‘বাংলাদেশকে চোরাচালানের রুট হিসেবে ব্যবহারের চেষ্টা চলছে’

বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক চোরাচালানের নিরাপদ ট্রানজিট রুট হিসেবে ব্যবহারের চেষ্টা চলছে বলে মন্তব্য করেছেন শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. মঈনুল খান।

সোমবার বিকেল ৩টায় চট্টগ্রাম বন্দরে এক প্রেস বিফ্রিংয়ে ভারতীয় মুদ্রাবোঝাই কন্টেইনার আটকের ঘটনা বর্ণনা করতে গিয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেছেন, কাস্টমস-শুল্ক গোয়েন্দো সহ সকল বিভাগের জোর নজরদারির কারণে এদেশকে চোরাচালানের রুট হিসেবে ব্যবহারের যে চেষ্টা তা ব্যর্থ হয়েছে।

ড. মঈনুল খান বলেন, কন্টেইনার করে ভারতীয় মুদ্রা আনা হয়েছে। এ ঘটনায় আন্তর্জাতিক চক্র জড়িত আছে বলে মনে করছি। চালানটি দুবাই থেকে বাংলাদেশে এসেছে। এটা বাংলাদেশ থেকে অন্য দেশে যেত। সুতরাং এর সঙ্গে একাধিক চক্র জড়িত আছে। জড়িত চক্রগুলোকে তদন্তের মাধ্যমে তুলে আনার চেষ্টা করা হবে।

‘বাংলাদেশকে চোরাচালানের আন্তর্জাতিক রুট হিসেবে ব্যবহার করতে দেয়া হবে না। এজন্য কাস্টমস, শুল্ক গোয়েন্দো কর্মকর্তা, পুলিশসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যৌথভাবে কাজ করছে। ’

এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ৫ জনকে আটক করা হয়েছে জানিয়ে শুল্ক গোয়েন্দা অধিদফতরের মহাপরিচালক বলেন, এ ঘটনায় চালানটি খালাসে নিয়োজিত সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ফ্লাশ ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের চেয়ারম্যান মো. শামীমুর রহমানকে আটক করা হয়েছে। অতীতেও তার বিরুদ্ধে এ ধরনের ঘটনায় জড়িত থাকার তথ্য রয়েছে। এছাড়া তার প্রতিষ্ঠানটি একটি ব্লাক লিস্টেড প্রতিষ্ঠান। তাই আগে থেকেই আমরা নজরদারিতে রেখেছিলাম। তার চার সহযোগীকেও আটক করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। জিজ্ঞাসা শেষে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আটককৃতরা হলেন- ফ্লাশ ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের চেয়ারম্যান মো. শামীমুর রহমান, এমডি মো. আসাদুল্লাহ, ব্যবসার পার্টনার আহমদ উল্লাহ, গাড়িচালক মো. কাউসার ও চালান প্রেরণকারী শাহেদুজ্জামানের ছোট ভাই তৌহিদুল আলম।

গত ১৬ সেপ্টেম্বর দুবাই থেকে একটি চালানে চারটি কন্টেইনার আসে চট্টগ্রাম বন্দরে। মনরুভিয়ার পতাকাবাহী ‘প্রোসপা’ নামের একটি জাহাজে করে এই চালানটি আসে। দুবাই থেকে শাহেদুজ্জামান নামে একজন এটি পাঠান।

You Might Also Like