হোম »  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আইনি নোটিশ খালেদা জিয়ার

 প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আইনি নোটিশ খালেদা জিয়ার

এখন সময় ডেস্ক- Wednesday, December 20th, 2017

সৌদি আরবে জিয়া পরিবারের অবৈধ সম্পদ নিয়ে দেয়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রত্যাহার ও নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার জন্য আইনি নোটিশি পাঠিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। রেজিস্ট্রার্ড ডাকযোগে কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে গত মঙ্গলবার ওই নোটিশ পাঠানো হয়।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আজ (বুধবার) সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “খালেদা জিয়ার আইনজীবী মাহবুবউদ্দিন খোকন মঙ্গলবার ডাকযোগে ওই উকিল নোটিস পাঠিয়ে দিয়েছেন। যেখানে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে ওই বক্তব্যের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে ও তা সংবাদ মাধ্যমে প্রচার করতে বলা হয়েছে। ৩০ দিনের মধ্যে তা করা না হলে ক্ষতিপূরণ আদায় করতে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।”

খালেদা জিয়ার আইনজীবী এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন স্বাক্ষরিত আইনি নোটিশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ করে বলা হয়, “আপনি বেগম খালেদা জিয়া এবং তাঁর পুত্রদের সম্পর্কে যে অভিযোগ এনেছেন তা সাজানো, বানোয়াট, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং বিদ্বেষমূলক। বাংলাদেশের নির্দোষ ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তিসম্পন্ন সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা হিসেবে বেগম খালেদা জিয়ার সুনাম বিনষ্ট করার হীনউদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে আপনি এসব অভিযোগ এনেছেন। আপনার এই মিথ্যা, উদ্দেশ্য-প্রণোদিত এবং বিদ্বেষপূর্ণ বিবৃতি বাংলাদেশের মানুষ ও বিশ্বজনের কাছে তাঁর ভাবমূর্তিকে খাটো করার অভিসন্ধিতে তৈরি। বেগম খালেদা জিয়া এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে আপনার এই মিথ্যা অভিযোগ তাঁর প্রতি অবমাননা ও ঘৃণার সৃষ্টি এবং তাঁকে হাস্যকর করার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে।”

নোটিশে আরও বলা হয়, “অত্র আইনি নোটিশের মাধ্যমে, আমরা আপনাকে বেগম খালেদা জিয়ার নিকট নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনার আহ্বান জানাচ্ছি এবং উক্ত ক্ষমা অত্র আইনি নোটিশ প্রাপ্তির ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে সকল জাতীয় দৈনিকের প্রথম পৃষ্ঠায়, ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া, অনলাইন সংবাদপত্র এবং সামাজিক মাধ্যমে আউটলেটে যথাযথভাবে প্রকাশ ও প্রচার করার আহ্বান জানাচ্ছি, অন্যথায় আপনার বিদ্বেষপূর্ণ, মানহানিকর এবং কপট ও কুটিল বিবৃতির কারণে আপনার বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণ (Damages) আদায়ের নিমিত্তে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আমাদের উপর নির্দেশ রয়েছে।”

সম্প্রতি দেশের কয়েকটি সংবাদ মাধ্যমে বিদেশি একটি প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে একটি খবর প্রকাশিত হয়। সেখানে বলা হয়, বাংলাদেশে দুর্নীতি মামলায় বিচারের মুখে থাকা সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ও তার পরিবারের সদস্যদের বিপুল পরিমাণ সম্পদ রয়েছে সৌদি আরবে।

গত ৭ ডিসেম্বর গণভবনে কম্বোডিয়া সফরের ওপর সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কয়েকটি আন্তর্বাতিক গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে জানান, সৌদি আরবে জিয়া পরিবারের বিপুল সম্পদ রয়েছে। তবে এ নিয়ে দেশের বেশিরভাগ সংবাদ মাধ্যম খবর প্রকাশ না করায় তা নিয়ে অসন্তোষও প্রকাশ করেন তিনি। সাংবাদিকরা বিনা পয়সায় শপিংয়ের সুযোগ পেয়ে এই খবর চেপে গেছেন কি না তাও জানতে চান প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী অনেকটা ক্ষুব্ধ কণ্ঠে বলেন, “সৌদি আরবে যে বিশাল শপিং মল পাওয়া গেল; এটা তো আমরা বলিনি। এই খবর দেওয়ার কোনো আগ্রহ দেখলাম না। সম্পাদকরা বিনা পয়সায় শপিং করার কার্ড পেয়েছেন কি না, সেই কারণে খবরটি চেপে গেছেন কি না- এমন প্রশ্নও তিনি সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের সামনে তোলেন।

পরদিন এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন, “এই মানহানিকর তথ্য প্রচারের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন। অন্যথায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে আমরা বাধ্য হব।”

তিনি বলেন, “সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক সংবাদ সম্মেলনে সৌদিতে খালেদা জিয়ার সম্পদ রয়েছে বলে যে অভিযোগ তুলেছেন, আমরা সারা পৃ‌থিবী‌তে খোঁজ নি‌য়ে‌ছি কোথায় এ ধর‌নের তথ্য নেই। প্রধানমন্ত্রী খা‌লেদা জিয়া সম্পর্কে অপপ্রচার ও মিথ্যা তথ্য দি‌য়ে‌ছেন। এ ধর‌নের সংবাদ ও ত‌থ্যের কোনও ভি‌ত্তি নেই। মোটকথা জনগণ‌কে বিভ্রান্ত কর‌তে তারা মিথ্যা সংবাদ প্রচার কর‌ছে। আর এটা শুধু আমা‌দের নয়, সবার কথা।”