বাংলাদেশ সংকট নিয়ে ব্রাসেলসে ২৬ ফেব্রুয়ারি বসছে ইইউ

বাংলাদেশের গণতন্ত্র, চলমান রাজনৈতিক সংকট, মানবাধিকার পরিস্থিতি, বাকস্বাধীনতা, নাগরিক অধিকার, বিচারবহির্ভূত হত্যা ও গণতন্ত্রের ভবিষ্যত নিয়ে করণীয় বিষয়ে বৈঠকে বসছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন।

আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) ব্রাসেলসে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে বলে দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে।

বাংলাদেশ সংকট এজেন্ডাই প্রধান থাকবে বৈঠকটিতে। বাকি এজেন্ডাগুলো শুধু অনুমোদন ও বিবৃতি দেয়ার জন্য পাস করা হবে বলে জানা গেছে।

এসময় সমপ্রতি বাংলাদেশ ঘুরে যাওয়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের মানবাধিকার বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্যরা তাদের পর্যালোচনা ও মূল্যায়ন রিপোর্ট উপস্থাপন করবেন।

বৈঠকে বাংলাদেশের সামগ্রিক অবস্থার বিষয়ে সরেজমিন অভিজ্ঞতা, পর্যালোচনা এবং তাদের মূল্যায়ন প্রতিবেদন তুলে ধরবেন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেয়া ক্রিস্টিয়ান ড্যান প্রিদা।

এছাড়া সফরে আসা প্রতিটি সদস্যও বাংলাদেশ সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরবেন বলে জানা গেছে। এ সময় আলোচিত হবে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের বক্তব্য। পাশাপাশি আলোচনায় প্রাধান্য পাবে সংকট সমাধানে সুশীল সমাজ ও কূটনীতিকদের অবস্থান।

গত ১৬ থেকে ২০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাংলাদেশ সফর করে গেছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের মানবাধিকার বিষয়ক উপকমিটির একটি প্রতিনিধি দল।

এ সময় ১৯ ফেব্রুয়ারি প্রতিনিধিদলের প্রধান ক্রিস্টিয়ান ড্যান প্রিদা বলেন, মানবাধিকারের উদ্বেগজনক পরিস্থিতির কারণেই আমরা বাংলাদেশে এসেছি।

নিখোঁজ ও বিচারবহির্ভূত হত্যার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সফর শেষে প্রতিনিধি দলটি বলেছে, শক্তিশালী গণতন্ত্রের জন্য বাকস্বাধীনতা, রাজনৈতিক ও নাগরিক অধিকারের প্রতি অবশ্যই শ্রদ্ধাবোধ থাকতে হবে।

গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করতে হবে। একই সঙ্গে যেকোন পরিস্থিতেই মৃত্যুদন্ডাদেশের বিরোধিতা করে তাদের আগের অবস্থানের পুনরাবৃত্তি করে দলটি।

প্রতিনিধি দলে আরো ছিলেন- ক্যারোল কারস্কি, ইলিনা ভেলেন্সিয়ানো ও জোসেফ ওয়াইডেনজার। সঙ্গে ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত পিয়েরে মায়াদুও।

বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক সংকট সমাধানের জন্য প্রতিনিধিদলটি বৈঠক করেছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সাথে।

সফরকালে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী, রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী নেতা, পরিবেশবিদ, সংখ্যালঘু সমপ্রদায়, আন্তর্জাতিক ও দেশীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, স্পিকার ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সাথে বৈঠক করেছে।

সহিংসতা বন্ধে সরকার ও বিরোধীদলকে অবিলম্বে আন্তর্জাতিক মহল ও সুশীল সমাজের পরামর্শ গ্রহণ করার জন্য তাগিদ দেয়া হয়েছে প্রতিনিধি দলের পক্ষ থেকে।

এসময় বাংলাদেশে নিখোঁজ ও বিচারবহির্ভূত হত্যার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পার্লামেন্টের প্রতিনিধি দল।

বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক সংকট, মানবাধিকার পারিস্থিতির সরেজমিন পর্যবেক্ষণ, রোহিঙ্গা ও শ্রম অধিকার বিষয়ে জানতে বাংলাদেশ সফর করেছিল ইইউ পার্লামেন্টের প্রতিনিধি দলটি।

You Might Also Like