প্রকাশ পাচ্ছে সাহেদের নানা চাঞ্চল্যকর তথ্য

সাহেদ

বাংলাদেশের বিতর্কিত রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাহেদকে ধরতে এরই মধ্যে র‌্যাবের একাধিক টিম মাঠে নেমেছে। আইনশৃংখলা বাহিনীর অন্যান্য সংস্থাও তাকে ধরতে কাজ করছে। এর আগে চুক্তি ভঙ্গ করে করোনা রোগীদের থেকে অতিরিক্ত বিল আদায়, টেস্ট না করে ভুয়া সনদ দেওয়াসহ নানা অভিযোগ উঠে রিজেন্ট হাসপাতালের বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগে হাসপাতালটির প্রধান কার্যালয়, উত্তরা ও মিরপুর শাখা সিলগালা করে দিয়েছে র‌্যাব।

পরে প্রতারণার অভিযোগে রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান সাহেদকে এক নম্বর আসামি করে ১৭ জনের নামে মামলা করা হয়। সাহেদসহ এখনও নয়জন পলাতক রয়েছে।তবে তারা কোথায় অবস্থান করছে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ঢাকায় একটি অসমর্থিত সূত্র জানিয়েছে, প্রতারক সাহেদ দ্রুত মোবাইল ফোন ও স্থান পরিবর্তনের কারণে তাকে ধরা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে যাদের সহযোগীতায় সাহেদ এমন অপকর্ম চালিয়ে যেতেন, তাদেরই আশ্রয়ে রয়েছেন।

তবে সূত্রটি বলছে, গত ৮ জুলাই সংসদে রিজেন্ট হাসপাতালের অনিয়ম নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভূমিকায় নড়েচড়ে বসেছে খোদ সরকার দলীয় শেল্টারদাতারা।আর এই শেল্টারদাতাদের মধ্যে-এমপি,প্রতিমন্ত্রী এমনকি মন্ত্রীরাও রয়েছেন। তবে বর্তমানে কেউই সাহেদের অপকর্মের সাথে নিজেদের জড়াতে চাচ্ছে না।

কারণে হিসেবে জানা গেছে, গত ৮ জুলাই বুধবার বিএনপির সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদের অনির্ধারিত এক আলোচনায় অংশ নিয়ে খোদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগীর পরীক্ষা রিপোর্ট নিয়ে রিজেন্ট হাসপাতালের সকল অনিয়ম তদন্তের মাধ্যমে প্রকাশ করা হবে।পাশাপাশি সকল অনিয়ম খুঁজে বের করার ঘোষণা দেন তিনি।

এদিকে রিজেন্ট হাসপাতালের অনিয়ম ও প্রতারণার ঘটনায় সাহেদের অন্যতম সহযোগী তরিকুল ইসলাম ওরফে তারেক শিবলীকে আটক করা হয়েছে। তার কাছে থেকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্যও পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে।

এভাবেই পেটাত ও নারী দিয়ে হেনস্তা করত শাহেদ

উত্তরার ১২ নম্বর সেক্টরের রিজেন্ট গ্রুপের প্রধান কার্যালয়ে ঢোকার প্রবেশ মুখেই বসানো হয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরা। এখান থেকেই সমস্ত অপকর্ম নিয়ন্ত্রণ করতো রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাহেদ। বাইরে থেকে দেখে বোঝার উপায় এই ভবনটিতে কি কি আছে। ভবনটিতে ছিল সাহেদের নিজস্ব টর্চার সেলও। টাকা চাইতে আসলেই করা হতো নির্যাতন।

এক ভুক্তভোগী গণমাধ্যমকে বলেন, এখানে তার কাছে টাকার জন্য গিয়ে ছিলাম। টাকা চাওয়া মাত্রই তার লোকজন আমার দুই হাত ধরে থেকে ওই রুমটি দরজা বন্ধ করে দিল। এরপরই তিনি আমাকে মারধর করতে থাকেন।

এমনকি পাওনাদারকে নারী দিয়ে হেনস্তা করাও ছিলো সাহেদের অন্যতম কাজ। ভুক্তভোগীরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে গিয়ে অভিযোগ করতে পারতো না শাহেদের বিরুদ্ধে।

