হোম » বহু তিক্ত ঘটনার জন্য আমেরিকা ও ইউরোপ দায়ী : সর্বোচ্চ নেতা

বহু তিক্ত ঘটনার জন্য আমেরিকা ও ইউরোপ দায়ী : সর্বোচ্চ নেতা

এখন সময় ডেস্ক- রবিবার, ফেব্রুয়ারি ১২, ২০১৭

ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে বহু তিক্ত ঘটনার জন্য আমেরিকা ও তার ইউরোপের অনেক মিত্রদেশ দায়ী। সুইডেনের প্রধানমন্ত্রী স্টিফ্যান লফভেনকে দেয়া সাক্ষাতের সময় সর্বোচ্চ নেতা এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, ইরাক ও সিরিয়াসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে নানা রকমের তিক্ত ঘটনার জন্ম দিতে আমেরিকা ও ইউরোপ ভূমিকা রেখেছে। আঞ্চলিক দেশগুলো তাদের হস্তক্ষেপ সম্পর্কে খুব ভালোভাবেই সজাগ রয়েছে এবং এসব দেশ সত্যিই তাদের সম্পর্কে খুব নেতিবাচক ধারণা পোষণ করে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, আমেরিকা ও ইউরোপের কয়েকটি দেশের হস্তক্ষেপই হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটের মূল কারণ।
সাক্ষাৎ অনুষ্ঠানের ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানিও উপস্থিত ছিলেন। সর্বোচ্চ নেতা সুইডিশ প্রধানমন্ত্রীকে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক বিষয়গুলো এ অঞ্চলের দেশগুলোরই সমাধান করা উচিত।
আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ী ইরাক পরিস্থিতির উন্নতির কথা তুলে ধরে বলেন, সিরিয়া পরিস্থিতিরও উন্নতি হতে পারে তবে সবার আগে সন্ত্রাসবাদের প্রতি কয়েকটি দেশের সমর্থন ও যুদ্ধকামী নীতির অবসান হওয়া জরুরি। সর্বোচ্চ নেতা বলেন, সিরিয়ার কথিত বিরোধী গ্রুপে পশ্চিমা দেশগুলোর প্রতিনিধির উপস্থিতি এবং সিরিয়ার চলমান সংকটে সন্ত্রাসীদের জন্য অস্ত্রের যোগান দেয়া -এ ধরনের হস্তক্ষেপের কয়েকটি উদাহরণ।
আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী বলেন, ইরান ও সুইডেনের মধ্যে সহযোগিতা জোরদার করার বিরাট সম্ভাবনা রয়েছে। স্টকহোমের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের পদক্ষেপকে তেহরান স্বাগত জানায় বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, দু দেশের মধ্যে বর্তমানে যে সম্পর্ক রয়েছে তা প্রকৃত সক্ষমতার চেয়ে অনেক নিচেই। তিনি বলেন, ইরানের জনগণ সুইডেনের বিষয়ে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করে যা দু দেশের মধ্যকার সম্পর্ক জোরদারের ক্ষেত্রে একটা সঠিক ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
ইসলামি বিপ্লবের ৩৮তম বিজয় বার্ষিকীর সমাবেশে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের কথা উল্লেখ করে সর্বোচ্চ নেতা বলেন, এর মাধ্যমে তারা তাদের প্রস্তুতি দেখিয়ে দিয়েছে এবং যারা বাইরে থেকে ইরানকে বিচার করে তাদের পক্ষে এর বিশালতা উপলব্ধি করা সম্ভব নয়। এ সময় তিনি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী পদে সুইডেনের পক্ষে ইরানের ভোট দেয়ার কথা উল্লেখ করে আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ী বলেন, “নিরাপত্তা পরিষদের অনেক গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাবনা রয়েছে কিন্তু দুঃখজনকভাবে সংস্থাটি কয়েকটি দেশের কাছে বন্দী হয়ে রয়েছে। তারপরও গঠনমূলক ভূমিকা রেখে এ সংস্থাকে দ্বৈতনীতি অনুসরণ করা থেকে বিরত রাখা সম্ভব।”
সাক্ষাৎ অনুষ্ঠানে সুইডেনের প্রধানমন্ত্রী বলেন, তেহরান সফরে এসে তিনি অর্থনৈতিক ও মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবলী নিয়ে ইরানের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তিনি জানান, ইরান ও সুইডেন যেসব দ্বিপক্ষীয় চুক্তি ও সমঝোতা সই করেছে তার দেশ তা বাস্তবায়নের চেষ্টা করবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সুইডেন জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য হয়েছে এ সংস্থায় কার্যকরী ভূমিকা পালনের জন্য।