বাংলাদেশের কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় বোমা হামলা ও গুলি: ২ পুলিশসহ নিহত ৩

এখন সময় ডেস্কঃকিশোরগঞ্জের শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানের প্রবেশ পথে দুর্বৃত্তদের বোমা হামলায় দু্ই পুলিশ ও এক সন্ত্রাসী নিহত হয়েছেন। এছাড়া, আট পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। গুলশানের রেস্তোরাঁয় ভয়াবহ হামলার রেশ না কাটতেই এই হামলার ঘটনা ঘটল। নিহত দুই পুলিশ কনস্টেবল হলেন জহুরুল হক ও আনসার উল্লাহ।

বৃহস্পতিবার সকাল সোয়া ৯টার দিকে ঈদুল ফিতরের জামাতের আগে ঈদগাহ সংলগ্ন আজিমুদ্দিন স্কুলের পাশে এ হামলার ঘটনা ঘটে। হামলার পর পুলিশসহ ১৩ জনকে কিশোরগঞ্জ জেলা হাসপাতালে নেয়া হলে জহুরুল হক (৩০) ও আনসার উল্লাহকে মৃত ঘোষণা করা হয়। আহত পুলিশ সদস্যদের মধ্যে অবস্থা ৭ জনকে প্রথমে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে এবং সেখান থেকে ময়মনসিংহ সেনানিবাসের সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) পাঠানো হয়েছে। সর্বশেষ খবরে জানা গেছে, ৭ পুলিশ সদস্যের মধ্যে গুরুতর দু’জনকে হেলিকপ্টারে করে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকাল ১০টায় শোলাকিয়ায় ঈদ জামাতের নির্ধারিত সময় ছিল। আগে থেকে আজিমুদ্দিন স্কুলের পাশে টহল দিচ্ছিল একদল পুলিশ। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা পুলিশকে লক্ষ্য করে বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। এ সময় পুলিশ গুলি ছুড়লে একজন নিহত হয় এবং বাকি সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। নিহত সন্ত্রাসীর পরিচয় পাওয়া যায়নি।

হামলার পর আজিমুদ্দিন স্কুলের চারপাশ আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যরা ঘিরে রেখেছেন। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত পুলিশ শোলাকিয়া মাঠে যাওয়ার প্রধান রাস্তা স্টেশন রোড, গৌরাঙ্গবাজারের আশপাশের সব রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে চাপাতি ও বোমাসদৃশ বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া গুলিসহ একটি রিভলবার উদ্ধার করা হয়েছে।

প্রতিবছরের ধারাবাহিকতায় এবারও কিশোরগঞ্জ শহরের উপকণ্ঠে শোলাকিয়া ঈদগাহ্ ময়দানে দেশের সর্ববৃহৎ ঈদ জামাতের আয়োজন করা হয়। এবার ছিল ১৮৯তম ঈদুল ফিতরের জামাত।

সকাল ১০টায় মাওলানা ফরিদ উদ্দিন মাসউদের ইমামতিতে জামাত অনুষ্ঠানের সময় নির্ধারিত ছিল। এতে অংশ নিতে দেশ-বিদেশের তিন লাখেরও বেশি মুসুল্লির সমাগম ঘটে। বোমা হামলার ঘটনায় মুসল্লিদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়। অবশ্য পরে নির্বেঘ্নেই ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়। সকাল সোয়া ১০টায় অনুষ্ঠিত ঈদের জামাতে ইমামতি করেন স্থানীয় জামিয়া ইমদাদিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা শোয়াইব।

You Might Also Like