বাংলাদেশের দারুণ জয়, তিনে তিন!! ( বিস্তারিত )

বাংলাদেশের জয়রথ ছুটছেই। জিম্বাবুয়েকে ৯১ রানে হারিয়ে টানা তৃতীয় জয় তুলে নিয়েছে মাশরাফি বিন মুর্তজার দল।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

জিম্বাবুয়ে: ৩৬.৩ ওভারে ১২৫/১০ (মাসাকাদজা ৫, মিরে ৭, আরভিন ১১, টেলর ০, রাজা ৩৯, মুর ১৪, ওয়ালার ০, ক্রেমার ২৩, জার্ভিস ১০, চাতারা ৮, মুজারাবানি ০*; সাকিব ৩/৩৪, মুস্তাফিজ ২/১৬, সানজামুল ২/২৮, মাশরাফি ২/২৯, রুবেল ১/১৮)

বাংলাদেশ: ৫০ ওভারে ২১৬/৯ (তামিম ৭৬, বিজয় ১, সাকিব ৫১, মুশফিক ১৮, মাহমুদউল্লাহ ২, সাব্বির ৬, নাসির ২, মাশরাফি ০, সানজামুল ১৯, মুস্তাফিজ ১৮*, রুবেল ৮*; ক্রেমার ৪/৩২, জার্ভিস ৩/৪২)।

আবার বোনাস পয়েন্টসহ জয়: ২১৬ রানের পুঁজি নিয়ে বোলিংয়ে ভালো কিছুই করতে হতো বাংলাদেশ। পঞ্চম ওভারেই হ্যামিল্টম কাসাকাদজাকে ফিরিয়ে বোলিংয়ের শুরুটা দারুণ করেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। পরে অধিনায়কের দেখানো পথে হেঁটেছেন সাকিব আল হাসান সানজামুল ইসলাম, মুস্তাফিজুর রহমানরা। তাতে ১২৫ রানেই অলআউট হয়ে গেছে জিম্বাবুয়ে। শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে কাইল জার্ভিসকে ফিরিয়ে বাংলাদেশের ৯১ রানের বড় জয় নিশ্চিত করেছেন মুস্তাফিজ। বোনাস পয়েন্টসহ প্রথম দুই ম্যাচ জিতে আগেই ফাইনাল নিশ্চিত করেছিল বাংলাদেশ। স্বাগতিকরা বোনাস পয়েন্টসহ জিতল আজও।

ফিরেই মুস্তাফিজের উইকেট: প্রথম স্পেলে ৪ ওভারে দিয়েছিলেন মাত্র ১ রান। তাও সেটি শেষ বলে। দ্বিতীয় স্পেলে ফিরে তৃতীয় বলেই উইকেট নিয়েছেন মুস্তাফিজুর রহমান। উইকেট আকড়ে পড়ে থাকা সিকান্দার রাজা (৩৯) বাঁহাতি পেসারের বলে প্লেইড-অন হয়ে যান। ১০৭ রানে জিম্বাবুয়ের ৮ উইকেট তুলে নিয়ে জয়ের আরো কাছে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ। বোনাস পয়েন্টসহ আরেকটি জয় পেতে জিম্বাবুয়েকে ১৭২ রানের মধ্যে থামাতে হবে বাংলাদেশের।

রুবেলের প্রথম: ইনিংসে নিজের পঞ্চম ওভারে প্রথম উইকেট পেয়েছেন রুবেল হোসেন। ডানহাতি পেসারের বলে এলবিডব্লিউ হয়েছেন জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক গ্রায়েম ক্রেমার (২৩)। জিম্বাবুয়ের সংগ্রহ তখন ৭ উইকেটে ৯৫ রান।

এবার সানজামুলের দুই বলে দুই উইকেট: সাকিব আল হাসানের পর টানা দুই বলে দুই উইকেট নিলেন সানজামুল ইসলামও। তবে সাকিবের মতো তারও হ্যাটট্রিকটা পাওয়া হলো না। পঞ্চম উইকেটে সিকান্দার রাজা ও পিটার মুরের জুটিটা বাংলাদেশের গলার কাঁটা হয়ে বিঁধেছিল। মুরকে এলবিডব্লিউ করে ৩৪ রানের জুটি ভেঙে কাটা সরান সানজামুল। বাঁহাতি স্পিনারের পরের বলটা সুইপ করতে গিয়ে এলবিডব্লিউ হন ম্যালকম ওয়ালার, রিভিউ নিয়েও বাঁচতে পারেননি। ২৩ ওভার শেষে জিম্বাবুয়ের সংগ্রহ ৬ উইকেটে ৬৮ রান।

মাশরাফির দ্বিতীয় আঘাত: অফ স্টাম্পে মাশরাফির গুড লেংথ বল। খোঁচা মারতে গিয়ে স্লিপে ক্যাচ তুলে দেন ক্রেইগ আরভিন। ডানদিকে ঝাঁপিয়ে দারুণ ক্যাচ নেন সাব্বির রহমান। সিরিজে আরো একবার বড় ইনিংস খেলতে ব্যর্থ আরভিন। তিনি ১১ রান করে ফেরার সময় জিম্বাবুয়ের স্কোর ৪ উইকেটে ৩৪।

দুই বলে দুই উইকেট সাকিবের: পরপর দুই বলে দুই উইকেট নিয়েছেন সাকিব আল হাসান। সপ্তম ওভারে বাঁহাতি স্পিনারের পঞ্চম বলে স্লগ সুইপ করতে গিয়ে বোল্ড হয়েছেন সলোমন মিরে (৭)। পরের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে গোল্ডেন ডাক মেরেছেন ব্রেন্ডন টেলর। ৭ ওভার শেষে জিম্বাবুয়ের স্কোর ৩ উইকেটে ২০।

শুরুতেই মাশরাফির আঘাত: ইনিংসের শুরুতেই জিম্বাবুয়ে শিবিরে আঘাত হেনেছেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। ডানহাতি পেসারের অফ স্টাম্পের বাইরের বলে শট খেলতে গিয়ে প্রথম স্লিপে সাব্বির রহমানকে ক্যাচ দিয়েছেন হ্যামিল্টন মাসাকাদজা। তিনি ৫ রান করে ফেরার সময় জিম্বাবুয়ের স্কোর ১ উইকেটে ১৪।

শেষের ঝলকে বাংলাদেশের ২১৬: ১৭০ রানে ৮ উইকেট হারিয়ে দুইশ রানের আগেই অলআউট হওয়ার শঙ্কায় পড়েছিল বাংলাদেশ। তবে দুই ‘বোলার’ সানজামুল ইসলাম ও মুস্তাফিজুর রহমানের ছোট্ট দুটি ‘ক্যামিও’ ইনিংসে দুইশ পার হয়েছে। মুস্তাফিজের সঙ্গে নবম উইকেটে ২৬ রানের জুটি গড়েন সানজামুল। নবম ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হওয়ার আগে ২৪ বলে ৩ চারে ১৯ রান করেছেন সানজামুল। শেষ উইকেটে মুস্তাফিজ ও রুবেল হোসেন যোগ করেন ২০ রান। তাতে ৫০ ওভারে ৯ উইকেটে ২১৬ রানের পুঁজি পায় বাংলাদেশ। ২২ বলে ২টি চারে ১৮ রানে অপরাজিত ছিলেন মুস্তাফিজ। শেষ ওভারে ছক্কা হাঁকানো রুবেল ৪ বলে ৮ রানে অপরাজিত থাকেন।
হঠাৎ এলোমেলো বাংলাদেশ: তামিম-সাকিবের শতরানের জুটি ভাঙার পর তামিম-মুশফিকের ব্যাটে ভালোই এগোচ্ছিল বাংলাদেশ। কিন্তু ৩৫ রানের এ জুটি ভাঙার পরই হঠাৎ এলোমেলো হয়ে যায় বাংলাদেশের ইনিংস। ২ উইকেটে ১৪৭ থেকে দ্রুতই স্কোর দাঁড়ায় ৮ উইকেটে ১৭০, ২৩ রানেই নেই ৬ উইকেট!

