বাংলাদেশের থানায় বোমা বিস্ফোরণ : আইএসের দায় স্বীকার, ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার মিরপুরের পল্লবী থানায় বিস্ফোরণের দায় স্বীকার করেছে আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আইএস। অনলাইনে জঙ্গি কার্যক্রম পর্যবেক্ষণকারী মার্কিন সংস্থা ‘সাইট ইন্টেলিজেন্স’ বুধবার রাতে তাদের টুইটার ও নিজস্ব ওয়েবসাইটে এ তথ্য জানিয়েছে।

সাইট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপের পরিচালক রিটা কাটজ এক টুইট বার্তায় বলেছেন, বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় পুলিশের একটি দফতরে হামলার দায় স্বীকার করেছে আইএস।

তবে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইমের (সিটিটিসি) ডেপুটি কমিশনার সাইফুল ইসলাম আইএসের দাবিকে অস্বীকার করে বলেন, “প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে এটি জঙ্গি আক্রমণ বলে মনে হয়নি। এটি স্থানীয় অপরাধীদের কাজ।”

রাজধানীর পল্লবী থানায় বিস্ফোরণে চার পুলিশ সদস্যসহ পাঁচ জন আহত হওয়ার ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।

বুধবার (২৯ জুলাই) সন্ধ্যায় ডিএমপি কমিশনারের নির্দেশে ডিএমপির যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) মো. শাহ আবিদ হোসেনকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) ওয়ালিদ হোসেন জানান, পল্লবী থানায় আসামি গ্রেফতারের পর বিস্ফোরণের ঘটনাটি সুষ্ঠু তদন্তে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই তদন্ত কমিটির প্রধান যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম) শাহ আবিদ হোসেন। এছাড়া তদন্ত কমিটিতে মিরপুর শাহআলী জোনের সহকারী কমিশনার (এসি) ও কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের একজন এসি রয়েছেন। কমিটিকে আগামী তিন দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

এর আগে বুধবার ভোর ৬টার দিকে পল্লবী থানার পরিদর্শকের (তদন্ত) কক্ষে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে ৪ পুলিশ সদস্যসহ আহত হয়েছেন ৫ জন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন, পরিদর্শক ইমরান, উপপরিদর্শক (এসআই) সজিব, পিএসআই অঙ্কুশ, পিএসআই রুমি। এছাড়া রিয়াজ নামে অপর এক ব্যক্তিও এসময় আহত হন। আহতদের প্রাথমিকভাবে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এদের মধ্যে পিএসআই রুমি ও রিয়াজ বর্তমানে হাসপাতালটির জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিচ্ছেন। চোখে আঘাত পাওয়ায় পিএসআই অঙ্কুশকে বর্তমানে আই হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে পরিদর্শক ইমরান ও এসআই সজীবকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম বলেন, “পল্লবীর কালশী এলাকায় তদন্ত চালানোর সময় পুলিশের একটি দল থানা কম্পাউন্ডের ভেতরে পরিত্যক্ত অবস্থায় একটি বোমা দেখতে পায়। বোমাটি নিষ্ক্রিয় করার সময় দুর্ঘটনাবশত এটি বিস্ফোরিত হয়।”

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (মিডিয়া) মো. ওয়ালিদ হোসেন জানান, মঙ্গলবার রাতে পল্লবী থানা পুলিশের একটি দল দুটি পিস্তল এবং ওজন মাপা মেশিনের মতো বস্তুসহ তিনজনকে গ্রেফতার করে। পরে তাদের থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। সকাল ৭টার দিকে পল্লবী থানায় ওজন মাপার মেশিনের মতো একটা যন্ত্র বিস্ফোরিত হয়।

 

 

বাংলাদেশের পল্লবী থানায় বোমা বিস্ফোরণের দায় স্বীকার আইএসের!

 

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে বান কি মুনের ফোন

 

You Might Also Like