হোম » ফিলিস্তিনি বিক্ষোভকারীদের ইসরায়েলি বাহিনীর গুলি

ফিলিস্তিনি বিক্ষোভকারীদের ইসরায়েলি বাহিনীর গুলি

ঢাকা অফিস- Thursday, December 7th, 2017

একতরফাভাবে যুক্তরাষ্ট্র জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রতিবাদে পশ্চিম তীর ও গাজা উপত্যকায় বৃহস্পতিবার আয়োজিত ফিলিস্তিনিদের বিক্ষোভে গুলি, কাঁদানে গ্যাস ছুঁড়েছে ইসরায়েলি বাহিনী।

চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে ১৭ ফিলিস্তিনি বিক্ষোভকারী আহত হয়েছেন। তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরায়েলের পতাকা, ট্রাম্পের ছবি ও টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। নিরস্ত্র ফিলিস্তিনিরা ইসরায়েলি সেনাদের ওপর পাথর ছুঁড়ে প্রতিবাদ জানায়। এর জবাবে সেনারা তাদের ওপর গুলি ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, পশ্চিম তীরের হেবরন ও আল-বিরেহ শহরে হাজার হাজার ফিলিস্তিন বিক্ষোভে অংশ নেয় এবং ‘জেরুজালেম ফিলিস্তিনের রাজধানী’ বলে স্লোগান দিতে থাকে তারা।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, একজন সরাসরি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন এবং অন্য ১৪ জন বারাব বুলেটে আহত হয়েছেন। তবে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র দাবি করেছেন, পাথর ছোঁড়া শত শত বিক্ষোভকারীর বিরুদ্ধে ‘রায়ট-ডিসপারজাল গিয়ার’ ব্যবহার করেছে সেনারা।

গাজা উপত্যকায় সীমান্তের কাছে ফিলিস্তিনিরা জড়ো হয়ে বিক্ষোভের সময় অন্য পাশে ইসরায়েলি সেনাদের লক্ষ্য করে পাথর ছোঁড়ার জবাবে সেনাদের গুলিতে দুই বিক্ষোভকারী আহত হয়। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ায় এর প্রতিবাদে বিক্ষোভের ডাক দেয় ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষ। হামাস নিয়ন্ত্রিত গাজা উপত্যকার নেতা ইসমাইল হানিয়া নতুন আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার জুড়ে গাজার বিভিন্ন শহর বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠে।

বিক্ষোভকারীদের যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে গাজা ও পশ্চিম তীর। এদিকে, জর্ডানের রাজধানী আম্মানে ফিলিস্তিনি শরণার্থীরা বিক্ষোভ করে। আম্মানের পাশে বাকা শরণার্থীশিবিরের শত শত ফিলিস্তিনি রাস্তায় নেমে ক্ষোভ প্রকাশ করে এবং ১৯৯৪ সালে ইসরায়েলের সঙ্গে স্বাক্ষরিত শান্তি চুক্তি প্রত্যাহারে জর্ডান সরকারের প্রতি আহ্বান জানায়।

বিক্ষোভকারীরা সমস্বরে ধ্বনি তোলে, ‘আমেরিকার পতন হোক… আমেরিকা সন্ত্রাসের জননী।’ যিশু খ্রিষ্টের পবিত্র জন্মভূমি ঐতিহ্যবাহী বেথেলহেমে খ্রিষ্টমাসের বাতি নিভিয়ে দেয় বিক্ষোভকারীরা।

খ্রিষ্টানরা বিশ্বাস করে, বেথেলহেমের ‘চার্চ অব দি ন্যাটিভিটি’ যিশু খ্রিষ্টের জন্মস্থান। এই চার্চের বাইরে একটি ও রামাল্লাহতে ইয়াসির আরাফাতের কবরের পাশে আরেকটি খ্রিষ্টমাস ট্রির শোভাবর্ধক বাতি নিভিয়ে দেয় বিক্ষোভকারীরা।

ফিলিস্তিনের সব রাজনৈতিক দল-মত ঐক্যবদ্ধ হয়ে বৃহস্পতিবার বিক্ষোভে নামে। তাদের ঘোষণা অনুযায়ী, বিক্ষোভ চলবে। গাজা উপত্যকার উত্তরাংশে জাবালিয়া শরণার্থীশিবিরের কয়েক শত ফিলিস্তিনি ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, ওই অঞ্চলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়বে।
গাজা সিটির প্রাণকেন্দ্র ও গাজার দক্ষিণাঞ্চলে একই চিত্র দেখা গেছে। ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষের প্রয়াত নেতা ইয়াসির আরাফাতের ছবি ও তাদের পতাকা নিয়ে বিক্ষোভকারীদের আমেরিকাবিরোধী মুহুর্মুহু স্লোগানে প্রকম্পিত হয় আকাশ।

ট্রাম্পের ঘোষণার বিরুদ্ধে সারা মুসলিম বিশ্ব ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন নিন্দা প্রকাশ করেছে। রাশিয়ার এ পদক্ষেপের সমালোচনা করেছে। এখন পর্যন্ত শুধু ফিলিপাইন ও চেক রিপাবলিক ট্রাম্পের ঘোষণা সমর্থন করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের মতো তারাও তেল আবিব থেকে জেরজালেমে তাদের দূতাবাস স্থানান্তর করার কথা জানিয়েছে।

সহিংসতা, অস্থিতিশীলত ও অশান্তি ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা ব্যক্ত করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ট্রাম্পকে এ ধরনের ঘোষণা না দিতে আহ্বান জানালেও তিনি কারো কথা রাখেননি। ট্রাম্পের ঘোষণার পরও অনেক দেশ একই ধরনের আশঙ্কা ব্যক্ত করে তার সমালোচনা করেছে।

ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস বলেছেন, ট্রাম্পের এই ঘোষণা সেই উগ্রবাদীদের সুযোগ করে দিয়েছে, যারা ধর্মীয় যুদ্ধ বাঁধাতে চায়।

তথ্যসূত্র : রয়টার্স ও দি ইন্ডিপেনডেন্ট অনলাইন