পুলিশ পরিচয়ে ডাকাতি, আটক ৮

সিনেমা দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে নিজেরা পুলিশ পরিচয়ে ডাকাতি করে- এমন একটি চক্রের আট সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছেন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) সদস্যরা।

মঙ্গলবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে পিবিআই সদর দপ্তরে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পিবিআই প্রধান ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল (ডিআইজি) বনজ কুমার মজুমদার।

তিনি জানান, সোমবার (১৯ নভেম্বর) রাতে রাজধানীর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে ভিক্টোরিয়া পার্কের ওখান থেকে আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এদের মধ্যে পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সদস্য পরিচয় দিয়ে ডাকাতি করা চক্রের প্রধান রানাও রয়েছেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রানা পুলিশকে জানিয়েছেন, হিন্দি সিনেমা ‘বস’ দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে সংঘবদ্ধ এ চক্রটি গড়ে তোলেন তিনি।

গ্রেপ্তার অন্যরা হলেন ডিবির ইন্সপেক্টর পরিচয়দানকারী জাবেদ আহমেদ ওরফে বাবু (৩৭) ও সোহাগ খন্দকার (৩১), উপ-পরিদর্শক পরিচয়দানকারী নাজমুল হোসেন (২৪) ও দেলোয়ার হোসেন (৫০), কনস্টেবল পরিচয়দানকারী আসাদুজ্জামান (৩৫), বুলবুল আহমেদ (৩২), হারুন ওরফে হিরা (৩২)। সে সময় সময় তাদের কাছ থেকে চারটি মোটরসাইকেল, তিনটি ওয়্যারলেস সেট, এক জোড়া হ্যান্ডকাফ, খেলনা পিস্তল দুইটি, চাপাতি একটি ও একটি চাকু উদ্ধার করা হয়।

চক্রটি সম্পর্কে বনজ কুমার মজুমদার বলেন, ‌‘গত ২৫ অক্টোবর বিকেলে পল্টন এলাকা থেকে খিলক্ষেত এলাকায় নিজ বাসায় যাওয়ার জন্য এক বন্ধুসহ সুপ্রভাত পরিবহনের গাড়িতে ওঠেন মোস্তাফিজুর রহমান। বাসটি নর্দ্দা যাওয়ার পর কয়েকজন ব্যক্তি বাসটির সামনে ২টি মোটরসাইকেল দিয়ে ব্যারিকেড দিয়ে বাসটি থামানে। এরপর ওই ব্যক্তিরা বাসে ওঠেন। তাদের একজনের কাছে ওয়ারলেস সেট ও দুইজনের পরনে ডিবি লেখা জ্যাকেট ছিল।

তারা মোস্তাফিজুর রহমান ও তার বন্ধুর উদ্দেশে বলেন, ‘আমরা ডিবির লোক, আমাদের কাছে তথ্য আছে তোরা ইয়াবা খাস, তোদের কাছে ইয়াবা আছে।’ এই কথা বলে তারা মোস্তাফিজুর রহমান এবং তার বন্ধুকে জোরপূর্বক বাস থেকে নামিয়ে আনেন।

‘এরপর তাদেরকে চড় থাপ্পড়, কিল-ঘুষি মারেন এবং মোস্তাফিজুর রহমানের পকেটে থাকা নগদ ৪২ হাজার টাকা ও ২টি মোবাইল ফোন সেট এবং তার বন্ধুর কাছে থাকা নগদ ১৫ হাজার টাকা ও ১টি মোবাইল ফোন সেট জোরপূর্বক নিয়ে নেন। মোস্তাফিজুরের বন্ধুর কাছে ইয়াবা আছে বলে বন্ধুকে তল্লাশি করে কিছু না পেয়ে তাকে ছেড়ে দেন। পরে মোস্তাফিজুরের ব্যাগে ইয়াবা ট্যাবলেট আছে বলে তাকে জোর করে মোটরসাইকেলে উঠিয়ে নেন।’

পিবিআই প্রধান আরও বলেন, ‘ভিকটিমকে থানায় নিয়ে মামলা দেওয়ার ভয় দেখিয়ে গুলশান, বাড্ডা, হাতিরঝিল এলাকায় ঘুরতে থাকেন তারা। পরবর্তী সময়ে রাত সাড়ে তিনটার দিকে তাকে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানাধীন বিএসটিআই মোড়ে এনে বলেন, ‘তোকে আজকের মতো ছেড়ে দিলাম। তুই আর ইয়াবা খাবি না।’ এ সময় তারা ভিকটিমের কাছ থেকে তার ব্যাগটি টানাটানি করে নিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। ব্যাগে ১৩ লাখ টাকা ছিল।’

বনজ কুমার মজুমদার বলেন, ‘একপর্যায়ে ভিকটিম বুঝতে পারেন তারা পুলিশ না। তখন তিনি ডাকাত ডাকাত বলে চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন ছুটে আসে। এরপর আসামিরা ভিকটিমের ব্যাগটি ছেড়ে দিয়ে মোটরসাইকেল যোগে দ্রুত পালিয়ে যান।’

পরে ভিকটিম মোস্তাফিজুর রহমান বাদী হয়ে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় মামলা (মামলা নম্বর ৩১) দায়ের করেন। মামলাটি পিবিআই তদন্ত শুরু করলে একপর্যায়ে আসল তথ্য বেরিয়ে আসে।

পিবিআই প্রধান বলেন, ‘পুরান ঢাকার ব্যবসায়ী-প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শ্রমিকরা এই চক্রের সোর্স। তারা তথ্য দিতেন- কোন ব্যবসায়ী কত টাকা নিয়ে ফেরত যাচ্ছেন। তথ্য অনুযায়ী ভিক্টোরিয়া পার্কের সামনে থেকে অনুসরণ করা হতো। এরপর অন্য এলাকায় যাওয়ার পর কখনও মোটরসাইকেল বা কখনও মাইক্রোবাসে ডিবি পরিচয়ে তুলে নিয়ে সবকিছু কেড়ে নিতেন তারা। তারা ডাকাতি থেকে প্রাপ্ত অর্থের ৪০ ভাগ সোর্সদের দিতেন।’

এ চক্রের আরও দুইজন সদস্য পলাতক রয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এমন আরও দুইটি চক্রের বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের বিষয়ে তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। আশা করি শিগগিরই তাদেরকে আইনের আওতায় নিয়ে আসা সম্ভব হবে।’

You Might Also Like