ফখরুলসহ ৩৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র, আব্বাসের জামিনে স্থগিতাদেশ বাড়ল

রাজধানীর পল্টন থানার নাশকতা মামলায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ ৩৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিয়েছে পুলিশ।

আজ (সোমবার) সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে ঢাকা মহানগর হাকিম আতিকুর রহমানের আদালতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পল্টন থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মুমিনুল ইসলাম এ অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

চার্জশিটের অপর আসামিরা হলেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য রফিকুল ইসলাম মিয়া, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সামসুজ্জামান দুদু, আব্দুল আওয়াল মিন্টু, ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব বরকতুল্লাহ বুলু, বিএনপি নেতা খায়রুল কবির খোকন, হাবিব-উন-নবী খান সোহেল ও শিমুল বিশ্বাস। এদের মধ্যে বুলুসহ ২০ জনকে পলাতক দেখিয়ে গ্রেফতারি পরোয়ানার আবেদন করা হয়।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০১৫ সালে ৬ জানুয়ারি পল্টন থানাধীন বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম ও রাজউক ভবনের মধ্যবর্তী স্থানে বিএনপির অবরোধ চলাকালে বিআরটিসি বাসে যাত্রী হত্যার উদ্দেশে আসামিরা অগ্নিসংযোগ করে। এছাড়া আসামিরা আরও একটি প্রাইভেটকারে অগ্নিসংযোগ করে। এ ঘটনায় বিআরটিসি বাসের চালক মিল্টন আলী বিশ্বাস বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

এদিকে, প্লট দুর্নীতি মামলায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসকে হাইকোর্টের দেয়া জামিন আরো এক সপ্তাহের জন্য স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগ।

দুর্নীতি দমন কমিশনের আবেদনের শুনানি নিয়ে আজ (সোমবার) প্রধান বিচারপতি ‍সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে ৫ সদস্যের আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে মির্জা অব্বাসের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জয়নুল আবেদীন ও নিতাই রায় চৌধুরী। দুদকের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী খুরশীদ আলম খান।

গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী থাকাকালে প্লট বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগে ২০১৪ সালে শাহবাগ থানায় মামলা করে দুদক। এ মামলা ছাড়াও নাশকতার দুই মামলায় গত ৬ জানুয়ারি বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ করেন আব্বাস। কিন্তু বিচারিক আদালতে জামিন আবেদন করে বিফল হয়ে হাইকোর্টে জামিনের আবেদন জানান তিনি।

হাইকোর্ট ইতোমধ্যে দুই মামলায় জামিন দিয়ে দুর্নীতির মামলায় রুল জারি করেন। গত ৯ মার্চ এ রুল নিষ্পত্তি করে তাকে জামিন দেন হাইকোর্ট। কিন্তু দুদক জামিন স্থগিত চেয়ে আবেদন করার পর গত ১০ মার্চ চেম্বার বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার আবেদনটি ১৪ মার্চ শুনানির জন্য আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে পাঠিয়ে দেন।

গত ১৪ মার্চ এ আবেদনের শুনানি শেষে হাইকোর্টের জামিনের আদেশ এক সপ্তাহের জন্য স্থগিত করা হয়। সোমবার এ স্থগিতাদেশের মেয়াদ ফের এক সপ্তাহ বাড়ানো হলো।
এর ফলে কারাবন্দি অবস্থায় বারডেমে চিকিৎসাধীন বিএনপির এ নেতার জামিনে মুক্তি আরো পিছিয়ে গেল।-রেডিও তেহরান

You Might Also Like