বাংলাদেশ দূতাবাসে মুজিবনগর দিবস পালিত

শিব্বিরি আহমেদ : যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসির বাংলাদেশ দূতাবাসে ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস পালন করা হয়। দিবসটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে অনন্য এক দিন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ১৭ এপ্রিল মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলা গ্রামের আ্ম্রকাননে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে শপথগ্রহণ করে। পরে এই বৈদ্যনাথতলাকেই ঐতিহাসিক মুজিবনগর নামকরণ করা হয়। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাতে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির ওপর বর্বরোচিত হামলা চালানোর পর একই বছরের ১০ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্র রূপে বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠা ঘোষণা করা হয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম সরকার। মুজিবনগর সরকারের আইনগত ও সাংবিধানিক ভিত্তিতে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা আদেশ ঘোষণার মাধ্যমে সরবরাহ করেছিলেন।

দিবসটি উপলক্ষ্যে দূতাবাসে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয় এবং জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানানো হয়। আলোচনায় রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বাণী পাঠ করেন ইকোনমিক মিনিষ্টার মোঃ শাহাবুদ্দিন পাটোয়ারী ও প্রতিরক্ষা অ্যাটাচে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মইনুল হাসান। দিনটির তাৎপর্য তুলে ধরে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশ রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ জিয়াউদ্দীন, ও প্রেস মিনিষ্টার শামীম আহমেদ।

আলোচনায় রাষ্ট্রদূত জিয়াউদ্দিন বাংলাদেশের অভ্যূদয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অনন্য অবদানের কথা গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। এসময় তিনি নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত মুজিবনগর সরকার গঠনের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন এবং বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে জাতীয় চার নেতার অবদান এর কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন। মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত লক্ষ্য অর্জনের জন্যে অভ্যন্তরীণ এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে কর্মকান্ডের সমন্বয়ের কঠিন দায়িত্ব পালন বিশেষ করে বাংলাদেশের পক্ষে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ের ব্যাপারে মুজিবনগর সরকারের ভূমিকার কথা তিনি উল্লেখ করেন।

এ প্রসঙ্গে রাষ্ট্রদূত জাতির পিতার স্বপ্ন “সোনার বাংলা”প্রতিষ্ঠার জন্য সকলকে এগিয়ে আসার উদাত্ত আহবান জানান। তিনি একই সাথে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে চলমান উন্নয়ন অভিযাত্রা সম্পর্কেও আলোকপাত করেন।

আলোচনা সভায় প্রবাসী বাংলাদেশী এবং দূতাবাসের কর্মকর্তা, কর্মচারীবৃন্দ অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন। দেশের অব্যাহত সমৃদ্ধি ও সকল শহীদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ দোয়ার মধ্য দিয়ে আলোচনা সভা সমাপ্ত হয়।

You Might Also Like