বর্নাঢ্য চাঁদ রাত মীনা বাজার ও ঈদ ফ্যাশন

প্রিন্ট কর
এ্যন্থনী পিউস গোমেজ, ভার্জিনিয়া

বাংগালীর ঈদ শুরু হয় চাঁদ রাতে। সন্ধ্যায় শেষ রমজানের ইফতার শেষে অনেকেই বেড়িয়ে পড়ে চাঁদ রাতের ঈদ বাজারে। ডিজে অথবা লাইফ মিউজিকের কলতানের মাঝে এই চাঁদ রাতের ঈদ বাজার গুলিতে ছিল উপচে পড়া ভীড়। কেনা কাটার পাশাপাশি অনেকেই মেহেদী অংকনে রাংগিয়েছে হাত।   ঘুম ঘুম চোখে বাড়ী ফেরার আগ পর্যন্ত  সামাজিক আপ্যায়নের গভীর রাত পর্যন্ত মেতে ছিল। এমনি একটি আয়োজন ছিল গত ৫ই জুলাই, ভার্জিনিয়ার এনানডেল-এ নোভা কমিউনিটি কলেজের মিলনায়তনে। চাঁদ রাতের এই কনসেপ্টটি মূলত পাকিস্তানীদের। তবে এর ব্যাপ্তি এখন বাংলাদেশী  কমিউনিটিতেই সমভাবে বিস্তৃত। আর এনানডেল-এ নোভা কমিউনিটি কলেজের চাঁদ রাত এবং মিনাবাজারের আয়োজনটি বাংলাদেশী কমিউনিটির। বলা যায় এটাই একমাত্র বাংলাদেশী ব্যবস্থপনায় আয়োজন।

‘এজাইল ওয়ান টেক’-এর পৃষ্ঠপোষকতায় এবং দস্তগীর জাহাঙ্গীর ও দিনার মনির প্রযোজনায় “চাঁদ রাত মীনা বাজার এবং ঈদ ফ্যাশন শো ২০১৬” টি তাই বাংগালী কমিউনিটির জন্য অন্যন্য। প্রতিযোগিতামূলক পরিসরে এই আয়োজনে প্রবাসী বাংগালীদের এ জন্য এক পরম পাওয়া। স্বীয় সাংষ্কৃতিক বলয়ে চাঁদ রাত তথা ঈদের আনন্দ ছড়িয়ে দিতে দস্তগীর-দিনারমনির এই প্রচেষ্টা নিঃসন্দেহে ধন্যবাদ পেতে পারে।

ওয়াশিংটন মেট্রো এলাকার প্রবাসী বাংলীদের সমাগমে মনোরম সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং ফ্যাশন শো’সহ রকমারী আয়োজনে অত্যন্ত প্রানবন্তভাবে আনন্দ-উল্লাসের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল এই আয়োজন। আয়োজকদের পরিকল্পনা, সমন্বয় ও ব্যবস্থাপনায় সুন্দরভাবে পরিবেশিত হয়েছে পুরো অনুষ্ঠানটি। রকমারী স্বদেশী পোশাক, রঙ-বেরঙের শাড়ী, সালোয়ার কামিজ, জুয়েলারীসহ ছিল বিভিন্ন স্টলের সমারোহ, ছিল ইফতারীর জন্য সুব্যবস্থা, খাবারের দোকান। ইফতারী, কেনাকাটা, সবার সাথে মিলন ও ভ্রাতৃ্ত্বের কুশল বিনিময় এবং আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে একটি সুন্দর অনুষ্ঠান উপহার দিয়ে গেলেন উদ্যোক্তারা- জনাব দস্তগীর জাহাঙ্গীর, দিনার মনি এবং তার সহযোগী সাথীরা।
পুরো অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত চমৎকার ও প্রাঞ্জলভাবে সঞ্চালনা করেছেন ওয়াশিংটনের পরিচিত মুখ, সবার প্রিয় উপস্থাপিকা আতিয়া মাহজাবিন নিতু এবং ভয়েস অব আমেরিকার বাংলা বিভাগের সাংবাদিক, আন্তর্জাতিক ব্রডকাষ্টার, দক্ষ ও সাবলীল সঞ্চালক জনাব ফকির সেলিম।
ওয়াশিংটনের প্রবাসী বাঙ্গালীরা উপস্থিত থেকে অনুষ্ঠানটি উপভোগ করেছেন এবং অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ওয়াশিংটন মেট্রো এলাকার বেশ কিছু সামাজিক-সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব।

