হোম » বদরুল বললেন ‘সুখি হও খাদিজা’

বদরুল বললেন ‘সুখি হও খাদিজা’

ঢাকা অফিস- Monday, February 27th, 2017

খাদিজা হত্যাচেষ্টা মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণকালে আসামি বদরুল আলম আদালতে বলেন, ‘সুখি হও খাদিজা’।

রোববার বেলা ১১টা ৫০ মিনিটে সিলেট মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করা হয় বদরুল আলমকে। এর ৮ মিনিট পর খাদিজাকে নিয়ে আসা হয় আদালতে। দুপুর ১২টায় সাক্ষ্য দিতে শুরু করেন খাদিজা। কিন্তু এর মধ্যে আদালতে কড়জোড়ে ‘কিছু বলতে চাই’ বলে চিৎকার করে ওঠেন বদরুল।

বিচারককে উদ্দশ্য করে বদরুল বলতে থাকেন, ‘আমি কিছু বলতে চাই। আমাকে একটা সুযোগ দিন। আমি সত্য কথা বলব। আমি একজন শিক্ষক ছিলাম, আমি বঙ্গবন্ধুর সৈনিক।’

এ সময় বদরুলকে সতর্ক করে দেন আদালতের বিচারক সাইফুজ্জামান হিরো। বিচারক বলেন, ‘আদালত বক্তৃতা দেয়ার জায়গা নয়।’ বিচারকের কথার পর কান্নায় ভেঙে পড়েন বদরুল।

সাক্ষ্য গ্রহণের পর আদালত আগামী ১ মার্চ যুক্তিতর্কের তারিখ ধার্য করেন। এ সময় ফের উত্তেজিত হয়ে ওঠেন বদরুল। তিনি চিৎকার করে বলতে থাকেন, ‘তুমি সুখি হও, খাদিজা। বিচারক আল্লাহ আছেন। আমার ফাঁসি হোক। তুমি আমার পরিবারকে পথে বসিয়েছ। মিথ্যাবাদী।’

বদরুলের আইনজীবী ও পুলিশ সদস্যরা এ সময় তাকে শান্ত করেন। পরে আদালত থেকে তাকে নিয়ে যাওয়া হয়।

খাদিজা হত্যাচেষ্টা মামলায় রোববার আদালতে সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়েছে। মামলার মোট ৩৭ সাক্ষীর মধ্যে আদালত ৩৪ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেছেন। সর্বশেষ সাক্ষী হিসেবে আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন খাদিজা। সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য বেলা ১০টা ৩৫ মিনিটে খাদিজা তার পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের সাথে আদালতে আসেন।

প্রসঙ্গত, গত ৩ অক্টোবর এমসি কলেজের পুকুরপাড়ে সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী খাদিজা বেগম নার্গিসকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অনিয়মিত ছাত্র ও শাবি ছাত্রলীগের সহসম্পাদক বদরুল আলম। ঘটনার পরপরই শিক্ষার্থীরা বদরুলকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন।

এ ঘটনায় খাদিজার চাচা আবদুল কুদ্দুস বাদী হয়ে বদরুলকে একমাত্র আসামি করে মামলা দায়ের করেন। গত ৫ অক্টোবর বদরুল আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। এ ঘটনার পর শাবি থেকে চিরতরে বহিষ্কার করা হয় বদরুলকে।

সর্বশেষ সংবাদ