বঙ্গোপসাগরে ভারতের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা, যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ

নতুন ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালিয়েছে ভারত। সম্প্রতি বঙ্গোপসাগরে পানির নিচ থেকে পরমাণু অস্ত্র বহনে সক্ষম আন্তমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালানো হয়। ভারতের সংবাদমাধ্যম ‘দ্য নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’ এ তথ্য জানিয়েছে। এই পরীক্ষা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

ভারতের প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা ডিআরডিওয়ের বরাত দিয়ে ‘দ্য নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’ জানিয়েছে, চলতি মার্চের শুরুর দিকে কে-ফোর নামক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালানো হয়। বঙ্গোপসাগরের অজ্ঞাত স্থানে পানির ৩০ ফিট নিচে স্থাপিত নকল ডুবোজাহাজের (সাবমেরিন) প্লটফর্ম থেকে ক্ষেপণাস্ত্রটি ছোঁড়া হয়। পরীক্ষা ‘অত্যন্ত সফল’ বলে দাবি করেছে ডিআরডিও।

জানা গেছে, পরমাণু অস্ত্র বহনে সক্ষম মধ্যম পাল্লার ক্ষেপনাস্ত্র কে-ফোর। পানির ৩৯ ফিট নিচ থেকে এটি ছোড়া যায়। কে-ফোর ক্ষেপণাস্ত্র ১৭ টন ওজনের হতে পারে এবং প্রতিটি ক্ষেপণাস্ত্র ২ টন পর্যন্ত পরমাণু অস্ত্র বহনে সক্ষম। লেজার নিয়ন্ত্রিত কে-ফোর ক্ষেপণাস্ত্র সাড়ে তিন হাজার কিলোমিটার দূরত্ব পর্যন্ত লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁতভাবে আঘাত হানতে পারে। আর এই দূরত্ব অতিক্রম করে শব্দের চেয়ে দ্রুতগতিতে।

জাপানের সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ডিপ্লোম্যাট’ জানায়, চলতি মাসের চালানো পরীক্ষায় কে-ফোর ক্ষেপণাস্ত্রটি সাড়ে তিন হাজার কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করে। এর আগে ২০১৪ সালের মার্চে কে-ফোর ক্ষেপণাস্ত্রের অপর এক পরীক্ষা চলানো হয়। সেখানে ক্ষেপণাস্ত্রটি তিন হাজার কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রিম করতে সক্ষম হয়েছিল। জানা গেছে, ডিআরডিও অপর একটি কে ক্লাস ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার চিন্তা করছে যা পাঁচ হাজার কিলোমিটার দূরত্ব পর্যন্ত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারবে।

ডিআরডিওয়ের বরাত দিয়ে ‘দ্য ডিপ্লোম্যাট’ জানিয়েছে, কে-ফোর ক্ষেপণাস্ত্রের আরো দুটি পরীক্ষা চালানো হবে। তবে পরীক্ষা দুটি চালানো হবে ভারতের আরিহাত ডুবোজাহাজ থেকে। চলতি মাসেই এটি ভারতীয় সেনাবাহিনীতে কমিশন লাভ করবে। রাশিয়ার আকুলা ওয়ান ক্লাস ডুবোজাহাজ পরমাণু শক্তিতে চলে। আরিহাত ডুবোজাহাজে চারটি কে ক্লাস ক্ষেপণাস্ত্র রাখার সুবিধা আছে। কে ক্লাস ক্ষেপণাস্ত্রের সর্বোচ্চ ক্ষমতা ৭৫০ কিলোমিটার।

যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ

ভারতের ক্ষেপনাস্ত্র পরীক্ষা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এমন পরীক্ষা পরমাণু অস্ত্রের নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং স্থানীয় নিরাপত্তায় ঝুঁকি বাড়াবে বলে মনে করে তারা।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মার্ক টোনার সাংবাদিকদের কাছে তাঁদের উদ্বেগের কথা জানান। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, যেকোনো ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষায় পরমাণু অস্ত্রের নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ে। পরমাণু অস্ত্র ও ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা না চালাতে সব দেশকেই অনুরোধ করে যুক্তরাষ্ট্র।

মার্ক টোনার আরো বলেন, এরই মধ্যে নয়া দিল্লিকে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগের কথা জানানো হয়েছে।

You Might Also Like