এই আয়োজন সার্থক করে তোলার জন্য যারা নেপথ্যে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেছেন, তারা হলেনঃ অনুষ্ঠান প্রযোজক – দস্তগীর জাহাঙ্গীর এবং দিনার মনি। চেয়ারম্যান – জাহিদ হোসেন।
প্রধান সমন্বয়ক – দেওয়ান আরশাদ আলী বিজয়। প্রধান উপদেষ্টা – মোহাম্মদ আলমগীর। অনুষ্ঠানের গ্র্যান্ড স্পন্সর – “এজাইল ওয়ান টেক”- আই,টি ট্রেনিং সেন্টার।
সহযোগী স্পন্সর – ই,এন,আর সল্যুশন এবং রুহী বুটিক ফ্যাশন। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ব্যবস্থাপনা সহায়ক – রবিউল আলম রবি এবং শম্পা বণিক।

অনুষ্ঠানের মিডিয়া পার্টনার ছিল RTV এবং ওয়াশিংটনের জনপ্রিয় অনলাইন বাংলা পত্রিকা- “নিউজ-বাংলা”। সক্রিয় সহযোগিতা করে যারা অনুষ্ঠান পরিবেশনায় বিশেষ অবদান রেখেছেন, তারা হলেনঃ- জীবক বড়ুয়া, অমর ইসলাম, শেখ সেলিম, রফিক পারভেজ, বিপ্লব দত্ত, রাজিব বড়ুয়া, আলতাফ হোসেন, শামসুজ্জোহা তালুকদার, মীর রফিকুল ইসলাম, পান্না, শিল্পী, মোস্তাফিজুর রহমান, মাহিন সুজন, সুবির কাশমীর পেরেরা, তারিকুর রহমান, মাহিনুর রহমান এবং আরও অনেকে। এছাড়াও সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানান হয় “প্রিয়বাংলা”র প্রিয়লাল কর্মকারকে।


এরপর শুরু হয় মূল অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানের শুরুতেই সঞ্চালক ফকির সেলিম এবং আতিয়া মাহজাবিন নিতু সবাইকে অনুষ্ঠানে স্বাগতম ও  সাদর শুভেচ্ছা জানান। অত:পর সম্প্রতি বাংলাদেশে ঢাকার গুলশানসস্থ ‘হলি আর্টিসান রেষ্টুরেন্ট’-এ  ঘটে যাওয়া স্থানীয় জঙ্গীদের বর্বরোচিত হত্যাযজ্ঞে নিহতদের ও তাদের শোকাহত পরিবারের জন্য সমবেদনা জ্ঞাপন করার জন্য দাঁড়িয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।

এই স্মরণ মূহুর্তে সবার অন্তরে ছিল নিরীহ নির্দোষ নিহতদের অনাকাংখিত জীবনাবসনে গভীর বেদনাক্ত অনুভূতি, স্বজনহারাদের জন্য গভীর সমবেদনা এবং হিংস্র জঙ্গীদের জন্য ছিল অভিশাপের বিষাক্ত দীর্ঘশ্বাস ও অননুমেয় ঘৃ্না।

এরপর শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ফ্যাশন শো। সন্ধ্যা থেকে মাঝ রাত অবধি পুরো অনুষ্ঠান জুড়ে ছিল নৃত্যের ঝংকার, সঙ্গীতের সুর লহরী, ফ্যাশন শোর দৃষ্টিনন্দন পরিবেশনায় তারুন্যের জোয়ার আর ছিল ওয়াশিংটনের জনপ্রিয় ব্যান্ড “জটিল”-এর মন মাতানো পরিবেশনা।

যাদের কন্ঠে সুললিত সঙ্গীতে মেতে উঠেছিল সারা সন্ধ্যা, তারা হলেনঃ

শিশু শিল্পী অপ্সরা বনিক, রবিউল আলম রবি, শম্পা বণিক, আবু রুমী, জিনাত এবং মাহিন সুজন। এই অংশে কী বোর্ডে ছিলেন শিশির, তবলায় ফজলুর চৌধুরী এবং গীটারে ছিলেন প্রান্তিক।

