প্রবাসে মৃত্যুদণ্ড স্থগিত হয়েছে ২৯ জন বাংলাদেশির

হত্যাজনিত অপরাধের কারণে সৌদি আরব, দুবাইসহ মোট ৬টি দেশে মোট ৫০ জন বাংলাদেশি কর্মীকে সংশ্লিষ্ট দেশের আদালত কর্তৃক মৃত্যৃদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ৫০ বাঙালির মধ্যে ২৯ জন কর্মীর মৃত্যুদণ্ড রহিত করার সমঝোতা হয়েছে। ইতিমধ্যে তাদের ক্ষমাপত্র সংশ্লিষ্ট দূতাবাসগুলোতে পাঠানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন এতথ্য জানান। স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য হাজী মোহাম্মদ সেলিমের প্রশ্নের জবাবে তিনি আরো জানান, হত্যাজনিত অপরাধে সৌদি আরবে ১২ জন, সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে ২৩ জন, আবুধাবীতে ১ জন, কুয়েতে ১২ জন এবং বাহরাইন ও সিঙ্গাপুরে একজন করে মোট ৫০ জনকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে।

তিনি জানান, মৃত্যুদনণ্ডপ্রাপ্তদের মুক্তকরণের লক্ষ্যে ওয়েজ আনার্স কল্যাণ বোর্ডের তত্ত্বাবধানে স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে নিহত ও অভিযুক্ত উভয় পরিবারের মধ্যে সমঝোতার উদ্যেগ গ্রহণ করা হয়। ইতোমধ্যে ২৯ জনের মৃত্যুদণ্ড রহিত করা হয়েছে।

মন্ত্রী জানান, মৃত্যুদণ্ড রহিতকারীদের তালিকায় দুবাইয়ের ২৩ জনের মধ্যে ১৯ জন এবং কুয়েতের ১২ জনের মধ্যে ১০ জন রয়েছে। এই ২৯ জনের ২১ জন কর্মীর মৃত্যুদণ্ড সংশ্লিষ্ট আদালত কর্তৃক রহিত করা হয়। বাকি আটজন কর্মীর রায় অপেক্ষমান। এ ছাড়া মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সকল কর্মীকে মৃত্যুদণ্ড থেকে রক্ষায় সমঝোতার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দূতাবাসের মাধ্যমে আইনগত সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

ফরমালিন নিয়ন্ত্রণ আইন চূড়ান্ত পর্যায়ে। সরকারি দলের সদস্য এ কে এম শাহজাহান কামালের এক প্রশ্নের জবাবে সংসদে বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, ফরমালিন ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে আইন প্রণয়নের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। ফরমালিন নিয়ন্ত্রণে ইতিমধ্যে কতিপয় সম্পৃক্ত কেমিক্যালস নিষিদ্ধ করে এসআরও ২১৩ আইন- এ গত ৭ আগষ্ট গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি আয় কমেছে ॥ বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ জানিয়েছেন, চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি আয় কমেছে। এর পরিমাণ শূন্য দশমিক ৪৭ শতাংশ, যা অতি নগণ্য। আওয়ামী লীগের সদস্য মোরশেদ আলমের প্রশ্নের জবাবে তিনি আরো জানান, বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের ১৯ শতাংশই আসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে। ইউনাইটেড স্টেটস ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড কমিশনের হিসাব মতে, ২০১৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ছিল ৮ দশমিক ৯৪ শতাংশ।

আওয়ামী লীগের মাহফজুর রহমানের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, বর্তমানে ১৭টি অত্যাবশকীয় বিভিন্ন দেশ হতে আমদানি করা হয়। এরমধ্যে চারটি পণ্য শতভাগ আমদানি নির্ভর। শতভাগ আমদানি নির্ভর পণ্যের মধ্যে রয়েছে- লবঙ্গ, এলাচি, জিরা ও পামওয়েল। এছাড়া আমদানি নির্ভর অন্যান্য অত্যাবশকীয় পণ্যর মধ্যে রয়েছে দারুচিনি ৯৮ ভাগ, সয়াবিন তেল ৯৮ ভাগ, ছোলা ৯০ ভাগ, চিচি ৯০ ভাগ। এ ছাড়া পিঁয়াজ, রসুন, মশুর ডাল, শুকনা মরিচ, ধনিয়া আদা, হলুদ, তেজপাতা, লবণ আমদানি করা হয়।

সিমেন্ট রপ্তানি বৃদ্ধিতে আন্তর্জাতিক মেলা। বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ সংসদে জানিয়েছেন, দেশে উৎপাদিত সিমেন্ট দেশের চাহিদা পূরণ করে এখন রপ্তানি করা হচ্ছে। সরকার সিমেন্ট রপ্তানি বৃদ্ধিতে নানা পদক্ষেপ হাতে নিয়েছে। এরমধ্যে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যসমূহের যে কোন একটিতে সাত দিনব্যাপী একটি বিশেষায়ীত মেলা আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে। এ মেলায় সিমেন্টকে প্রাধান্য দেওয়া হবে। এ ছাড়া সিমেন্ট রপ্তানি বৃদ্ধি করতে প্রতিবেশী দেশসমূহে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় অংশ গ্রহণের ব্যবস্থা করা  হয়েছে।

সরকারি দলের সদস্য পিনু খানের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী আরো জানান, বর্তমানে বিশ্বের ৯টি দেশে বাংলাদেশের সিমেন্ট রপ্তানি করা হচ্ছে। এরমধ্যে ভারত, মিয়ানমার, নেপাল, ভূটান, মালয়েশিয়া, বুলগেরিয়া, জার্মানী, সুইজারল্যান্ড ও সিঙ্গাপুরে সিমেন্ট রপ্তানি করা হয়ে থাকে। সিমেন্ট রপ্তানি করেই ২০১৩-১৪ অর্থ বছরে আয় হয়েছে ৫ দশমিক ৪৯ মার্কিন ডলার। তিনি বলেন, বাংলাদেশে উৎপাদিত সিমেন্ট পাশ্ববর্তী দেশগুলোতেই বেশী রপ্তানি করা হয়। ইতোমধ্যে সার্কভুক্ত দেশ হিসেবে সাফটা চুক্তির আওতায় ভারত হতে শুল্কমুক্ত রপ্তানি সুবিধা আদায় করা হয়েছে।

এছাড়া এলডিসি হিসেবে দক্ষিণ কোরিয়া ও চীনে শুল্কমুক্ত সুবিধা দিয়েছে। এছাড়াও জিএসপি স্কিমের আওতায় ইউরোপিয়ান ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোতে শুল্কমুক্ত সুবিধা বিদ্যমান রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি আয় কমেছে। চলতি বছরের প্রথম ৭ মাসে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি আয় কমেছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। সরকারি দলের সদস্য মোরশেদ আলমের প্রশ্নের জবাবে তিনি আরো জানান, রপ্তানি আয় কমের পরিমাণ শূন্য দশমিক ৪৭ শতাংশ যা অতি নগণ্য। বাংলাদেশর রপ্তানি আয়ের ১৯ শতাংশই আসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে। ২০১৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রপ্তানি প্রবিদ্ধি ছিল ৮ দশমিক ৯৪ শতাংশ।

ন্যাপের আমিনা আহমেদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, বাংলাদেশের ওষুধ বিশ্বের ১০৭টি দেশে রপ্তানি হয়। এর মধ্যে জার্মানি, যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, ইতালি, যুক্তরাজ্য, কানাডা, নেদারল্যান্ডস ও ডেনমার্ক উল্লেখযোগ্য।

You Might Also Like