মাশরাফিকে ফিরিয়ে ক্রেমারের সেঞ্চুরি: গ্রায়েম ক্রেমারের বলে উইকেটকিপারের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন মাশরাফি বিন মুর্তজা (০)। বাংলাদেশের অধিনায়ককে ফিরিয়ে ওয়ানডেতে ১০০ উইকেটের মাইলফলক ছুঁয়েছেন জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক।

দ্রুতই ফিরলেন সাব্বির-নাসির: কাইল জার্ভিসের পরপর দুই ওভারে আউট হয়েছেন সাব্বির রহমান ও নাসির হোসেন। সাব্বির ১১ বলে করেছেন ৬, নাসির ৮ বলে ২।

পারলেন না তামিম: প্রথম ম্যাচে দল জিতে যাওয়ায় ৮৪ রানে অপরাজিত ছিলেন। দ্বিতীয় ম্যাচে ঠিক ৮৪ রানেই আউট হয়ে গিয়েছিলেন। আজ টানা তৃতীয় ম্যাচে পঞ্চাশ পার করলেন। কিন্তু সেটিকে সেঞ্চুরিতে রূপান্তর করতে পারলেন না তামিম ইকবাল। ৭৬ রান করে স্টাম্পড হয়ে গেছেন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। ১০৫ বলে ৬টি চারে ইনিংসটি সাজিয়েছেন। বাংলাদেশের সংগ্রহ তখন ৫ উইকেটে ১৬৩ রান।
টিকলেন না মাহমুদউল্লাহও: পাঁচ নম্বরে নেমে বেশিক্ষণ টিকতে পারলেন না মাহমুদউল্লাহ। গ্রায়েম ক্রেমারের বলে এলবিডব্লিউ হওয়ার আগে তিনি ৭ বলে করেছেন ২ রান। বাংলাদেশের সংগ্রহ তখন ৪ উইকেটে ১৫৬ রান।

টিকলেন না মুশফিক: উইকেটে থিতু হয়েও ইনিংস বড় করতে পারলেন না মুশফিকুর রহিম। স্পিনার গ্রায়েম ক্রেমারের বলে সুইপ করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু টপ-এজ হয়ে বল উঠে যায় ওপরে, শর্ট ফাইন লেগে ক্যাচ নেন ব্লেসিং মুজারাবানি। ২৫ বলে এক ছক্কায় মুশফিক করেন ১৮। বাংলাদেশের সংগ্রহ তখন ৩ উইকেটে ১৪৭।

ছয় হাজারি তামিম: বাংলাদেশের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে ওয়ানডেতে ছয় হাজার রান করলেন তামিম ইকবাল। ৬ হাজার রান করতে আজ তামিমের প্রয়োজন ছিল ৬৬ রান। গ্রায়েম ক্রেমারের বলে সিঙ্গেল নিয়ে মাইলফলক স্পর্শ করেন বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান।

তামিমের ফিফটির হ্যাটট্রিক: টানা তৃতীয় ম্যাচে ফিফটি করেছেন তামিম ইকবাল। ফিফটি করে সাকিবের বিদায়ের দুই বল পরই পঞ্চাশ ছুঁয়েছেন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। ৭৭ বলে ফিফটি করতে ৪টি চার মারেন তামিম।
ফিফটির পরই ফিরলেন সাকিব: সিকান্দার রাজার আগের ওভারের শেষ বলে চার হাঁকিয়ে ফিফটি পূর্ণ করেছিলেন সাকিব আল হাসান। কিন্তু জিম্বাবুইয়ান স্পিনারের পরের ওভারের প্রথম বলে বেরিয়ে এসে খেলতে গিয়ে স্টাম্পড হয়েছেন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। তিনে নেমে টানা দ্বিতীয় ফিফটি করা সাকিবের ব্যাট থেকে এসেছে ৫১ রান। ৮০ বলে ৬টি চারে ইনিংসটি সাজিয়েছেন। তামিমের সঙ্গে শেষ তিন ম্যাচে সাকিবের দ্বিতীয় উইকেট জুটি ৭৮, ৯৯ ও আজ ১০৬।

