল পূর্ব বাংলার মানুষ। আমাদের মুক্তবুদ্ধির চর্চা, উপনিবেশবাদবিরোধী আন্দোলনের ভ্রƒণ সৃষ্টি, ভাষা আন্দোলন, শিক্ষা আন্দোলন, সর্বশেষ গণ-অভ্যুত্থানের পথ ধরে স্বায়ত্তশাসনের আন্দোলনের সূতিকাগার ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। মুক্তি আন্দোলনের পথে হেঁটে মুক্তিযুদ্ধ, তারপর স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয়Ñ কোথাও ‘মঙ্গল’ শোভাযাত্রা নেই। মূর্তি-ভাস্কর্য আমাদের প্রেরণার উৎস নয়। সেটা গ্রিক হোক আর ইরানি-তুরানি যা-ই হোক। রাক্ষস-খোক্ষস-অসুর হয়ে কোনোকালে আমাদের প্রেরণা জোগায়নি। তাহলে ইউনেস্কো ঐতিহ্যের তালিকাটা বানাল কিভাবে?
দোয়েল-কোয়েল আর শালিকের বাংলাদেশে ছায়াঢাকা কোকিলডাকা পরিবেশে এটিই আমাদের স্বপ্নপুরি। এই দেশ শহীদ-গাজির বাংলাদেশ। অলি আল্লাহর বাংলাদেশ। মুনী-ঋষির বাংলাদেশ। ফকির-বাউলের বাংলাদেশ। লালন-হাছনের বাংলাদেশ। জসীমউদ্দীনের বাংলাদেশ। কৃষক-কৃষাণীর বৈচিত্র্যময় জীবন, ভাটিয়ালি, ভাওয়াইয়া, জারি-সারি, পল্লীগীতির সুরের মূর্ছনা এবং হরেক রকম দেশজ খেলা ও মেলাই আমাদের বৈশাখ। নগরজীবনে পান্তা-ইলিশের ভড়ং যেমন কৃষকের সাথে পরিহাস, তেমনি নগরকেন্দ্রিক বাহুল্যগুলোও বহুজাতিক কোম্পানির আরেক ভড়ংÑ যা কিনা বৈশাখের নামে অনাচার কিংবা বাণিজ্যিক অত্যাচার। তার পরও সব হোক। আপত্তি নেই। ধরনটা আরোপ করার মধ্যে আপত্তি। কারণ এর সাথে শুধু ভড়ং নেই, পরিহাস আছে। বহুজাতিক কোম্পানির বাণিজ্যিক স্বার্থ আছে। বস্তুবাদের আগ্রাসী ছোবল আছে। জাতির নামে এই বজ্জাতি না হওয়াই ভালো। আমরা মুসলিম-হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান সবাই মিলে বাঙালি। আমাদের বাঙালিয়ানার মধ্যে হিন্দুধর্মীয় সংস্কৃতির প্রভাব ও নিদর্শন অনেক কিছু আছে। মুসলিম সংস্কৃতির ছায়া পড়েছে সর্বত্র। খ্রিষ্টানদের অনেক কিছু আছে। বৌদ্ধরাও অবদান রেখেছেন। এই জনপদে পৌত্তলিক এবং একত্ববাদী একই সাথে বসবাস করে। কাঁসার শব্দ, উলুধনি, গির্জার ঘণ্টা যেমন সাধারণ মানুষ শোনে, তেমনি আজানের ধ্বনিও কর্ণকুহরে প্রবেশ করে। একই সমাজে সবার অবস্থান। যে যার মতো ধর্মাচার পালন করে, কেউ বিকৃতাচার চায় না। বস্তুবাদের গহ্বরে তলিয়ে যেতে চায় না। বহুজাতিক কোম্পানির বণিক স্বার্থের কাজে স্বকীয়তা বিসর্জন দিতে চায় না। মানতেই হবে নিরঙ্কুশগরিষ্ঠ মানুষ মুসলিম। তাদের প্রভাব অন্যদের প্রভাবকে ছাপিয়ে যায়Ñ যাবেÑ এটাই স্বাভাবিক। ভারতের রাজ্যগুলোর দিকে তাকান, সবক পাবেন। তাদের চ্যানেলগুলো দেখেন, উপমা পাবেন। তাহলে ইউনেস্কো আমাদের জাতীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সংজ্ঞা ঠিক করে দেয় কিভাবে?
