বউ না দিলে ভোট নাই

মহা মুশকিলে ভারতের হরিয়ানার রাজনৈতিক নেতারা। শাসক-বিরোধী নেতারা ভোটারদের আবদারের ব্যবস্থা কি করে করবেন ভেবে কূল কিনারা করতে পারছেন না। পানি, বিদ্যুৎ বা পাকা সড়কের দাবি না, হরিয়ানার জিন্দ জেলার পুরুষদের দাবি এখানকার অবিবাহিত পুরুষদের জন্য বিবাহযোগ্য কন্যে খুঁজে দিতে হবে। তা না হলে আগামী নির্বাচনে কোনও দলেরই ভোট পাওয়ার আশা নেই। এমনকি এই দাবিতে একজোট হয়ে সেখানকার অবিবাহিত পুরুষরা একটি ইউনিয়নও তৈরি করে ফেলেছেন।

কেন এই অদ্ভুত দাবি। আপাতদৃষ্টিতে বিষয়টি মজার মনে হলেও এর পিছনের রয়েছে জটিল সামাজিক বৈষম্য। উত্তরভারতে কন্যাভ্রুণ হত্যার মাসুল কিভাবে গুনতে হতে পারে তার জ্বলন্ত প্রমাণ এই জেলা। ভারতের অন্যান্য অনেক রাজ্যের মত এখানেও পুরুষ ও মহিলার অনুপাত ভারসাম্য নষ্ট হয়ে গিয়েছে। জিন্দ জেলায় ১০০০ জন পুরুষের তুলনায় ৮২৭ জন মহিলা রয়েছেন।

যা স্বাভাবিকের থেকে অনেকটাই কম। ফলস্বরূপ বহু পুরুষই বিবাহের জন্য মেয়ে পাচ্ছেন না। অনেকে ভিনজেলা থেকে বিয়ের ব্যবস্থা করে এলেও তাদের পরিবার সেটা মেনে নিতে পারছেন না। মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা হয়েছে বিয়ের সম্বন্ধ করার বিপুল খরচ। সুযোগের সদ্ব্যবহার করে বিবাহ সংস্থা গুলি পাত্রীর সন্ধান দেওয়ার জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থের দাবি জানাচ্ছেন। এর ফলে গরিব পরিবার তো বটেই বিত্তশালী পরিবারগুলি অবিবাহিত পুরুষদের বিয়ে দিতে পারছেন না।

তাই বাধ্য হয়ে ২০০৯ সালে এই ইউনিয়্ন তৈরী করছেন এখানকার সাধারণ মানুষ। তবে ঠিক কতজন পুরুষ অবিবাহিত তার সঠিক সংখ্যা না জানলেও এটা সঠিক যে বিয়ে করার পাত্রী নেই জেলায় বলে জানালেন ইউনিয়নের সদস্য প্রদীপ সিং।

মজার কথা এই যে খাপ পঞ্চায়েতও ইউনিয়নে এই দাবিকে সমর্থন করেছে। জেলার বিজেপি নেতা ও পি ধানকাদ বিহার থেকে পাত্রী এনে হরিয়ানার অবিবাহিত পুরষদের বিয়ের ব্যবস্থা করবেন বলে বিতর্কে জড়িয়েছিলেন। তারপর থেকেই রাজনীতিবিদরা এই বিষয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছেন।

কংগ্রেসের এক বরিষ্ঠ নেতা অবশ্য এই দাবিকে অবাস্তব বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, যখন কন্যাভ্রুণ হত্যা করা হয় তখন কেন বিয়ে নিয়ে ভাবে না এরা। বিয়ের বাজারে পাত্রী কোনো পণ্য নয় বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন তিনি।– ওয়েবসাইট

You Might Also Like