জয়াসুরিয়ার রেকর্ড ভাঙলেন তামিম: অপেক্ষা ছিল ৪২ রানের। ২৪তম ওভারে সিকান্দার রাজার চতুর্থ বলে সিঙ্গেল নিয়ে তামিম ইকবাল পৌঁছে গেলেন নতুন উচ্চতায়। ওয়ানডেতে একক কোনো ভেন্যুতে সবচেয়ে বেশি রানের রেকর্ডটা এখন তামিমের। বাংলাদেশের ওপেনার ভেঙেছেন শ্রীলঙ্কার সনাৎ জয়াসুরিয়ার রেকর্ড। প্রেমাদাসায় ২৫১৪ রান করেছিলেন জয়াসুরিয়া। রাজার বলে ওই সিঙ্গেল নিয়ে ‘মাতারা হারিকেন’কে ছাড়িয়ে গেলেন তামিম।

সাকিব-তামিম জুটির টানা তিন: শুরুতেই এনামুল হক বিজয়ের বিদায়ের পর দলকে এগিয়ে নিচ্ছেন তামিম ইকবাল ও সাকিব আল হাসান। টানা তৃতীয় ম্যাচে দ্বিতীয় উইকেট জুটির পঞ্চাশ পেরিয়েছেন এই দুজন। ১৩তম ওভারে সিকান্দার রাজার শেষ বলে তামিম ২ রান নিয়ে জুটির পঞ্চাশ পূর্ণ করেন। এর আগে প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৭৮ ও দ্বিতীয় ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৯৯ রানের জুটি গড়েছিলেন তামিম-সাকিব।
শুরুতেই ফিরলেন বিজয়: আগের দুই ম্যাচে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করা এনামুল হক বিজয় আজ শুরুতেই আউট হয়েছেন। জিম্বাবুইয়ান পেসার কাইল জার্ভিসের বলে এলবিডব্লিউ হওয়া ডানহাতি এই ব্যাটসম্যান করেছেন ১ রান। বাংলাদেশের সংগ্রহ তখন ১ উইকেটে ২ রান। তামিম ইকবালের সঙ্গে নতুন ব্যাটসম্যান হিসেবে যোগ দিয়েছেন সাকিব আল হাসান।

টস: মিরপুরে টস জিতে বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

ফিরেছেন সানজামুল: প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দারুণ বোলিং করলেও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচে খেলা হয়নি সানজামুল ইসলামের। আজ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে আবারো একাদশে ফিরেছেন বাঁহাতি এই স্পিনার। দলের বাইরে পেস অলরাউন্ডার মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন।

দুই মাইলফলকের সামনে তামিম: প্রথম বাংলাদেশি ক্রিকেটার হিসেবে ওয়ানডেতে ছয় হাজার রানের অপেক্ষায় তামিম। এজন্য তামিমের প্রয়োজন ৬৬ রান। আর নির্দিষ্ট কোনো ভেন্যুতে ওয়ানডেতে সর্বাধিক রানের মালিক হতে তামিমকে করতে হবে ৪২ রান।

সিকান্দার রাজার প্রয়োজন ১৪ রান: ওয়ানডেতে ২ হাজার রানের মাইলফলক ছুঁতে জিম্বাবুয়ের সিকান্দার রাজাকে করতে হবে ১৪ রান। আজই এ কীর্তি গড়তে পারেন কি না, সেটাই দেখার।

আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশ প্রত্যাশিত জয়ের খোঁজে: জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে শেষ নয় ম্যাচের কোনোটিতেই হারেনি বাংলাদেশ। আজও প্রত্যাশিত জয়ের খোঁজে বাংলাদেশ। ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনাল নিশ্চিত করায় আজ নিজেদের ঝালিয়ে নেওয়ার ‍সুযোগ পাচ্ছে দলটি।

You Might Also Like