যাদের নৃত্যের ঝংকারে ঝংকৃত হয়ে উঠেছিল আলোকিত মঞ্চের পুরো আঙ্গিনা, যাদের নৃত্য শৈলীর শিল্পিত পরিবেশনার স্পর্শে অভিভূত হয়েছে উপস্থিত শ্রোতা-দর্শকবৃন্দ, যাদের ছন্দোময় নৃত্য পরিবেশনায় সৃষ্টি হয়েছিল সম্পূর্ন এক ভিন্ন পরিবেশের, তারা হলেনঃ

সিন্থিয়া গমেজ, লরেন গমেজ, শ্রুতি গমেজ, মুন গমেজ, মাত্রি গমেজ, র‍্যাচেল কস্তা, রিয়া কোড়ায়া, শ্রেয়া কোড়ায়া, নাজমা মরিয়ম, অদৃতা জাহাঙ্গীর ও নেজা।

এরপর ছিল ওয়াশিংটন মেট্রো এলাকার বাংলাদেশী তরুন-তরুনীদে অংশগ্রহনে অত্যন্ত প্রানবন্ত পরিবেশনায় স্বদেশী পোষাক, অলংকার এবং স্বদেশী সাজ-সজ্জার ছোঁয়ায়  সবার প্রিয় “ঈদ ফ্যাশন শো”। ফ্যাশন শো’টি ছিল সবার জন্য অত্যন্ত আনন্দদায়ক এবং তাদের পরিবেশনাও ছিল অত্যন্ত চমৎকার এবং দৃষ্টিনন্দন। ফ্যাশন শো’র পরিচালনায় ছিলেন- মুর্সালিন ইসলাম, দিনার মনি এবং অদৃতা জাহাঙ্গীর। অংশগ্রহনে ছিলেনঃ অদৃতা, নেজা, মরিয়ম, প্রমি, মাহিনুর, রফিকুল ইসলাম আকাশ, শাহাদত, মামুনুর রশিদ, তারেকুর রহমান জনি।

অতঃপর সব শেষে মঞ্চ মাতিয়ে সঙ্গীত পরিবেশন করে ওয়াশিংটনের অন্যতম জনপ্রিয় ব্যান্ড- “জটিল”। একদা বাংলাদেশের “সোলস” এর জনপ্রিয় ভোকাল সুহাসের পরিবেশনা ঈদের আনন্দকে রাংগিয়ে দেয় বহুগুন।

চাঁদ রাত উপলক্ষ্যে আয়োজিত এই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের শব্দ নিয়ন্ত্রনে ছিলেন শিশির,  আলোক নিয়ন্ত্রনে প্রান্তিক এবং কারিগরী সহযোগিতায় ছিলেন জীবক বড়ুয়া। অনুষ্ঠানের শেষ প্রান্তে এসে সবাইকে অনুষ্ঠানে উপস্থিত হওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানান জনাব দস্তগীর জাহাঙ্গীর এবং সবাইকে একই স্থানে একইভাবে আগামী বছরের “চাঁদ রাত মীনাবাজার এবং ঈদ ফ্যাশন শো’র জন্য সবাইকে অগ্রীম আমন্ত্রন জানান।

সমাসন্ন ঈদ-উল-ফিতরের আনন্দ অনুভূতি, একটি আনন্দঘন আয়োজন, একটি সুন্দর সন্ধ্যা, সবার মাঝে মিলন ও ভ্রাতৃত্ববোধ, একটি প্রাঞ্জল হ্রদয়গ্রাহী অনুষ্ঠান, অনেকগুলো স্মৃতিময় মূহুর্ত, ভাললাগার অনুভূতিতে নিজেকে সিক্ত করে নেয়ার আরেকটি অনন্য সুযোগ – “চাঁদ রাত মীনা বাজার ও ঈদ ফ্যাশন শো ২০১৬” সবার মন ভরিয়ে দিল। উৎফুল্ল চিত্তে সবাই ঘরে ফিরে গিয়েছেন আরেরকটি আনন্দঘন সূর্যোদয়ের প্রতিক্ষায়, খুশীর ঈদ  উদযাপনের প্রত্যাশায়।

You Might Also Like