প্রবৃদ্ধিতে চীনকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে ভারত : সমীক্ষা

ধারবাহিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে চীনকে ছাড়িয়ে বৈশ্বিক অর্থনীতির নতুন মেরু হয়ে উঠছে ভারত।

হারভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সমীক্ষায় বলা হয়েছে, আগামী দশকে বৈশ্বিক অর্থনীতির প্রবৃদ্ধিতে চীনকে পেছনে ফেলে নেতৃত্বে থাকবে ভারত।

হারভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট (সিআইডি) তাদের সমীক্ষায় প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাসে বলেছে, ২০২৫ সাল নাগাদ দ্রুত বর্ধমান অর্থনীতির দেশগুলোর তালিকায় শীর্ষে থাকবে ভারত। এ সময়ে বিভিন্ন কারণে ভারতের গড় প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ৭ থাকবে।

সিআইডির গবেষণায় বলা হয়েছে, ‘গত কয়েক বছর ধরে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির অর্থনৈতিক মেরু চীন থেকে সরে প্রতিবেশী ভারতে চলে গেছে, যেখানে আগামী দশকেও তা থাকবে।’ নতুন নতুন ক্ষেত্রে ভারতের অর্থনীতির বহুমুখীকরণ এবং এ ক্ষেত্রে দেশটির সক্ষমতার ওপর আলোকপাত করেছেন গবেষকরা।

প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ‘জটিল কিছু সেক্টরকে রপ্তানিমুখী করতে পথ তৈরি করেছে ভারত। এসব স্কেটরের মধ্যে রয়েছে কেমিক্যাল, যানবাহন ও ইলেক্ট্রনিক্স পণ্য।’

সমীক্ষায় বলা হয়েছে, ‘তেলভিত্তিক অর্থনীতির দেশগুলো এক সম্পদের ওপর নির্ভর করায় খারাপ অভিজ্ঞতার মুখে পড়েছে। এর বিপরীতে ভারত, ভিয়েতনাম ও ইন্দোনেশিয়া এক নতুন সক্ষমতা অর্জন করেছে, যা আরো ভিন্ন ভিন্ন ও জটিল পণ্য উৎপাদনে সহায়তা করছে তাদের। যে কারণে আগামী বছরগুলোতে তাদের দ্রুততম প্রবৃদ্ধি হবে বলে ভবিষ্যদ্বাণী করা হচ্ছে।’

সিআইডির সমীক্ষায় যেসব দেশের দ্রুত প্রবৃদ্ধি হবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, সেগুলো হলো- ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম, উগান্ডা, তুরস্ক ও বুলগেরিয়া। রাজনৈতিক, প্রাতিষ্ঠানিক, ভৌগোলিক ও জনসংখ্যার বিচারে এসব দেশ সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে।

কর্মশক্তির বিস্তারের সক্ষমতার হাত ধরে নতুন নতুন পণ্যের বহুমুখীকরণ ও চাহিদা অনুযায়ী আরো জটিল পণ্য উৎপাদনের সক্ষমতার কারণে এসব দেশ প্রবৃদ্ধির সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে।

প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিতে গিয়ে দেশগুলোকে তিনটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়েছে। এক. যেসব দেশের খুব কম উৎপাদনশীল ক্ষমতা রয়েছে কিন্তু সহজে সংশ্লিষ্ট পণ্য ছড়িয়ে দেওয়ার সক্ষমতা রয়েছে; দুই. সেসব দেশ, যাদের পণ্য বহুমুখীকরণ ও সহজে প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর পর্যাপ্ত সুযোগ রয়েছে। এই ক্যাটাগিরিতে রয়েছে ভারত, ইন্দোনেশিয়া ও তুরস্ক; তিন. জাপান, জার্মানি, যুক্তরাষ্ট্রের মতো উন্নত দেশ, যারা এরই মধ্যে বিদ্যমান সব পণ্য উৎপাদনে সক্ষম। প্রযুক্তিতে এগিয়ে থাকা এসব দেশের অগ্রগতিতে প্রয়োজন নতুন নতুন উদ্ভাবন, যা তাদের প্রবৃদ্ধিকে উঁচুতে রাখবে। কিন্তু উদ্ভাবনী পণ্য দিয়ে প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর প্রক্রিয়া বেশ ধীর গতির।

উল্লেখ্য, বৈশ্বিক উন্নয়নের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা ও বৈশ্বিক দারিদ্র্য দূরীকরণের সহজ সমাধানের পথ নিয়ে উচ্চতর পর্যায়ের গবেষণা করে পূর্বাভাস দিয়ে থাকে হারভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সিআইডি।

You Might Also Like