বাংলাদেশে পালিত হচ্ছে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী: জশনে জুলুসে লাখো জনতা

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যথাযোগ্য মর্যাদা ও বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) পালিত হচ্ছে। অধিকাংশ ঐতিহাসিকের মতে, রবিউল আউয়াল মাসের ১৭ তারিখে বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) বেহেশতী সুষমা নিয়ে পৃথিবীতে এসেছিলেন। আবার কোনো কোনো ঐতিহাসিকের মতে, ১২ রবিউল আউয়ালে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।

দিনটি উপলক্ষে আজ (মঙ্গলবার) সকাল সাড়ে ১০টায় রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সাইয়াদুল আ’ইয়াদ শরীফ আন্তর্জাতিক উদযাপন কমিটি আয়োজিত ‘কোটি কন্ঠে মিলাদ শরীফ’ পাঠের অংশ হিসেবে অভিনন্দন মিছিল আয়োজন করা হয়। অভিনন্দন মিছিল শেষে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মুসলমানরা ইন্টারনেটের মাধ্যমে কোটি কন্ঠের মিলাদ অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

চট্টগ্রামে জশনে জুলুস

চট্টগ্রাম মহানগরীর ষোলশহরের আলমগীর খানকাহ্-এ-কাদেরিয়া সৈয়্যদিয়া তৈয়্যবিয়া থেকে আল্লামা তাহের শাহের নেতৃত্বে সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে জশনে জুলুস শুরু হয়। জুলুসে আল্লামা তাহের শাহ’র সঙ্গে গাড়িতে তার দুই ছেলে সৈয়দ মো. কাশেম শাহ ও সৈয়দ মো. হামিদ শাহও ছিলেন। চট্টগ্রাম ও আশপাশের জেলার হাজার হাজার মানুষ বাস, ট্রাক, মিনিবাস, মাইক্রোসহ বিভিন্ন যানবাহনে করে জুলুসে যোগ দেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত আসা লাখ লাখ সুন্নি জনতাও জুলুসে অংশ নিয়েছেন।

চকবাজার, দিদারমার্কেট, আন্দরকিল্লাহ,চেরাগিপাহাড়, জামালখান, প্রেস ক্লাব এবং গনি বেকারীসহ জুলুসের পূর্বনির্ধারিত রুটটি জনসমুদ্রে পরিণত হয়। হামদ, নাত, দোয়া, দরুদ আর পবিত্র কুরআনের সুললিত তেলাওয়াতে পুরো এলাকায় অন্যরকম পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

চট্টগ্রাম থেকে যে জশনে জুলুস পালন করা হয় এটি কোনো সাধারণ মিছিল নয় উল্লেখ করে জামেয়া আহাম্মদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদ্রাসার মুফতি আল্লামা ওবায়দুল হক নইমি বলেন, মুমিনদের ঐক্যবদ্ধ করার বড় সুযোগ এটি। জুলুসের মাধ্যমে মুমিনরা একাত্মতা প্রকাশ করার সুযোগ পায়। মহানবীর জন্মদিনটি পালন ফেরেশতাদের ওপরও সুন্নাত। প্রিয় নবীকে যদি আল্লাহ্‌ তায়ালা পৃথিবীতে না পাঠাতেন তাহলে আমরা বান্দারা কিছুই পেতাম না। তাঁর বদৌলতে যে রহমত যে নেয়ামত পেয়েছি, তার শুকরিয়া আদায় করা ওয়াজিব।

রাজশাহীতে ঈদে মিলাদুন্নবী পালিত

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে সকালে রাজশাহী মহানগরীতে বিভিন্ন মসজিদ ও সংগঠনের উদ্যোগে জশনে জুলুস বের করা হয়। জুলুসটি নগরীর কেন্দ্রীয় শাহ মখদুম (রহ.) দরগা শরীফে গিয়ে শেষ হয়।

নগরীর সিরোইল কলোনি বাইতুল মামুর জামে মসজিদ এবং আনজুমান আশরাফিয়ায় সকাল সাড়ে ৮টার দিকে দিনটি উপলক্ষে বিশাল জশনে জুলুস বের করা হয়।

সকাল ৯টায় খানকায়ে গাওসুল আজম গাওসিয়া, তালীমে কোরআন তামাউয়াফি মাদ্রাসা, ইস্কে নবী ভক্তদের উদ্যোগে মহানগরীতে পৃথক জশনে জুলুস বের করা হয়। এছাড়া সাহেব বাজার জিরো পয়েন্টে বাংলাদেশ সুফি ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে নূরানী আনন্দ শোভাযাত্রা বের করা হয়। কেন্দ্রীয় শাহ মখদুম (রহ.) দরগা মসজিদে সীরাতুন্নবী (সা.) উদযাপনের লক্ষে আলোচনা সভা ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) যথাযথ মর্যাদায় পালনে বিভিন্ন ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল এবং বিভিন্ন সামাজিক, ধর্মীয় সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এসব কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে আলোচনা, মিলাদ, দোয়া মাহফিল প্রভৃতি। ইসলামিক ফাউন্ডেশন পক্ষকালব্যাপী অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করছে ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে।

ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে বাংলাদেশে আজ সরকারি ছুটির দিন। দেশের সব সরকারি-বেসরকারি টেলিভিশন ও রেডিও চ্যানেল দিনটিতে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবীর (সা.) গুরুত্ব ও তাৎপর্য তুলে ধরে বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচার করছে। সংবাদপত্রগুলোও বিশেষ নিবন্ধ প্রকাশ করেছে।#

পার্সটুডে

You Might Also Like