গণমাধ্যমে আরও একজন বলেন, হাওয়া ভবনের সঙ্গে তার ভালো যোগাযোগ ছিল। এবং গুলশান যুবদলের সভাপতির তার কাছের লোক ছিল। এসব কারণে তার বিরুদ্ধে কেউ নালিশ করতে পারতো না। উত্তরার ১২ নম্বর সেক্টরের রিজেন্ট গ্রুপের প্রধান কার্যালয়ে ঢোকার প্রবেশ মুখেই বসানো হয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরা। এখান থেকেই সমস্ত অপকর্ম নিয়ন্ত্রণ করতো রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহেদ।

বাইরে থেকে দেখে বোঝার উপায় এই ভবনটিতেই কি কি আছে। ভবনটিতে ছিল সাহেদের নিজস্ব টর্চার সেলও।

র‌্যাব বলছে, প্রতারণার মাধ্যমে টাকা আয়ই ছিলো সাহেদের কাজ। র‌্যাব জানায়, কেঁচো খুড়তে গিয়ে আমরা অ্যানাকোন্ডা পেয়েছি। এতদিন প্রতারণার মাধ্যমে বিপুল টাকার অর্জন করেই তিনি অবস্থানে এসেছেন। যখনই কারো সঙ্গে পরিচয় হয়েছে, তখন তিনি নিজেকে আর্মির মেজর, কখনো কর্নেল পরিচয় দিয়েছেন। এবং বিভিন্ন আইডি কার্ড তৈরি করে ভিন্ন ভিন্ন নিজের নাম দিয়ে প্রতারণা করেছে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর অফিসের পরিচয় দিয়েও প্রতারণার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এই প্রতারণা করে নানা জায়গা থেকে টাকা ধার নিয়ে আর কোটি টাকা মালিক হয়েছে।

পলাতক সাহেদকে খুঁজতে অভিযান চলছে বলেও জানায় এই র‌্যাব সদস্য। এদিকে, রিজেন্টের ব্যবস্থাপকসহ গ্রেফতার ৭ আসামির ৫ দিন করে রিমাণ্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

র‌্যাব জানায়, কেঁচো খুড়তে গিয়ে আমরা অ্যানাকোন্ডা পেয়েছি। এতদিন প্রতারণার মাধ্যমে বিপুল টাকার অর্জন করেই তিনি অবস্থানে এসেছেন। যখনই কারো সঙ্গে পরিচয় হয়েছে, তখন তিনি নিজেকে আর্মির মেজর, কখনো কর্নেল পরিচয় দিয়েছেন। এবং বিভিন্ন আইডি কার্ড তৈরি করে ভিন্ন ভিন্ন নিজের নাম দিয়ে প্রতারণা করেছে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর অফিসের পরিচয় দিয়েও প্রতারণার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এই প্রতারণা করে নানা জায়গা থেকে টাকা ধার নিয়ে আর কোটি টাকা মালিক হয়েছে।

পলাতক সাহেদকে খুঁজতে অভিযান চলছে বলেও জানায় এই র্যাব সদস্য। এদিকে, রিজেন্টের ব্যবস্থাপকসহ গ্রেফতার ৭ আসামির ৫ দিন করে রিমাণ্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

সাহেদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মো. সাহেদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে ইমিগ্রেশন পুলিশকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।বৃহস্পতিবার পুলিশ সদরদপ্তরের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, সাহেদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে ইমিগ্রেশন পুলিশে চিঠি দেওয়া হয়েছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সংশ্লিষ্ট বিভাগ এ চিঠি পাঠিয়েছে। এবার যথাযথ পদক্ষেপ নেবে ইমিগ্রেশন পুলিশ।

সংশ্লিষ্টরা জানান, রিজেন্ট হাসপাতালে করোনা চিকিৎসার নামে প্রতারণার অভিযোগে দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি সাহেদ। এ অবস্থায় তার দেশত্যাগের আশঙ্কা থেকে যায়। তাই তাকে দেশত্যাগ করতে না দিতে ইমিগ্রেশন পুলিশকে অবগত করা হয়েছে।

 

সাহেদের ব্যাংক হিসাব জব্দ

রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মো. সাহেদসহ সংশ্লিষ্টদের ব্যাংক হিসাব জব্দ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আগামী ৩০ দিনের জন্য ব্যাংকগুলোকে এ নির্দেশনা পরিপালন করতে বলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ জুন) বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) থেকে সব ব্যাংকে চিঠি দিয়ে এ নির্দেশনা দেয়া হয়।