একটা নতুন তথ্য বিবেককে নাড়া দিয়েছে। মনে হয়েছে আহলে কিতাবিদের ঘুম ভাঙছে। তারা বস্তুবাদ ও বহুজাতিক বণিকের সৃষ্ট বিকৃতাচারগুলো চিহ্নিত করার প্রয়াস পাচ্ছে। না হলে এবার বড়দিনের মৌলিক অনুষ্ঠানে ক্যাথলিক খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের সর্বোচ্চ ধর্মীয় গুরু পোপ ফ্রান্সিস বড়দিনকে বস্তুবাদের কাছে জিম্মি বলতেন না। তিনি মনে করেনÑ বস্তুবাদের দাপটে বড়দিনের সত্যিকারের তাৎপর্য আড়াল হয়ে যাচ্ছে। তিনি আরো নমনীয়তা প্রত্যাশা করেন। পোপ মনে করেন, এখনকার মানুষের বাণিজ্যিক আলোকসজ্জা ঐশী আলোকে ঢেকে দিচ্ছে। উপহার নিয়ে মাতামাতি সুবিধাবঞ্চিতদের আড়াল করছে। তিনি মধ্যপ্রাচ্যে বিদ্বেষমূলক প্রতিশোধ বর্জন করতে আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি অভিবাসী সমস্যার মানবিক সমাধান চান। যুদ্ধ ও রক্ত ঝরানোর পথ থেকে সরে আসার ডাক দিয়েছেন। শিশুদের দুর্ভোগ, আলেপ্পোর নরকযন্ত্রণা ও হত্যা-উৎসব তাকে ব্যথিত করে। তার ভাষায় যিশু নিজেও একজন অভিবাসী ছিলেন। কেউ ইচ্ছে করলে ২৫ ডিসেম্বর ’১৬ বড়দিন উপলক্ষে পোপের দেয়া পূর্ণবক্তব্যটি বিবিসির বরাতে দেখতে ও শুনতে পারেন।
একটা কথা বারবার উচ্চারণ করি। সুযোগ পেলেই তুলে ধরি। ধার্মিক লোকেরা এখন পর্যন্ত মন্দের ভালো মানুষ। হোন তিনি হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান কিংবা মুসলিম। বকধার্মিক, ঠগ, শঠ ও প্রবঞ্চকদের কথা বলছি না। ধর্মের নামে ভান কিংবা ভড়ংকারীদেরও বিবেচনায় নিচ্ছি না। উগ্রবাদী চরমপন্থীদেরও উপমা হিসেবে টানছি না। আবার ধর্মের নামে উন্নয়ন, অগ্রগতি ও প্রগতির চাকা যারা থামিয়ে দিতে চায়, তাদেরকেও ধার্মিক ভাবছি না। এটাও মানছি ধার্মিকজনের বাইরেও ভালো লোক আছেন। ধার্মিকজনের বাইরে ভালো লোক নেই তা বলছি না।
আমাদেরকে যারা সংস্কৃতির নামে ভিন্ন কিছুর বুঝ দেন, সংস্কৃতির নামে বস্তুবাদ গেলাতে চান, বহুজাতিক কোম্পানির টোপ হজম করতে বলেনÑ তাদের নিকুচি করি। ভ্যাটিকান থেকে দেয়া পোপের বক্তব্য আর ঢাকার জুমার কোনো খতিবের খুতবা, অথবা হজের খুতবার মধ্যে কোনো বড় অমিল দেখি না। যদিও একটির সাথে আরেকটির তুলনা করার ধৃষ্ঠতা দেখাতে যাবো না। দালাই লামার ভাষণ আর দেবশাস্ত্রীর বক্তব্যেও একই সুর দেখতে পাই। তাহলে সাম্প্রদায়িক অসহিষ্ণুতা উগ্রবাদের ছোবল আর যুদ্ধের বিভীষিকার বিরুদ্ধে আরাকান থেকে আলেপ্পো, ভারত থেকে ইসরাইল, কাশ্মির থেকে ফিলিস্তিনের মানুষগুলো রেহাই পায় না কেন? এ ক্ষেত্রে একটা অসঙ্গতি স্পষ্ট। পোপ যা বলেন আমেরিকার ট্রাম্প বলেন উল্টোটা, ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী এবং ভারতের নরেন্দ্র মোদি বলেন ধর্মীয় উন্মাদনার কথা। সেখানে রাজনীতিও নেই, ধর্মও নেই, আছে শাসন-শোষণের বাহাদুরি। সমস্যাটা এখানেই। একজন মহাকবি