বাংলাদেশ ব্যাংক স্পর্ধা দেখিয়েছে, ব্যবস্থা নেয়া হবে: অর্থমন্ত্রী

রিজার্ভ থেকে অর্থ চুরি হওয়ার বিষয়টি সরকারকে না জানানোয় বাংলাদেশ ব্যাংকের ওপর ক্ষুব্ধ অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তিনি বলেছেন, এ ঘটনা না জানিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক স্পর্ধা দেখিয়েছে। এর বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে।

রবিবার অর্থ মন্ত্রণালয়ে এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন অর্থমন্ত্রী।

যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব থেকে গত ৪ ফেব্রুয়ারি সুইফট মেসেজিং সিস্টেমে হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে ৮১ মিলিয়ন ডলার ফিলিপাইনের একটি ব্যাংকে সরিয়ে ফেলা হয়। ফিলিপাইনের ডেইলি ইনকোয়ারার ২৯ ফেব্রুয়ারি এ নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করলে আলোচনার ঝড় ওঠে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক শুরুতেই অর্থ চুরির বিষয়টি টের পেলেও তা গোপন রাখে। তারা সরকারকে কিছু না জানিয়ে বিষয়টি সামলানোর চেষ্টা করে। অর্থমন্ত্রী বিষয়টি জানতে পারেন প্রায় এক মাস পর, পত্রিকা পড়ে।

এ ঘটনায় বেশ রুষ্ট হন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, “আই অ্যাম ভেরি আনহ্যাপি অ্যাবাউট হ্যান্ডলিং অব দ্য ম্যাটার বাই বাংলাদেশ ব্যাংক, ভেরি ইনকম্পিটেন্ট।”

একে তিনি ধৃষ্টতা হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, “বাংলাদেশ ব্যাংক হ্যাড দ্য অডাসিটি নট টু ইনফর্ম মি। আই অ্যাম সার্টেনলি গোয়িং টু টেক অ্যাকশন্স অন দিস অডাসিটি অব বাংলাদেশ ব্যাংক।”

কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে জানতে চাইলে মন্ত্রী জানান প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর এ ব্যাপারে জানানো হবে। মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে রবিবার তার একটি সভা রয়েছে। সেই সভার পর সন্ধ্যায় বা সোমবার সকালে বিবৃতি দিয়ে তিনি এ ব্যাপারে জানাবেন।

অর্থ চুরির বিষয়টি কেন্দ্রীয় ব্যাংক চেপে রাখায় ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব এম আসলাম আলমও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। রবিবার বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে এম আসলাম আলম সাংবাদিকদের বলেন, “বাংলাদেশ ব্যাংকের উচিত ছিল ঘটনাটি পরিচালনা পর্ষদ ও অর্থ মন্ত্রণালয়কে জানানো।” মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের জরুরি সভা ডাকা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

বাংলাদেশ ব্যাংক গত শুক্রবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সাইবার আক্রমণে ৩৫টি ভুয়া পরিশোধ নির্দেশের মাধ্যমে ৯৫ কোটি ১০ মার্কিন ডলার বা প্রায় ৭ হাজার ৬০৮ কোটি টাকা স্থানান্তরের প্রস্তাব পাঠানো হয়। তার মধ্যে ৩০টি নির্দেশ আটকানো সম্ভব হয়। তাতে ৮৫ কোটি ডলার বেহাত হওয়া প্রতিহত করা গেছে।

তবে পাঁচটি পরিশোধ নির্দেশের বিপরীতে ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার বা প্রায় ৮০৮ কোটি টাকা ফিলিপাইন ও শ্রীলঙ্কায় চলে যায়। তার মধ্যে শ্রীলঙ্কা থেকে ২ কোটি ডলার উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। ফিলিপাইনে যাওয়া ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার বা প্রায় সাড়ে ৬০০ কোটি টাকা উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

You Might Also Like