বাংলাদেশকে অবহেলা করে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো শিক্ষা পেয়েছে: শেখ হাসিনা

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, পদ্মা সেতু নির্মাণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল বিশ্বব্যাংক। তাদের অভিযোগ কানাডার আদালতে মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। আমি ঘোষণা দিয়েছিলাম নিজস্ব অর্থায়নে করার। সেই সিদ্ধান্তের ফলে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়েছে। বাংলাদেশকে যে আর অবহেলা করা যায় না, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো এর মধ্যদিয়ে সেই শিক্ষাই পেয়েছে।

আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ‘স্বাধীনতা পুরস্কার-২০১৭’ প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৭.১ শতাংশে উন্নিত হয়েছে। মাথাপিচু হার, দারিদ্রের হার, সামাজিক নিরাপত্তামূলক কর্মসূচি বেড়েছে।’

এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের বৃত্তি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ট্রেনিং ইনস্টিটিউট নির্মাণ, দেশকে এগিয়ে নেয়ার জন্য বিভিন্ন উন্নয়ন চিত্র তুলে ধরে বলেন, ‘আমরা ক্ষমতায় আসলে বাজেটের পরিমান বাড়ে, সরকারি কর্মকর্তাদের বেতন বাড়ানো হয়। ৫ কোটি মানুষ নিম্নবিত্ত থেকে মধ্যবিত্ত হয়েছে।’

স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী। ভিক্ষার ঝুলি নিয়ে নয়, আমরা মাথা উঁচু করে সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন করবো। সবক্ষেত্রেই এগিয়েছি, আরও এগিয়ে যাবো। প্রবৃদ্ধি বেড়েছে, বাজেট বৃদ্ধি করেছি। পাঁচ কোটি মানুষ নিম্ন থেকে মধ্যবিত্ত হয়েছে। হতদরিদ্রের হার কমেছে, লেখাপড়ার হার বেড়েছে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ ২০২১ সালের মধ্যে মধ্য আয়ের দেশ হবে। ২০৪১ সালের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ হবে উন্নত দেশ। আগামী দিনে যারা দেশের জন্য কাজ করবে আমি আশা করছি তারা আমাদের কাজকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। আমরা দেশকে ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্রমুক্ত দেশ হিসেবে গড়ে তুলব।’

এ বছর ১৫ বিশিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে স্বাধীনতা পদক তুলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পদকপ্রাপ্তরা হলেন- স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধে গ্রুপ ক্যাপ্টেন অব. শামসুল আলম বীর উত্তম, আশরাফুল আলম, শহীদ মো. নজমুল হক, মরহুম সৈয়দ মহসিন আলী, শহীদ এন এম নাজমুল আহসান, শহীদ ফয়জুর রহমান আহমেদ ও বাংলাদেশ বিমানবাহিনী। এছাড়া চিকিৎসাবিদ্যায় অধ্যাপক এ এইচ এম তৌহিদুল আনোয়ার চৌধুরী, সাহিত্যে রাবেয়া খাতুন ও মরহুম গোলাম সামদানী কোরায়শী। সংস্কৃতিতে অধ্যাপক এনামুল হক ও ওস্তাদ বজলুর রহমান বাদল। সমাজসেবায় খলিল কাজী ওবিই, গবেষণা ও প্রশিক্ষণে শামসুজ্জামান খান ও অধ্যাপক ললিত মোহন নাথ (প্রয়াত)এবং জনপ্রশাসনে অধ্যাপক মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান।

স্বাধীনতা পদকের ক্ষেত্রে পুরস্কারপ্রাপ্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে ১৮ ক্যারেট মানের পঞ্চাশ গ্রাম স্বর্ণের পদক, পদকের একটি রেপ্লিকা, ৩ লাখ টাকা ও একটি সম্মাননাপত্র দেয়া হয়েছে।

You Might Also Like