বগুড়ায় অপহরণের দায়ে পুলিশ কনস্টেবলসহ ৬ জন আটক

প্রেমের অভিনয় করে প্রবাসী এক যুবককে আটকে রেখে মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের এক কনস্টেবল ও তিন যুবতীসহ ৬ জনকে আটক করেছে পুলিশ।

বুধবার বিকেলে গোয়েন্দা পুলিশ শহরের খান্দা এলাকায় একটি গ্যারেজ থেকে তাদেরকে গ্রেফতার করে। এসময় সিঙ্গাপুর প্রবাসী যুবক আনোয়ার হোসেনকে (২৯) উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা হলো; বগুড়া শহরের মালগ্রামের আশরাফুল আলম (২৯), খান্দারের সাখাওয়াত হোসেন পলাশ (৪১), গাবতলীর নদী খাতুন (২৫), সারিয়াকান্দির শিউলী বেগম (২৮), একই এলাকার রতœা খাতুন (১৯) এবং গোয়েন্দা পুলিশের কনস্টেবল রুহুল আমিন।

জানা গেছে, সারিয়াকান্দি উপজেলার ভেলাবাড়ি জোড়গাছা গ্রামের সারোয়ার হোসেনের সিঙ্গাপুর প্রবাসী ছেলে আনোয়ার হোসেন সম্প্রতি দেশে আসে। দেশে ফেরার পরে নদী নামের এক যুবতীর সাথে মোবাইল ফোনে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সেই সুবাদে নদীর সাথে দেখা করার জন্য আনোয়ার হোসেন বুধবার সকালে বগুড়া শহরে আসে। এরপর একটি পার্কে তাদের দেখা হওয়ার পর গ্রেফতারকৃত অন্যদের সহযোগিতায় আনোয়ার হোসেনকে আটকে রেখে এক লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। আনোয়ারের পরিবার বিষয়টি পুলিশকে জানালে গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল মাঠে নামে। বিকেল ৪ টার দিকে শহরের খান্দার এলাকায় গ্রেফতারকৃত পলাশের গ্যারেজে আটক অবস্থায় আনোয়ার হোসেনকে উদ্ধার করা হয়। এ সময় ওই গ্যারেজ থেকে ৬ জনকে আটক করা হয়। আটককৃতদের মধ্যে গোয়েন্দা পুলিশের কনস্টেবল রুহুল আমিনও রয়েছেন।

জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি আমিরুল ইসলাম জানান, প্রেমের অভিনয় করে আনোয়ার হোসেনকে বগুড়া শহরে ডেকে এনে খান্দারে পলাশে গ্যারেজে আটকে রেখে মুক্তিপন দাবি করেছে এমন খবর পেয়ে গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল সেখানে অভিযান চালিয়ে চক্রটিকে ধরে ফেলে। এসময় গোয়েন্দা পুলিশের কনস্টেবল রুহুল আমিনকেও সেখানে পাওয়া যায়। তবে, এই ঘটনায় সে জড়িত কি-না সেটা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের না জানিয়ে একাই ঘটনাস্থলে যাওয়ায় তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

You Might Also Like