বলেছেন, রাজনৈতিক জীবন থেকে ধর্মাচার পৃথক করে দিলে বর্বরতা ছাড়া আর কিছুই থাকে না। সম্ভবত এ কারণেই পোপ ফ্রান্সিসের বক্তব্যের ঠিক বিপরীত মেরুতে অবস্থান করেন ট্রাম্প, ক্যামেরন, থেরেসা মে, পুতিন ও নেতানিয়াহুরা। এরাই আবার বাইবেলে হাত রেখে শপথ নেন। ভাবুন, আমাদের দেশে কুরআন ছুঁয়ে শপথ নিলে একটি মহল কী তাণ্ডবই না বাধাবে। যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের চেয়েও তারা অসাম্প্রদায়িক, প্রগতিশীল? না। এটা তাদের ফোবিয়া, রোগ।
আমরা নৃতাত্ত্বিকভাবে বাঙালি। বিশ্বাসগত পরিচয় মুসলিম-হিন্দু-বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান। আমাদের দেশে আরো অনেক ুদ্র নৃগোষ্ঠী রয়েছে। সবাই মিলে আমরা বাংলাদেশী। আমাদের একটি পরিচয় অন্য দিকে আড়াল করে না। অবজ্ঞা করে না। অস্বীকার করে না। জাতিগত বৈচিত্র্যের এই ধারাই আমাদের ধার্মিক বানিয়েছে, সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্পের ভেতর লীন হতে দেয়নি। আমাদের ধর্মই আমাদের উগ্রবাদী হতে দেয় না। অন্যের ধর্মীয় অধিকার আমানত ভাবতে উদ্বুদ্ধ করে। আমরা বাড়াবাড়ির পথে যতটুকু হাঁটি তার সবটুকু অধর্ম। পুরোটুকু আমাদের জাতিসত্তা ও ঐতিহ্যের সাথে সাংঘর্ষিক। সাধারণ মানুষ ধর্ম ব্যবসায় জড়ায় না। রাজনীতিবিদেরা ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করেন দলের স্বার্থে, ভোটের স্বার্থে। তারাই রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির জন্য সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বাধায়। সর্বশেষ রামু ও উত্তর জনপদে সাঁওতালদের সাথে আচরণ এবং নাসিরনগরের ঘটনাও এর সাক্ষী।
এই লেখার উদ্দেশ্য ইউনেস্কোর ভূমিকাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা নয়। ইউনেস্কোর অনেক কাজ আমরা সমর্থন করি, পছন্দ করি এবং তাদের ভূমিকার প্রসারও কামনা করি। তবে জাতিসত্তার স্বরূপ নির্ণয় ও কোনো জাতির ঐতিহ্য চিহ্নিত করার দায়িত্ব তাদের নয়। জাতি যেসব ঐতিহ্য নিজেদের মনে করে তা তুলে ধরার উদ্যোগ নিলে সেটি আলাদা কথা। এই লেখায় ভ্যাটিক্যানের প্রসঙ্গ এসেছেÑ ক্যাথলিক প্রীতির জন্য নয়। আমরা জানি খ্রিষ্টান সম্প্রদায় বহুধা বিভক্ত। প্রটেস্ট্যান্ট হোক আর ক্যাথলিক হোকÑ আমরা সামগ্রিক অর্থে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়কে দেখি। অন্যান্য ধর্ম সম্পর্কেও আমাদের অভিমত সামগ্রিক অর্থে, খণ্ডিত অর্থে নয়। আমাদের অজানা নয় প্রত্যেকটি ধর্মবিশ্বাস কালের পরিক্রমায় নানা মত ও উপদলে বিভক্ত। এই যুগটা আন্তঃধর্ম সমঝোতা ও বোঝাপড়ার যুগ। তাই আন্তঃধর্ম সংলাপের নানা আয়োজন লক্ষণীয়। একটি গোষ্ঠীর ভেতর ধর্মবিশ্বাস নিয়ে অসহিষ্ণুতা থাকলেও আমাদের নেই। আমাদের কাছে বিশ্বাস যার যার দেশটা সবার।
masud2151@gmail.com

সর্বশেষ সংবাদ