বিএফআইইউর চিঠিতে বলা হয়, বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা যাচ্ছে। রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. সাহেদ বা সাহেদ করিম এবং তার স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে আপনাদের ব্যাংকে পরিচালিত সব হিসাবের লেনদেন মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের ক্ষমতা বলে ৩০ দিনের জন্য জব্দ করার নির্দেশ দেয়া হলো। একই সাথে তার হিসাব খোলার ফরম, লেনদেন বিবরণীসহ যাবতীয় তথ্য বিএফআইইউতে পাঠাতে বলা হয়েছে।

ব্যাংক থেকে সাহেদ বা তার স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের হিসাবে অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য পেলে তা আইন শৃংখলা বাহিনীকে দেবে বিএফআইইউ।

প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগে রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মো. সাহেদসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় আটজনকে আটক করলেও সাহেদসহ নয়জন এখনও ধরাছোয়ার বাইরে। এরই মধ্যে রিজেন্ট হাসপাতালের দুইটি শাখা বন্ধ করে দিয়েছে র‌্যাব।

রিজেন্টের সাহেদের প্রধান সহযোগী গ্রেপ্তার

সম্প্রতি নমুনা পরীক্ষা ছাড়াই করোনার জাল সনদ প্রদানসহ বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগ উঠা রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মো. সাহেদের প্রধান সহযোগী তারেক শিবলীকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। বুধবার রাতে রাজধানীর নাখালপাড়া এলাকা থেকে জনসংযোগ কর্মকর্তা তারেক শিবলীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

র‌্যাবের গোয়ান্দা ইউনিটের প্রধান সারওয়ার বিন কাশেম জানান, রিজেন্ট হাসপাতালের অনিয়ম ও প্রতারণার ঘটনায় সাহেদের অন্যতম সহযোগী তরিকুল ইসলাম ওরফে তারেক শিবলীকে আটক করা হয়েছে। তার কাছে থেকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্যও পাওয়া গেছে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি সাহেদ যেন বিদেশে যেতে না পারেন সে জন্য ইমিগ্রেশন পুলিশকে চিঠিও দেওয়া হয়েছে।

র‌্যাব জানিয়েছে, রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান পলাতক মো. সাহেদকে ধরতে এরই মধ্যে র‌্যাবের একাধিক টিম মাঠে নেমেছে। আইনশৃংখলা বাহিনীর অন্যান্য সংস্থাও তাকে ধরতে কাজ করছে। এর আগে চুক্তি ভঙ্গ করে করোনা রোগীদের থেকে অতিরিক্ত বিল আদায়, টেস্ট না করে ভুয়া সনদ দেওয়াসহ নানা অভিযোগ উঠে রিজেন্ট হাসপাতালের বিরুদ্ধে।

নানা অনিয়ম, প্রতারণা, সরকারের সঙ্গে চুক্তি ভঙ্গ ও করোনা পরীক্ষার ভুয়া রিপোর্ট দেয়ার অভিযোগ উঠে রিজেন্ট হাসপাতালের বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগে হাসপাতালটির প্রধান কার্যালয়, উত্তরা ও মিরপুর শাখা সিলগালা করে দিয়েছে র‌্যাব।

পরে প্রতারণার অভিযোগে রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান সাহেদকে এক নম্বর আসামি করে ১৭ জনের নামে মামলা করা হয়। সাহেদসহ এখনও নয়জন পলাতক রয়েছে।

রিজেন্ট হাসপাতালের দুর্নীতি তদন্তে দুদক

বিতর্কিত রিজেন্ট হাসপাতালের দুর্নীতি তদন্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সচিব মুহাম্মদ দিলোয়ার বখত। বৃহস্পতিবার দুদকের প্রধান কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন। তিনি বলেন, রিজেন্ট হাসপাতালের অনিয়মের বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। আমরা এ বিষয়ে তদন্ত করব।

বৃহস্পতিবার সকালে মেডিটেক ইমেজিং লিমিটেডের পরিচালক মো. হুমায়ুন কবিরকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন সচিব। এদিন লেক্সিকোন মার্চেন্ডাইজ ও টেকনোক্র্যাট লিমিটেডের মালিক মো. মোতাজ্জেরুল ইসলাম মিঠুকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করে দুদক। তিনি উপস্থিত না হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আছে জানিয়ে একটি চিঠি পাঠান দুদকে।

দুদক পরিচালক মীর মো. জয়নুল আবেদীন শিবলীর নেতৃত্বে একটি দল জিজ্ঞাসাবাদ করছেন। দলেল অন্যান্য সদস্যরা হলেন দুদকের উপ-পরিচালক নুরুল হুদা, সহকারী পরিচালক মো. সাইদুজ্জামান ও আতাউর রহমান।

 

 

You Might Also Like