Uncategorized

বাংলাদেশে সেনা মোতায়েন ও কারফিউ জারিতে প্রস্তুত সরকার

বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের ঝুঁকি ক্রমশ বাড়ছে। এদিকে করোনায় আরও ৩ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এই প্রেক্ষিতে সরকার করোনা মোকাবেলার জন্য সর্বোচ্চ প্রস্ততি নিচ্ছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালিক বলেছেন, সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত রয়েছে সরকার। পরিস্থিতি মোকাবেলায় যা যা করা দরকার, তার সবই সরকার করতে পারবে।

আজ একনেকের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা করোনা মোকাবেলার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন এবং এর ব্যাপারে করণীয় সবই করবে বলে জানিয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে যে, করোনা মোকাবেলার জন্য সরকার যে ব্যবস্থাগুলো নিচ্ছে তা হলো-

অস্থায়ী হাসপাতাল নির্মাণ: টঙ্গী বিশ্ব ইজতেমার স্থানে যে বিশাল মাঠ রয়েছে, সেই মাঠে অস্থায়ী হাসপাতাল নির্মাণ করা হবে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, প্রয়োজনে সেই হাসপাতালে সন্দেহভাজন করোনা আক্রান্তদের রাখা হবে। পরিস্থিতি বিবেচনায়িএটা তদারকির জন্য সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হবে।

একইভাবে কয়েকটি হাসপাতালকে শুধুমাত্র করোনা হাসপাতালের জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে। সেই হাসপাতালগুলোতে শুধুমাত্র করোনা রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হবে।

শাটডাউন বা কারফিউ: এছাড়াও সরকার শাটডাউন বা সীমিত আকারে কারফিউ জারি করার কথা ভাবছে বলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন। যেসব এলাকাগুলোতে বিদেশফেরতরা ছড়িয়ে পড়েছে, সেসব এলাকায় লকডাউন বা কারফিউ জারি করা হবে, যাতে তারা ঘর থেকে বের হতে না পারে।

তবে সবকিছু নির্ভর করছে করোনা পরিস্থিতি কদ্দূর গড়ায় তার ওপর। সরকারের একজন নীতিনির্ধারক বলেছেন যে আমরা সবকিছুর জন্য প্রস্তুত। তবে যখন যেটা প্রয়োজন হবে তখনই সেটা করা হবে।

সারাদেশে করোনা পরীক্ষা: স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সারাদেশেই করোনা পরীক্ষার ব্যবস্থা করেছে। এতোদিন পর্যন্ত করোনা পরীক্ষার শুধুমাত্র আইইডিসিআরের তত্ত্ববধানে অনুষ্ঠিত হতো। ফলে ঢাকার বাইরে করোনা পরীক্ষার কোনো ব্যবস্থা ছিল না। কিন্তু আজ থেকে ঢাকার বাইরেও পরীক্ষা করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

বিশেষ করে যেসব এলাকাতে ইতালি এবং ইউরোপফেরতরা এখন দেশের বিভিন্ন প্রত্যন্ত অঞ্চলে অবস্থান করছেন। তাদের এবার করোনা পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হবে।

পর্যাপ্ত কিট: ম্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেছেন, আজই বাংলাদেশে পরীক্ষার জন্য ২ হাজার কিট আসছে। এরপর আর কিট নিয়ে কোনো সমস্যা হবে না। কাজেই সারাদেশে সন্দেহভাজনদের করোনা পরীক্ষা করা হবে।

এছাড়াও সরকার গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রকেও কিট উদ্ভাবনের অনুমতি দিয়েছে। এর ফলে কিট সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রেও একটি বড় ধরনের অগ্রগতি হবে বলেও বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

পারসোনাল প্রটেকশন ইকুইপমেন্ট: স্বাস্থ্যকর্মীদের পারসোনাল প্রটেকশন ইকুইপমেন্ট (পিপিই) হলো একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এর অভাবে অনেক চিকিৎসকই আতঙ্কে সাধারণ জ্বরের রোগীদের স্বাস্থ্যপরীক্ষা করতে অনীহা প্রকাশ করছেন। এটা যেন না হয় সেজন্য সব হাসপাতালে পিপিই যেন নিশ্চিত থাকে সেই ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পিপিই দিয়ে রোগীদের পরীক্ষা করা এবং একটি সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

গুজবের বিষয়ে কঠোর: এছাড়া গুজব, আতঙ্ক ছড়ানোর ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থানে রয়েছে সরকার। করোনা নিয়ে বিভিন্ন গুজব ছড়ানো হচ্ছে। আজ র‌্যাবের এক সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়েছে, ইতিমধ্যে দুজনকে আটক করা হয়েছে, ৫০ জন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নজরদারিতে রয়েছে। প্রয়োজনে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সবধরনের গণজমায়েত বন্ধ: শুধুমাত্র সভা-সমাবেশ নয়, সব ধরনের গণজমায়েত বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ ব্যাপারে খুব শিগগিরই আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দেওয়া হতে পারে।

এছাড়াও যে উদ্যোগটি নেওয়া হয়েছে তা হলো আপদকালীন তহবিল। আজকে প্রধানমন্ত্রী তথ্যমন্ত্রী এবং পরিকল্পনামন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। করোনার পরিস্থিতি যদি বেশি দীর্ঘায়িত বা ভয়াবহ হয় তাহলে অর্থনৈতিক পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য আপদকালীন তহবিলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। একে যেন সঠিকভাবে কাজে লাগানো যায় এবং স্বাভাবিক ছন্দ যেন ব্যহত না হয় সেটি নিশ্চিত করার জন্য প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন।

চীনের সহায়তা: ইতিমধ্যেই সহায়তার হাত বাড়িয়েছে চীন। চীন বাংলাদেশকে করোনার কীট সরবরাহ করেছে। এছাড়াও ভবিষ্যতে আরও কিছু প্রয়োজন হলে ভবিষ্যতে সাহায্য দেবে। কারণ করোনা মোকাবেলায় সফল দেশগুলোর শীর্ষে এখন চীন।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় মনে করছে, সব খারাপ পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে পারলে তাতে বাংলাদেশের যে স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা তাতে করোনা মোকাবেলা করা খুব একটা কঠিন হবে না।