হোম » বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রকল্পে শতকরা ৬০ টাকার হদিস থাকে না: প্রধান বিচারপতি

বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রকল্পে শতকরা ৬০ টাকার হদিস থাকে না: প্রধান বিচারপতি

ঢাকা অফিস- বৃহস্পতিবার, মে ১৮, ২০১৭

বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা (এস কে সিনহা) বলেছেন, বর্তমানে উন্নয়ন প্রকল্পে ১০০ টাকার মধ্যে ৪০ টাকার কাজ হয় আর বাকি ৬০ টাকার কোনো হদিস থাকে না। বুধবার রাতে টাঙ্গাইল সার্কিট হাউজে জেলা জাজশিপ আয়োজিত বিচার বিভাগীয় সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

প্রধান বিচারপতি বলেন, আইন প্রণয়নের সময় বিচারকদের সঙ্গে রাখলে আইনে এত গরমিল থাকত না। এতে করে মামলার জটও কমে আসত। তাই যারা আইন প্রণয়ন করেন তারা যেন বিচার বিভাগকে সঙ্গে রেখেই আইন করেন।

তিনি বলেন, ব্রিটিশ আমলের ত্রুটিপূর্ণ আইনগুলো সংশোধন করে বিচার ব্যবস্থাকে বিজ্ঞান সম্মত করার জন্য আমরা চেষ্টা করছি। সকলে মিলে একত্রে কাজ করতে পারলেই আমাদের দেশ সত্যিকারের সোনার বাংলায় রূপান্তর করা যাবে।

প্রধান বিচারপতি আরো বলেন, দেশটি আমাদের সবার, তাই দেশের জনগণের স্বার্থে সবাইকে যার যার দায়িত্ব নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সাথে পালন করতে হবে।

সম্মেলনে উপস্থিত জেলা প্রশাসককে তিনি পবিত্র রমজান মাসে যাতে কেউ ভেজাল ও নিম্ন মানের খাদ্যদ্রব্য বিক্রি করতে না পারে সেজন্য মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ব্যবস্থা নিতে পরার্মশ দেন। তার আগে অবশ্য তিনি তার বক্তব্যে মোবাইল কোর্টের ত্রুটির কথা উল্লেখ করেন।

এস কে সিনহা বলেন, বিচার ব্যবস্থার ত্রুটি ও বিচারক স্বল্পতার কারণে মামলা নিষ্পত্তি কম হওয়ায় সারা দেশে মামলার জট সৃষ্টি হয়েছে। বিচারপ্রার্থী জনগণের দুর্দশা লাগবে অবশ্যই এ জট নিরসন করতে হবে।

প্রধান বিচারপতি বলেন, পুলিশ প্রশাসনসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিভাগ, আইনজীবী ও বিচারকদের পুরাতন মানসিকতা পরিহার করে কাজ করে যেতে হবে।

তিনি বলেন, মার্শাল ল এলেই দেশে অনিয়ম-দুর্নীতি বাড়ে। কোনো অবস্থাতেই যাতে দেশে আর এ পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয় তার জন্য সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান প্রধান বিচারপতি।

টাঙ্গাইলের জেলা ও দায়রা জজ মো. রবিউল হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের রেজিস্ট্রার মো. জাকির হোসেন। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন টাঙ্গাইলের বিশেষ জেলা জজ ওয়াহেদুজ্জামান সিকদার, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট খালেদা ইয়াসমীন, জেলা প্রশাসক খান মো. নূরুল আমীন, পুলিশ সুপার মাহবুব আলম ও জেলা অ্যাডভোকেট বারের সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক।