পৌর নির্বাচন: ভোটার তালিকা ও কেন্দ্র প্রস্তুত রাখার নির্দেশনা

ডিসেম্বরে পৌরসভা নির্বাচন সামনে রেখে এ মাসের মধ্যেই ভোটার তালিকা এবং সম্ভাব্য ভোটকেন্দ্রগুলো প্রস্তুত করার নির্দেশনা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
নির্বাচন কমিশন সচিব মো. সিরাজুল ইসলাম সোমবার তার কার্যালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা প্রস্তুত রয়েছি। নির্বাচন বিধিমালা ও আচরণবিধির সংশোধনী শিগগিরই ভেটিং হয়ে আসবে। সেটি গেজেটে আকারে জারির পর ভোটের দিনক্ষণ নিয়ে কমিশন সভায় আলোচনা হবে।”
ডিসেম্বরের মধ্যে ভোট আয়োজনে যত দ্রুত সম্ভব সংশোধিত বিধিমালা জারির প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান তিনি।
আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং শেষে বৃহস্পতিবারের মধ্যে পৌর নির্বাচনের আচরণ বিধিমালা জারির আশা করছে নির্বাচন কমিশন।
নির্বাচন বিধিমালা ও আচরণ বিধিমালার খসড়ার পাশাপাশি তুলনামূলক বিবরণীও মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছিল ইসি, রোববার থেকে যেটির পর্যালোচনা শুরু করেছে আইন মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ।
ডিসেম্বরের মধ্যে পৌরসভা নির্বাচন করতে চলতি মাসের মাঝামাঝি সময়ে তফসিল ঘোষণায় আগ্রহী কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন।
ইসি কর্মকর্তারা জানান, তফসিল ঘোষণার আগে মনোনয়নপত্র ছাপানো, ভোটার তালিকার সিডি ও সম্ভাব্য ভোটকেন্দ্রের তালিকা প্রস্তুত রাখতে হবে।
নির্বাচন উপযোগী ২৪২টি পৌরসভার ভোটার তালিকা প্রস্তুতে সোমবার জেলা, উপজেলা, আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ও এনআইডি মহাপরিচালকে চিঠি দিয়েছেন কমিশনের সহকারী সচিব রাজীব আহসান। চিঠিতে পৌরসভাগুলোর তালিকাও যুক্ত করা হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, “জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগ আগামী ১৩ নভেম্বর ২০১৫ তারিখের মধ্যে সংযুক্ত তালিকায় বর্ণিত পৌরসভাসমূহের ছবিসহ ও ছবিছাড়া ভোটার তালিকার সিডি প্রস্তুতপূর্বক মাঠ পর্যায়ে সরবরাহ করবে।”
১৫ নভেম্বরের মধ্যে মাঠ কর্মকর্তারা এসব তালিকা পরীক্ষা করে কোনো ত্রুটি পেলে জাতীয় পরিচয় নিববন্ধন অনুবিভাগের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে সংশোধনের পর চূড়ান্ত সিডি সংগ্রহ করবেন।
২০১৮ সালের জানুয়ারিতে যারা ভোটার তালিকাভুক্ত হতে নিবন্ধিত হয়েছেন, তারা এবার পৌর নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন না।
এদিকে নির্বাচন উপযোগী পৌরসভাগুলোয় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে ভোটকেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত করতে মঙ্গলবার নির্বাচন থেকে চিঠি গেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে।
ইসির সহকারী সচিব রৌশন আরা বেগম স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, “আগামী ডিসেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত সারাদেশে ২৪৫টি পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। উক্ত নির্বাচন উপলক্ষে অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হবে।”
এসব ভোটকেন্দ্রের প্রয়োজনীয় ছোটখাটো মেরামত দ্রুত শেষ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে চিঠিতে।
আর নির্বাচন আচরণ বিধিমালা জারির পর ভোটকেন্দ্রের চূড়ান্ত তালিকা তৈরি করতে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের চিঠি দেওয়া হবে বলে নিশ্চিত করেছেন নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা।
ভোটের অন্তত ২৫ দিন আগে ভোটকেন্দ্র চূড়ান্ত করে গেজেট প্রকাশের বিধান রয়েছে বলে তারা জানিয়েছেন।

You Might Also Like