বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপের ফাইনাল আজ

তৃতীয় বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপে ফাইরাল আজ। ফাইনালে বাংলাদেশের মুখোমুখি মালয়েশিয়া অনুর্ধ্ব-২৩। আজ ফাইনালে প্রধান অতিথি থাকবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আজ রবিবার বিকাল ৫টায় বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের এই ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হবে।

প্রথম ম্যাচে মালয়েশিয়ার কাছে হারের পর সে স্বপ্ন ফিকে হয়ে গেলেও পরের দুই জয়ে বাংলাদেশ এখন শিরোপা থেকে এক পা দূরে। আর আসরের অন্য দলগুলোর শক্তিমত্তা বুঝিয়ে দিয়েছে তৃতীয় বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপে বাংলাদেশের শিরোপা না জেতাটাই হবে বিস্ময়কর।

সবার অনূর্ধ্ব ২৩ দলের (শ্রীলঙ্কা ছাড়া) বিপরীতে বাংলাদেশের পূর্ণ মাত্রার জাতীয় দল। তেমনই এক অনূর্ধ্ব-২৩ অলিম্পিক দল মালয়েশিয়ার। এই মালয় যুবারাই আজ বাংলাদেশের ফাইনালে বাধা।

১৯৯৬ সালের প্রথম বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ বাংলাদেশের কোনো কাব এবং ১৯৯৯ সালের দ্বিতীয় আসরে বাংলাদেশ জাতীয় দল ফাইনাল খেলতে পারেনি। তৃতীয় প্রচেষ্টায় সে লক্ষ্য পূরণ। এখন অপেক্ষা দেশের মাটিতে চতুর্থ আন্তর্জাতিক শিরোপায় হাত ছোঁয়ানো। আজ ট্রফি জয়ে বাংলাদেশ দলের কোচ-খেলোয়াড়েরা যেমন উজ্জীবিত, তেমনি স্বাগতিকদের সম্ভাবনা দেখছেন জাতীয় দলের সাবেক কোচরাও।

আজ বাংলাদেশ শিরোপা জিতলেও অপরাজিত চ্যাম্পিয়নের খেতাবটা লাগাতে পারছে না। গ্রুপের এবং আসরের উদ্বোধনী ম্যাচেই যে এই মালয়েশিয়া যুবদলের কাছে ০-১ গোলে হেরেছিল বাংলাদেশ। তবে সেই হারকে স্রেফই দুর্ভাগ্য হিসেবে দেখছেন সবাই। এরপর শ্রীলঙ্কাকে হেমন্তের গোলে ১-০-তে হারিয়ে সেমিতে আসা। আর সেমিফাইনালে থাইল্যান্ডকে কাবু করে এখন প্রথম ম্যাচে হারের বদলা আর শিরোপার উৎসবের অপেক্ষায় মামুনুল জাহিদরা। সেমিতে জয়ের নায়ক নাসির চৌধুরী।

বাংলাদেশের মৃতপ্রায় ফুটবলকে জাগাতে এ ধরনের শিরোপা অতি জরুরি। ক্রিকেট তো এভাবেই আজ জনপ্রিয়তার শীর্ষে।

যতদূর জানা গেছে, ফুটবলে এটি বাংলাদেশের ১৪তম ফাইনাল। ১৯৮৪ সালের কাঠমান্ডু সাফ গেমসে বাংলাদেশকে হারিয়ে স্বর্ণ জিতে নেপাল। ১৯৮৫ সালের ঢাকা সাফ এবং ১৯৮৯ সালের ইসলামাবাদ সাফ গেমসের ফাইনালে বাংলাদেশকে হতাশ করে যথাক্রমে ভারত ও পাকিস্তান। ১৯৮৯ সালের প্রেসিডেন্টস গোল্ডকাপে বাংলাদেশ প্রথম নিজ মাঠে এবং আন্তর্জাতিক আসরে প্রথম ট্রফি জেতে দক্ষিণ কোরিয়ার একটি বিশ্ববিদ্যালয় দলকে টাইব্রেকারে হারিয়ে। ১৯৯৫ সালের মাদ্রাজ সাফ গেমস ফুটবল ফাইনালে আবার ভারতের কাছে হার। ১৯৯৫ সালে বাংলাদেশ প্রথম বিদেশের মাটিতে ট্রফি জেতে মিয়ানমারে। ফাইনালে প্রতিপক্ষ ছিল মিয়ানমার। সে ধারা অব্যাহত রেখে ১৯৯৯ সালের সাফ গেমসে প্রথম ফুটবল স্বর্ণ আসে নেপালকে তাদের মাটিতে হারিয়ে। সে বছরই গোয়া সাফে বাংলাদেশের ফাইনাল হতাশা আবার ভারত।

২০০৩ সালে বাংলাদেশ প্রথম সাফ ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন হয় নিজ মাঠে মালদ্বীপকে পরাজিত করে। এর তিন সপ্তাহ আগে ভুটানকে হারিয়ে জিগমে দর্জি ওয়াংচুক ট্রফি জয় করে বাংলাদেশ। ২০০৫ সালে মিয়ানমারের গ্র্যান্ড রয়েল চ্যালেঞ্জ কাপে মিয়ানমারের কাছে ফাইনালে পরাজিত হয় বাংলাদেশ। সে ধারা অব্যাহত ছিল ওই বছরের করাচি সাফে। এবারো ফাইনালে ভারতের কাছে পরাজয়।

২০১০ সালের এসএ গেমসের ফাইনালে বাংলাদেশ হারায় আফগানিস্তানকে। আজ নিজ মাঠে টানা তৃতীয় সাফল্য ধরে রাখার মিশন ডাচ কোচ লর্ড উইগ ডি ক্রুয়েফ ও অধিনায়ক মামুনুলদের। এ শতাব্দীতে ২০০৩ ও ২০১০ সালে দু’বার নিজ দেশে ফাইনালে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল বাংলাদেশ।

আজ চ্যাম্পিয়ন হলে ফুটবল দলকে ৫০ লাখ টাকা পুরস্কারের ঘোষণা দিয়েছেন বাফুফে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন। সেমিতে জয়ের পরও এই অর্থ দেয়ার ঘোষণা দেন। এ ছাড়া শেখ জামাল সভাপতি মনজুর কাদের দেবেন ২০ লাখ টাকা। শিরোপা জিতলে আরো কত পুরস্কার মিলবে।

You Might Also Like